ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শ্রীবরদীতে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার পর নারীর হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন


শ্রীবরদীতে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার পর নারীর হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন

শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্লাস্টিকের ড্রামে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের কারণে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রামের আঃ রশিদের ছেলে নূর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঘমারা শিশুয়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে সজল (৪৪), শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা এলাকার আইবালীর ছেলে নূর মোহাম্মদ গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা এলাকার নায়েব আলী ভূঁইয়ার মেয়ে মাহাবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)।

আরও পড়ুন: পুলিশের ওপর হামলা ও ওসিকে হত্যার হুমকির ঘটনায় প্রিন্সসহ ৭ জন কারাগারে

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের পুরাতন গরুহাটি এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

পিবিআই জানায়, গত ২২ অক্টোবর সকালে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া এলাকায় একটি সেতুর নিচে খালে বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখা যায় স্থানীয়দের। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় ড্রামটি খুলে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত নারীর শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতসহ ক্ষতচিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার শাকিল মিয়ার মেয়ে।

ঘটনার পরদিন ২৩ অক্টোবর নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ঝিনুকের স্বামী সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে আ. লীগ ও বিরোধী দল ভাঙচুর-লুটপাট করেছে: মুজিবুর

তদন্তের তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে প্রথমে ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রাম থেকে নূর ইসলাম ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে সজলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ১ নভেম্বর একই এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা এবং মাহাবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝিনুক টঙ্গীর একটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ২১ অক্টোবর দুপুরে সজল ও নূর ইসলাম ওরফে বাবুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পর তিনি ঢাকার উত্তরখানের কবিরশাহ মাজার এলাকায় যান। সেখান থেকে মাহাবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা এবং নূর মোহাম্মদ ওরফে বুশা তাকে দক্ষিণখানের মৌশাইর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই বাসায় আরও কয়েকজনের সঙ্গে ঝিনুককে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। তবে তিনি আরও টাকা দাবি করলে ফাতেমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা ঘরে থাকা বটি দিয়ে ঝিনুককে এলোপাতাড়ি কোপান। অন্যরা তার হাত-পা চেপে ধরেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে দাবি পিবিআইয়ের।

পরে মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীর ওই খালে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: জাপানি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার দাবি ভুয়া: রিউমার স্ক্যানার

সংস্থাটি আরও জানায়, গ্রেফতার নূর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, এটি ছিল একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা। ঘটনার পর থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং চারজনকে গ্রেফতার করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে আধিপত্য নিয়ে গোলাগুলি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


সাজেকে আধিপত্য নিয়ে গোলাগুলি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে

রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার ফলে হতাহতের কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাচালং সংলগ্ন লাঙ্গল মারা এবং দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্টের মনের চূড়া এলাকায় গোলাগুলি সংঘটিত হয়।

সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) পরিচয় চাকমা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্টের মনের চূড়ায় বিকেল পৌনে চারটার দিকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, এই এলাকা দুর্গম এবং আশেপাশে কোনো বসতি নেই।

গোলাগুলির বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাচালং লাঙ্গল মারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলার খবর পাওয়া গেছে। আমি জেনেছি ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য এই ঘটনা ঘটছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। সেখানে যাওয়া কঠিন।’

তিনি আরও জানান, সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবরকে ফর্মে ফেরাতে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর পরামর্শ ইউসুফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


বাবরকে ফর্মে ফেরাতে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর পরামর্শ ইউসুফের

পাকিস্তানের কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফ বাবর আজমের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্ম এবং টেকনিক্যাল দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে বিশেষায়িত কোচিংয়ের জন্য ইংল্যান্ড অথবা অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে, যেখানে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড অংশগ্রহণ করেছিল, বাবরের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। পাঁচ ম্যাচে তার গড় ছিল ২৩.৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৪.২১, যেখানে তিনি মাত্র ১১৮ রান সংগ্রহ করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি কোনো হাফ সেঞ্চুরিও করতে পারেননি। তার ইনিংসগুলো ছিল যথাক্রমে ৪৫, ৩৪, ১০, ২৯ এবং ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রানের।

দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতার অভাব বাবরের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালের বিপক্ষে ১৫১ রানের ইনিংস খেলার পর থেকে তিনি ওয়ানডেতে মাত্র একটি সেঞ্চুরি করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ২০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল, যা দুই বছরেরও বেশি সময়ের সেঞ্চুরির খরা কাটিয়েছিল।

ওই সেঞ্চুরির পর ২০২৬ সালের মে মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি হাফ সেঞ্চুরি করেন বাবর। কিন্তু এরপর থেকে ওয়ানডে ফরম্যাটে আর ৫০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার।

এদিকে, আসন্ন ২০২৬-২৭ কায়েদে আজম ট্রফিতে লাহোর হোয়াইটসের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন বাবর। আগামী ৩ নভেম্বর ইসলামাবাদের ডায়মন্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে তার দল শাহিন আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন ফাটা দলের মুখোমুখি হবে।

এই পরিস্থিতিতে, বাবরের ফর্ম এবং টেকনিক্যাল সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের মতামত জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের সাবেক এই ব্যাটার পরামর্শ দিয়েছেন, টেকনিক্যাল দুর্বলতা কাটাতে বিশেষায়িত কোচিং নেওয়ার আগ পর্যন্ত বাবরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা উচিত নয়। তার মতে, যদি বাবর ঘরোয়া ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হন, তাহলে তা তার আত্মবিশ্বাস এবং ক্যারিয়ারের ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউসুফ বাবরকে ইংল্যান্ড অথবা অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্রিকেট একাডেমিতে পাঠানোর পরামর্শও দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিশ্রমে বাবর আবারও নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে পারবেন।

ইউসুফ এক্সে লিখেছেন, 'আমার মনে হয় না, টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো বিশেষায়িত কোচিংয়ের মাধ্যমে ঠিক না করা পর্যন্ত বাবর আজমের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা উচিত। ঘরোয়া ক্রিকেটে সংগ্রাম করতে থাকলে তার আত্মবিশ্বাস ও ক্যারিয়ার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।'

তিনি আরও বলেন, 'তাকে ইংল্যান্ড অথবা অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্রিকেট একাডেমিতে পাঠানো উচিত। সে এখনো পাকিস্তানের সেরা খেলোয়াড়। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সামান্য পরিশ্রম পেলে সে আবারও নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে পারবে। চার বছর আগেও আমি একই কথা বলেছিলাম, কিন্তু কেউ শোনেনি। অনুগ্রহ করে এবার কথাটি শুনুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুলিয়ার ৫০ কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভে ছুটি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


আশুলিয়ার ৫০ কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভে ছুটি ঘোষণা

সাভার ও আশুলিয়া সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলনের প্রভাবের কারণে, সাভারের শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার কিছু পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আশপাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

এভাবে দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, তারা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ এবং ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তারা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছামতো বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, শ্রমিকদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ অন্যতম। এ দাবির বিষয়ে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবুও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। পরিস্থিতির কারণে অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবিতে সর্বনিম্ন অ্যাকাডেমিক ফলধারী হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন ফিরোজা নাজনীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


ইবিতে সর্বনিম্ন অ্যাকাডেমিক ফলধারী হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন ফিরোজা নাজনীন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে সর্বনিম্ন অ্যাকাডেমিক ফলধারী এক প্রার্থীর। নিয়োগ বোর্ডে অংশগ্রহণকারী ৭ প্রার্থীর মধ্যে সর্বনিম্ন ফলধারী প্রার্থী হচ্ছেন ফিরোজা নাজনীন। তিনি বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

ক্যাম্পাসের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আইসিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ৭ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরে তারা সবাই নিয়োগ বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে ভাইভা থেকে বাদ দিয়ে সর্বনিম্ন ফলধারী প্রার্থী ফিরোজা নাজনীনকে ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এক সিন্ডিকেট সদস্যের আপত্তির প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইবি ভিসি সিদ্ধান্ত নেন। এরপর প্রার্থীর বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ওই প্রার্থীর পূর্ববর্তী অ্যাকাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন। পরে কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে গুঞ্জন উঠেছে যে রোববার (১ নভেম্বর) সিন্ডিকেটে বিতর্কিত ও সর্বনিম্ন ফলধারী ওই প্রার্থী নিয়োগ পেতে চলেছেন।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত নিয়োগের প্রার্থী ফিরোজা নাজনীন ৭ প্রার্থীর মধ্যে সর্বনিম্ন ফলধারী। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফিরোজা নাজনীন ১টি রিটেক ও ৩টি মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর স্নাতকে ৩.৫৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৬৪ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ এবং এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ ছিল। অন্যদিকে, আবু রোম্মান রিফাত ইবির আইসিটি বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.৭৮ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯১ সিজিপিএ অর্জন করেন। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৫ লাভ করেন।

এছাড়া, খন্দকার তাসনিয়া হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকে ৩.৯২ এবং স্নাতকোত্তরে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় তার ফলাফলও জিপিএ ৫। প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম-(১) ইবির আইসিটি বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.৬৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ফলাফল জিপিএ ৫। অন্য প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম-২ একই বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.৯৫ সিজিপিএ পেয়ে অনুষদে প্রথম স্থান অর্জন করেন। স্নাতকোত্তরে তার সিজিপিএ ৩.৮৮। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় তিনিও জিপিএ ৫ পেয়েছেন।

আইসিটি বিভাগের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী শারমীন তাজরিয়া অনন্যা স্নাতকে ৩.৬৪ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষার ফলাফলও জিপিএ ৫। মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি স্নাতকে ৩.৭২ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এসএসসিতে জিপিএ ৪.৬৯ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৫০।

৭ প্রার্থীর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফিরোজা নাজনীন অ্যাকাডেমিক ফলাফলে সবথেকে নিম্নে অবস্থান করছেন। এছাড়া, অন্য প্রার্থীদের থিসিস থাকলেও, ফিরোজা নাজনীন নন থিসিসের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সময়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি ফিরোজা নাজনীন। ওই পরীক্ষায় ১০ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের প্রশাসনের প্রথম নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আইসিটি বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভিন্ন দুটি বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় তার ফলাফলের এই পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে রোববার (১ নভেম্বর) সিন্ডিকেট সভায় প্রায় সাড়ে ৪ মাস থেকে ঝুলন্ত থাকা নিয়োগের ফাইনাল সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবেন।"

এ বিষয়ে জানতে চাইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠনের সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনের বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ সময় বিভাগে টেম্পারিং করে স্ত্রীর ফলাফল বৃদ্ধি, পরপর দুইবার পরীক্ষা কমিটির সভাপতি, নিয়োগ বোর্ডের আগে এক্সপার্টের সঙ্গে আবাসিক হোটেলে প্রার্থীর স্বামীর সাক্ষাৎ ও সাংবাদিক ম্যানেজসহ নানা অভিযোগ উঠে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%