প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে সর্বনিম্ন অ্যাকাডেমিক ফলধারী এক প্রার্থীর। নিয়োগ বোর্ডে অংশগ্রহণকারী ৭ প্রার্থীর মধ্যে সর্বনিম্ন ফলধারী প্রার্থী হচ্ছেন ফিরোজা নাজনীন। তিনি বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
ক্যাম্পাসের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আইসিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ৭ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরে তারা সবাই নিয়োগ বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে ভাইভা থেকে বাদ দিয়ে সর্বনিম্ন ফলধারী প্রার্থী ফিরোজা নাজনীনকে ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এক সিন্ডিকেট সদস্যের আপত্তির প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইবি ভিসি সিদ্ধান্ত নেন। এরপর প্রার্থীর বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ওই প্রার্থীর পূর্ববর্তী অ্যাকাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন। পরে কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে গুঞ্জন উঠেছে যে রোববার (১ নভেম্বর) সিন্ডিকেটে বিতর্কিত ও সর্বনিম্ন ফলধারী ওই প্রার্থী নিয়োগ পেতে চলেছেন।
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত নিয়োগের প্রার্থী ফিরোজা নাজনীন ৭ প্রার্থীর মধ্যে সর্বনিম্ন ফলধারী। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফিরোজা নাজনীন ১টি রিটেক ও ৩টি মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর স্নাতকে ৩.৫৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৬৪ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ এবং এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ ছিল। অন্যদিকে, আবু রোম্মান রিফাত ইবির আইসিটি বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.৭৮ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯১ সিজিপিএ অর্জন করেন। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৫ লাভ করেন।
এছাড়া, খন্দকার তাসনিয়া হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকে ৩.৯২ এবং স্নাতকোত্তরে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় তার ফলাফলও জিপিএ ৫। প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম-(১) ইবির আইসিটি বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.৬৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ফলাফল জিপিএ ৫। অন্য প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম-২ একই বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.৯৫ সিজিপিএ পেয়ে অনুষদে প্রথম স্থান অর্জন করেন। স্নাতকোত্তরে তার সিজিপিএ ৩.৮৮। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় তিনিও জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
আইসিটি বিভাগের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী শারমীন তাজরিয়া অনন্যা স্নাতকে ৩.৬৪ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষার ফলাফলও জিপিএ ৫। মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি স্নাতকে ৩.৭২ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার এসএসসিতে জিপিএ ৪.৬৯ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৫০।
৭ প্রার্থীর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফিরোজা নাজনীন অ্যাকাডেমিক ফলাফলে সবথেকে নিম্নে অবস্থান করছেন। এছাড়া, অন্য প্রার্থীদের থিসিস থাকলেও, ফিরোজা নাজনীন নন থিসিসের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সময়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি ফিরোজা নাজনীন। ওই পরীক্ষায় ১০ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের প্রশাসনের প্রথম নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আইসিটি বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভিন্ন দুটি বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় তার ফলাফলের এই পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে রোববার (১ নভেম্বর) সিন্ডিকেট সভায় প্রায় সাড়ে ৪ মাস থেকে ঝুলন্ত থাকা নিয়োগের ফাইনাল সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবেন।"
এ বিষয়ে জানতে চাইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠনের সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনের বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ সময় বিভাগে টেম্পারিং করে স্ত্রীর ফলাফল বৃদ্ধি, পরপর দুইবার পরীক্ষা কমিটির সভাপতি, নিয়োগ বোর্ডের আগে এক্সপার্টের সঙ্গে আবাসিক হোটেলে প্রার্থীর স্বামীর সাক্ষাৎ ও সাংবাদিক ম্যানেজসহ নানা অভিযোগ উঠে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন