০৫:৪৯ পি.এম
নতুন মজুরি বোর্ড পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত বেতন কাঠামোকে শিল্প মালিকরা মেনে নেবেন। তবে, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ জানিয়েছে যে, কোনো অস্থিতিশীলতা গ্রহণযোগ্য হবে না।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কয়েক দিন ধরে মজুরি বাড়ানোর দাবি নিয়ে আন্দোলন চলছে। রাজধানী এবং এর আশপাশের কিছু এলাকায় পোশাকশ্রমিকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে গত রোববার (১ নভেম্বর) সরকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে প্রধান করে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ডে সরকার, মালিক এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
শ্রমিক নেতারা আশা করছেন, শিল্পের সক্ষমতা এবং জীবনযাপনের বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা করে শ্রমিকদের সংগঠিত দাবি ও সহনশীলতার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হবে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় নিহত ৪০ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক
ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন, ‘মজুরির প্রথম ধাপ বোর্ড গঠন। এরপর মজুরি কত হবে সেটা নিয়ে প্রস্তাবনা যাবে, সেটা বিশ্লেষণ হবে এবং শ্রমিকদের জীবন-মান উন্নয়নের জন্য কত মজুরি প্রয়োজন এবং মালিকদের সক্ষমতা নিয়ে আমাদের আইনে বলা রয়েছে। আশা করি সেভাবেই কাজ করবে বোর্ড।’
অন্যদিকে, শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, আলোচনা শেষে নতুন মজুরি বোর্ড আগামী দিনের জন্য যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে, তা তারা মেনে নেবেন। তবে, তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নাশকতা এবং উৎপাদন ব্যাঘাত ঘটানোর মতো কোনো ঘটনা তারা গ্রহণ করবেন না।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, ‘মজুরি নিয়ে সরকার যদি কাজ না করতো বা কেউ যদি এটার বিরোধিতা করতো বা মালিক পক্ষ যদি না মানতো, তাহলে আন্দোলনের প্রশ্ন ছিল। এমন কিছুতো ঘটেনি, তাহলে কেন এ ধরনের আন্দোলন করে ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, উৎপাদন ব্যাহত করা হচ্ছে, সেইসঙ্গে দেশের রফতানিকে ব্যাহত করা হচ্ছে, এটা আমার কাছে বোধগম্য নয়।’
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, ‘যেহতেু এটা একটা আন্তর্জাতিক ব্যবসা, এ ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে বহিঃবিশ্বে নেতিবাচক বার্তা যায়। এতে আমাদের ব্যবসা দীর্ঘসময় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে আমাদের সদস্যরা প্রয়োজনে শ্রম আইন মেনে কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন। আমরা সেই জায়গায় যেতে চাই না।’
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৭৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ১২ জন আটক
তিনি আরও বলেন, ‘মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটা মেনে নেবেন। এটা ঠিক যে মালিকদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে আমরা আইন মানতে চাই।’
রফতানি বাজারের প্রতিযোগিতা এবং জীবনযাত্রায় ব্যয় বৃদ্ধির চাপের বিষয়গুলো মাথায় রেখে মজুরি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর মন্তব্য করেছেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিকদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করছে, সেখানে যেন বড় ধরনের কোনো ক্ষতি না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং অর্থনীতি কি অবস্থায় রয়েছে সেটাও মাথায় রাখতে হবে।’
এর আগে ২০২৩ সালে একধাপে ৫৬.২৫ শতাংশ বেড়ে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২,৫০০ টাকা।
আরও পড়ুন: মোবাইলের ভিডিওতেই মিলল সূত্র: ধর্ষণের পর তরুণী হত্যায় রিফাতের ফাঁসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন