০৮:১০ পি.এম
পুলিশের ওপর হামলা (অ্যাসল্ট) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হত্যার হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স এবং তার পরিবার ও বন্ধুদেরসহ মোট ৭ জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে, প্রিন্সের বোনের বয়স কম হওয়ায় আদালত তাকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কারাগারে প্রেরিত ব্যক্তির তালিকায় রয়েছে- দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার মা শামী আক্তার পলি (৩৮), বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৫), প্রিন্সের বন্ধু ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), দিরাই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১), ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি (১৯) এবং সিলেটের ভাদেরশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির (২০)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে সিলেট মহানগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে প্রিন্সের ছোট বোন ছাড়া বাকী ৭ জনকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক মো. জসিম উদ্দিন তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অজয় চন্দ্র দেব নিশ্চিত করে জানান, সুনামগঞ্জ সদর থানার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। বিচারক তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং বিকেলে তাদেরকে জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, প্রিন্সের বোনের বয়স কম থাকায় তাকে শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান স্কুল ছাত্রীর জামিন না মঞ্জুর করে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রিন্সের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছায়াদুর রহমান তালুকদার।
পুলিশ জানায়, ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। পরে তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তার পরিবার এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর পুলিশ সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
পুলিশের মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে ৩০ অক্টোবর হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি খিঁচুনির ভান করতে থাকেন। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রুমে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করে। প্রিন্সের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী ও তার মা, বোন গুজব ছড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর মারমুখী আচরণ করতে থাকেন। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রিন্সকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। প্রিন্সের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী কান্নাকাটি করতে থাকেন এবং দাবি করেন যে তার ছেলে পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছে।
আরও পড়ুন: সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানালেন বাসসের প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী
এরপর প্রিন্সের ছোট ভাই ফাহিম রাজা চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সদর মডেল থানার ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি প্রদান করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সিলেট থেকে প্রিন্সসহ সকলকে গ্রেপ্তার করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন