ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

অবৈধ আকামাধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে কুয়েত সরকার


অবৈধ আকামাধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে কুয়েত সরকার

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনের দারোয়ান বা হারিস নিয়োগের বিষয়ে সম্পত্তির মালিকদের সতর্ক করেছে, বৈধ আকামা ও কাজের অনুমতি যাচাই না করার জন্য।

নির্মাণাধীন ভবন, শ্যালেট, পশু পালনের খামার বা জাখুর এবং কৃষি খামারের মালিকদের উদ্দেশ্যে এই সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ আবাসন ও কাজের আইনগত অবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

আরব টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে যে, দারোয়ান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির বৈধ আকামা থাকতে হবে এবং তার নিয়োগকর্তা হতে হবে সম্পত্তির মালিক অথবা নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি। এছাড়াও, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পলাতক হওয়ার অভিযোগ, আদালতের রায় কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফিনল্যান্ডে সিঙ্গেলদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কাউকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের আইনি জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রবাসী গৃহকর্মী ভিসা নিয়ে কাজ করেন, যা সাধারণভাবে খাদেম বা ডোমেস্টিক ওয়ার্কার ভিসা হিসেবে পরিচিত। প্রবাসীদের মধ্যে এই ব্যবস্থাকে অনেক সময় ‘ফ্রি ভিসা’ বলা হলেও এটি কোনো স্বতন্ত্র বৈধ ভিসার শ্রেণি নয়।

অনেক ক্ষেত্রে ভিসা বা আকামার স্পন্সর এক ব্যক্তি হলেও কর্মী কাজ করেন অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে। কুয়েতের প্রচলিত আবাসন ও শ্রমবিধি অনুযায়ী, অনুমোদিত ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করা আইনগত ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে গৃহকর্মীর ভিসায় এসে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ভিসা ও কাজের অনুমোদন আইনসম্মত কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

অন্যদিকে, অনেক ভবন, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এমন ব্যক্তিদের দারোয়ান হিসেবে দেখা যায়, যাদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা যাদের কাজের বৈধ অনুমতি নেই। নতুন করে দেওয়া সতর্কবার্তার পর এ ধরনের ব্যক্তিদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় সব ধরনের দারোয়ান নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন কথা বলা হয়নি। বরং বৈধ আকামা, যথাযথ নিয়োগকর্তা এবং আইনসম্মত কাজের অবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈধ আকামা থাকা মানেই যেকোনো স্থানে কাজ করার অনুমতি রয়েছে, এমনটিও নয়। প্রবাসী কর্মীদের জন্য এ সতর্কবার্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ভিসার ধরন, আকামার বৈধতা এবং প্রকৃত নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের সম্পর্ক যাচাই না করে অন্যত্র কাজ শুরু করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে ভবন বা সম্পত্তির মালিকদেরও দারোয়ান নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত। কুয়েতে আবাসন ও শ্রম আইন মেনে চলা এবং অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে কর্তৃপক্ষের এ সতর্কতা প্রবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী শিবিরে সেনা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিজভী: শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


রিজভী: শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে

শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উসকানি দিচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। তবে যদি কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে তা মেনে নেয়া হবে না। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

জামায়াতের আমিরের বিপ্লবের অপেক্ষায় থাকার বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘মাত্র আট মাসে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এমন চেষ্টা চলছে। সংসদে আলোচনা না করে যারা লংমার্চ করছেন, জনগণ তাদের সম্পর্কে এমন ভাবনা পোষণ করবে না যে, তারা এ বিষয়ে ইন্ধন দিচ্ছেন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না। তবুও জেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, এমএ মালিক এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন সুপ্রিম কোর্টে বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন সুপ্রিম কোর্টে বহাল

সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন, বিমানবন্দরে হট্টগোলের ঘটনায় করা মামলায়, সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত কর্তৃক হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের জামিন স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ প্রদান করেন।

মুহাম্মদ শিশির মনির, আখতারুজ্জামানের আইনজীবী, সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেছেন। এর আগে, বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ জামিন আদেশ দেন।

গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-৩৩৮ ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয়, যার ফলে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। অভিযোগ করা হয়, এ সময় আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে গিয়ে গালাগাল করেন এবং ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ ও ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সাথে, তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এছাড়া, যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিমানবন্দর থানায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব এই ঘটনার জন্য মামলা দায়ের করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় প্রেস ক্লাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতির সংকট নিয়ে নাগরিক সংলাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


জাতীয় প্রেস ক্লাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতির সংকট নিয়ে নাগরিক সংলাপ

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমাগত বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আশ্রয় নেওয়া প্রান্তিক জনগণের বহুমুখী সংকট নিরসন ও তাদের জীবন সংগ্রামের বাস্তবতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবং তাদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ৮ দফা দাবিতে আজ ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে একটি নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

‘জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর দরিদ্র মানুষের সংকট’ শীর্ষক এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এবং চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডব্লিউএফ)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন। সভাপতিত্ব করেন বারসিক-এর পরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। সিডব্লিউএফ-এর চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী সংলাপে ধারণাপত্র পাঠ করেন।

সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সামাজিক কারণে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই জনগণের জন্য মানসম্মত বসবাসের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

এ সময় তিনি বস্তি এলাকায় উচ্চ ভবন নির্মাণের মাধ্যমে স্বল্প জমিতে বেশি মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ ধীরে ধীরে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।

সংলাপে ঢাকা, রাজশাহী ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া প্রান্তিক জলবায়ু-উদ্বাস্তু পরিবারের প্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতারা তাদের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেন।

গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, ২০০২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় (সিডর, আইলা, আম্পান, রেমল), তীব্র লবণাক্ততা, নদীভাঙন এবং উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে প্রায় ৭০ শতাংশ বস্তিবাসী গ্রাম থেকে শহরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন, বরিশাল, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কয়রা থেকে বাস্তুচ্যুত এসব মানুষ নগরে এসে জরাজীর্ণ ঘর, অনিরাপদ পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, চরম তাপপ্রবাহ এবং বর্ষাকালে দূষিত পানি থেকে চর্মরোগ ও ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বক্তারা জানান, গ্রাম ছাড়ার পর এই মানুষরা কেবল বাসস্থানই হারাননি, বরং হারিয়েছেন তাদের বহু বছরের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। শহরে এসে তারা জরাজীর্ণ ঘর, অনিরাপদ পানি, অপরিশোধিত স্যানিটেশন, তীব্র তাপ প্রবাহে হিটস্ট্রোক, বর্ষায় ড্রেনের বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে চর্মরোগ ও ডেঙ্গুর মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন। পাশাপাশি, দিনমজুর ও রিকশাচালকদের অনিয়মিত আয়, অপরাধের ভয়াবহতা এবং সমাজ ও নাগরিক পরিবেশের তুচ্ছতাচ্ছিল্য তাদের আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বস্তিবাসীর পক্ষ থেকে সভার প্রধান অতিথির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কাছে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও ক্ষতিপূরণ দাবির জন্য ১৩ দফা সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

স্মারকলিপির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জলবায়ু আক্রান্ত মানুষের জন্য অভিযোজন তহবিল নিশ্চিত করা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানো, পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা ও শস্যবীমার জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো, উন্নত অভিযোজন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদান, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড সহজলভ্য করা এবং জলবায়ু তহবিলের শর্ত শিথিল করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া ধারণাপত্রে নগর দরিদ্রদের জন্য ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনা, নগর স্থানীয় সরকারের অধীনে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, নিজস্ব এলাকা বা নিকটবর্তী শহরে আবাসন ও পুনর্বাসন, বস্তির ঘর ও অবকাঠামোর মানোন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষাসুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা, আগাম আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উচ্ছেদহীন স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ থেকে সরাসরি বস্তিবাসীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বস্তিবাসী সুরক্ষা কমিটির সভাপতি হোসনে আরা বেগম রাফেজা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দেলনের (বাপা) ট্রেজারার আমিনুল রসুল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার লেলিন চৌধুরী, কাপ’র নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের কনভেনর মিহির বিশ্বাস এবং নাগরিক সংলাপের সভাপতি ও বারসিক পরিচালক মো. কামরুজ্জামান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেটলাইফের গবেষণা: ৫৫ শতাংশ কর্মী প্রতিদিন এআই ব্যবহার করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


মেটলাইফের গবেষণা: ৫৫ শতাংশ কর্মী প্রতিদিন এআই ব্যবহার করছে

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের ৫৫ শতাংশ কর্মী প্রতিদিনের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে ৯১ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে, এ প্রযুক্তি কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে, নিয়োগদাতারা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন।

মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিটস ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে রোববার এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার এবং হেড অব কমিউনিকেশনস সাইফুর রহমান।

গবেষণায় দেখা গেছে, এআই কাজের চাপ কমাতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, মানসিক ক্লান্তি কমাতে এবং আরও অর্থবহ কাজে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। তবে, মাত্র ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৩৭ শতাংশ মনে করেন, কর্মীরা সহজেই এআই গ্রহণ করছেন।

গবেষণায় ২০২৫ সালে ৫৬ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে, আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে কাজের উৎপাদনশীলতা কমে যায়। ২০২৬ সালে এ হার বেড়ে ৭২ শতাংশ হয়েছে। ৬৯ শতাংশ কর্মী মনে করেন যে, নিয়োগদাতাদের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে, যা ৮১ শতাংশে পৌঁছেছে। অবসরজীবনের জন্য সঞ্চয়ে সহায়তা করাও নিয়োগদাতাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন ৮৬ শতাংশ কর্মী, যেখানে ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৭ শতাংশ।

বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট বা খরচের সময় নিয়োগদাতার সহায়তা প্রত্যাশা করেন ৭২ শতাংশ কর্মী। অন্যদিকে, চাকরি নিয়ে কর্মীদের সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ২০২৫ সালের ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮৩ শতাংশ হয়েছে।

কর্মী ও তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় বীমাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার চাহিদাও বাড়ছে। ২০২৬ সালের গবেষণায় ৭৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, বীমা ও সুস্থতাসংক্রান্ত সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বাড়বে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ।

অবসরজীবনের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে যাঁদের অবসরজীবনের কোনো পরিকল্পনা নেই, তাঁদের হার ২০২৫ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮১ শতাংশ হয়েছে। এ বিষয়ে সঞ্চয় ও সঞ্চিত অর্থ থেকে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের সহায়তা চান কর্মীরা।

নিজেদের প্রয়োজন ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে মানানসই সুযোগ-সুবিধা পেতে আগ্রহী কর্মীর হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৮৬ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ৮৫ শতাংশ নিয়োগদাতা। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ। গত এক বছরে প্রায় অর্ধেক নিয়োগদাতা কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।

মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র শুধুমাত্র নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়। কাজের জগৎ বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেন তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়বারের মতো পরিচালিত আমাদের এ গবেষণায় বাংলাদেশের নিয়োগদাতা ও কর্মী, উভয়ের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের পরিবর্তিত চাহিদা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, আর্থিক নিরাপত্তা, সুস্থতা ও প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাকে একসঙ্গে নিয়ে কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি সম্পৃক্ত, সংকট মোকাবিলায় সক্ষম এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করা সম্ভব।

গবেষণায় বিভিন্ন খাতের মোট ৭০৯ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং ১২৬ জন নিয়োগদাতা। তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য, টেলিযোগাযোগ, রিটেইল, ম্যানুফ্যাকচারিং, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%