বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৮ এম
একটি রানের জন্য পুরো রাত অপেক্ষা করেছেন সাদমান ইসলাম। তবে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আর অপেক্ষা করতে হয়নি এই ওপেনারকে। দিনের দ্বিতীয় বলেই দৌড়ে ২ রান নিয়ে পৌঁছে গেলেন ম্যাজিক ফিগারে। এই বাঁহাতি ক্রিকেটার টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো তিন অঙ্কের রানের দেখা পেলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ ব্যাটিং করছে। সকালের সেশনের দ্বিতীয় বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান ইসলাম। বিশপের বলে ডাবলস নিয়ে আকাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
গতকাল আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত ওভারের চেয়ে কম খেলা মাঠে গড়ায়। দ্বিতীয় দফায় খেলা বন্ধ হলে দিনের খেলার ইতি ঘোষণা করা হয়। তখন সাদমান ৯৯ রানে ব্যাট করছিলেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) সাদমানের প্রথম সেঞ্চুরি। তার আগের দুই সেঞ্চুরির প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে, যেই ম্যাচগুলো ডব্লিউটিসির অংশ ছিল না।
সেঞ্চুরির আগে সময়টা ভালো কাটছিল না সাদমানের। ১৭ ইনিংস পর পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর সাদমান বেশিক্ষণ আর উইকেটে টেকেননি। বিশপের ফিরতি ওভারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন। আউট হওয়ার আগে ২৩৪ বলে ১১ চারে ১০৫ রান করেন এই বাঁহাতি।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৭ ওভারে ৪ উইকেটে ২২১। লিটন দাস ১২ রানে ব্যাট করছেন। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া তাওহীদ হৃদয়। তিনি অপরাজিত ৪২ রানে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাটকীয় টাইব্রেকারে চেলসিকে পরাজিত করে লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করেছে লিভারপুল। অপরদিকে, ব্রাইটনের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটিকেও পেনাল্টি শুটআউটের কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
লিভারপুলের কোচ আন্দোনি ইরাওলা, শৈশবের বন্ধু জাবি আলোনসোর বিরুদ্ধে শেষ ষোলোতে জয়লাভ করেছেন। নির্ধারিত সময়ে অ্যানফিল্ডে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর, পেনাল্টি শুটআউটে চেলসিকে পরাজিত করে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের প্রথমে পেনাল্টি থেকে গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন মরগান রজার্স। বিরতির ঠিক আগে, পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান কোডি গাকপো।
শুটআউটে চেলসির ভ্যালেন্তিন বারকোর শট পোস্টে লাগে। এরপর লিভারপুলের কোস্তাস সিমিকাস একটি সুযোগ মিস করেন, বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে মারেন।
চেলসি গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্সের হাতে আটকে যায় রায়ান গ্রাভেনবার্খের শট। তবে লিভারপুলের গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলি, এমানুয়েল এমেগার শট ঠেকিয়ে দলের লড়াইকে অব্যাহত রাখেন।
লিভারপুলের জো গোমেজ গোল করার পর, চেলসির ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানা শট নিতে গিয়ে বল লক্ষ্যের বাইরে পাঠান। এই ঘটনাই লিভারপুলের জন্য শেষ আটে ওঠার নিশ্চিতকরণ করে।
অ্যানফিল্ডে কোচ হিসেবে এটি আলোনসোর টানা তৃতীয় হার। এর আগে ২০২৪ সালে বায়ার লেভারকুসেন এবং ২০২৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকাকালে এই মাঠে হেরেছিলেন তিনি।
লিভারপুলে নিজের প্রথম মৌসুমে লিগ কাপের ফাইনালে উঠেছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ ও আর্নে স্লট। এবার সেই পথে এগোচ্ছেন ইরাওলাও, যিনি ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন।
জয়ের পর ইরাওলা মন্তব্য করেন, 'আমরা খুবই খুশি। ঘরের মাঠে টানা তিনটি জয় পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিগে নিজেদের মাঠে আমরা কিছুটা সমস্যায় ছিলাম। তবে এখন রোববার (১ নভেম্বর) আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে পারব।'
কোয়ার্টার ফাইনালে ইরাওলা মুখোমুখি হবেন নিজের সাবেক ক্লাব বোর্নমাউথের।
অন্যদিকে, আলোনসো বলেন, 'পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত ম্যাচ গড়ালে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়াকে কারও কাছে নিষ্ঠুর মনে হতেই পারে। আমরা ভালো মানের ফুটবল খেলেছি। এই ধরনের স্টেডিয়ামে খেলতে এটাই প্রয়োজন। তবে প্রিমিয়ার লিগই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।'
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) টটেনহ্যামের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত চেলসি দল থেকে মাত্র চারটি পরিবর্তন এনেছিলেন আলোনসো। অপরদিকে, রোববার ব্রাইটনের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ী ম্যাচ থেকে লিভারপুলের একাদশে সাতটি পরিবর্তন আনেন ইরাওলা।
৪০ মিনিটে ময়েসেস কাইসেদোকে ফাউল করেন গ্রাভেনবার্খ। ফলে চেলসি পেনাল্টি পায় এবং স্পটকিক থেকে গোল করেন রজার্স।
তবে তিন মিনিট পরই সমতা ফেরায় লিভারপুল। ফোফানার হ্যান্ডবলের কারণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন গাকপো।
রুলির নৈপুণ্যে ব্রাইটনকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে সিটি:
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ব্রাইটনের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করার পর, পেনাল্টি শুটআউটে জয়লাভ করে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
গত শনিবার অ্যাস্টন ভিলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর, সিটির কোচ এনজো মারেস্কা দলে নয়টি পরিবর্তন আনেন। বিশ্রামে ছিলেন আর্লিং হালান্ড, রুবেন দিয়াস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও জিয়ানলুইজি দোন্নারুমার মতো তারকারা।
৩০ মিনিটে জর্জিনিও রুটারের শট থেকে পাওয়া বল পাঁচ গজ দূর থেকে জালে পাঠিয়ে ব্রাইটনকে এগিয়ে দেন মালিক ইয়ালকুয়ে। বিরতির ২০ মিনিট পর, ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান মাতেও কোভাচিচ। তার বাঁকানো শটটি ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনে।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র দুই মিনিট পর, জাউয়েন হাজদামের কাটব্যাক থেকে গোল করে ব্রাইটনকে আবারও এগিয়ে দেন রুটার। ৭২ মিনিটে রায়ান শেরকির ফ্রি-কিক ভিটর রেইসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। এতে ২-২ সমতায় ফেরে সিটি।
পেনাল্টি শুটআউটে কোভাচিচের শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাইটন গোলরক্ষক জেসন স্টিল। তবে সিটির গোলরক্ষক রুলি, ব্রাইটনের ইয়াসিন আইয়ারি ও লুইস ডাঙ্কের শট আটকে দিয়ে দলকে শেষ আটে তুলে দেন।
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সিটির প্রতিপক্ষ হবে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরের দল ব্র্যাডফোর্ড। এর আগে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রিমিয়ার লিগে ইতিহাদেই আবার মুখোমুখি হবে সিটি ও ব্রাইটন।
দুর্দান্ত ছন্দে বোর্নমাউথ, জিতেছে ক্রিস্টাল প্যালেসও:
ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে বোর্নমাউথ। গত সপ্তাহে ইউরোপা লিগে এসি মিলানকে ৩-০ গোলে পরাজিত করার পর, প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠেও একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল দলটি।
অন্যদিকে, ফুলহ্যামের মাঠে ১-০ গোলে জয়লাভ করে চাপে থাকা কোচ পিয়ের সেজের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস।
কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের মাঠে সান্ডারল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে প্যালেস। প্রিমিয়ার লিগে সাম্প্রতিক দুরবস্থার মধ্যে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে সান্ডারল্যান্ডও। স্টেডিয়াম অব লাইটে ব্রেন্টফোর্ডকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে শেষ আটে উঠেছে তারা।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত করে চমক দেখিয়েছে চতুর্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড টাউন। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে এভারটন ও নিউক্যাসলের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিরাপত্তাহীনতা, দুর্যোগের পূর্ব সতর্কতা না পাওয়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং অন্য দেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে খুলনা অঞ্চলের হাজারো জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। নৌযান বিকল হলে দ্রুত উদ্ধার না পাওয়া কিংবা প্রত্যাশিত মাছ না মিললে ঋণ পরিশোধের চাপ তাদের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। অতএব, প্রতিটি সমুদ্রযাত্রা তাদের কাছে শুধু জীবিকা অর্জন নয়, বরং নিরাপদে ঘরে ফেরারও একটি লড়াই।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবরের শুরু থেকেই মাছ ধরতে সমুদ্রে যাত্রা করবেন জেলেরা। এ জন্য খুলনার উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
পাইকগাছার মাহমুদকাঠি, বোয়ালিয়া, হেতামপুর, কাটাখালীসহ বিভিন্ন জেলেপল্লীতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে জেলেদের। কেউ নৌকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করছেন, কেউ পরীক্ষা করছেন ইঞ্জিন। কোথাও চলছে নতুন জাল বোনা, আবার কোথাও পুরোনো জাল মেরামতের কাজ। পাশাপাশি সংগ্রহ করা হচ্ছে জ্বালানি, বরফ, খাবার ও প্রয়োজনীয় রসদ। দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘর ছাড়ার আগে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন তারা।
পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপের বহু পরিবারের জীবিকা সমুদ্রের মাছের ওপর নির্ভর করে। যাত্রা ও মাছ ধরার ধরন অনুযায়ী কেউ ১৫ দিন, আবার কেউ কয়েক মাস পর্যন্ত সমুদ্রে অবস্থান করেন। এ সময় মাছ পাওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে থাকে প্রতিকূল আবহাওয়া ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা।
তীর ছাড়ার পর জেলেদের জন্য যোগাযোগের সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা না থাকলে ঝড় কিংবা নিম্নচাপের খবরও সময়মতো পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। ফলে বিপদের খবর দেরিতে পৌঁছালে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও কমে আসে।
যোগাযোগের এই সংকট শুধু জেলেদের জন্য নয়, তীরে থাকা তাদের স্বজনদের জন্যও উদ্বেগ বাড়ায়। আবহাওয়া খারাপ হলে নৌকা কোথায় আছে, সবাই নিরাপদে আছেন কি না-এসব জানতে না পেয়ে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারের সদস্যদের।
সমুদ্রে নিজেদের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক জলসীমা শনাক্ত করাও নিরাপদ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থান নির্ণয়ে উপযুক্ত জিপিএস যন্ত্র কাজে আসতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেগুলো ব্যবহারের দক্ষতার অভাব থাকলে পথ হারানো কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য দেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। তীর কিংবা কাছাকাছি থাকা অন্য নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলে সহায়তা চাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। স্রোত ও বাতাসে নৌকা ভেসে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় উদ্ধার-অপেক্ষায় কাটাতে হয় জেলেদের।
এসব ঝুঁকির মধ্যেই বড় অঙ্কের খরচ নিয়ে সমুদ্রে যেতে হয় তাদের। জ্বালানি, বরফ, খাবার, জাল ও নৌযান মেরামতে প্রয়োজন হয় বিপুল অর্থের। অনেকেই এসব খরচ মেটাতে ঋণ কিংবা দাদনের ওপর নির্ভর করেন। ফলে জাল ফেলার আগেই তাঁদের কাঁধে চাপে ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার দায়।
কিন্তু সমুদ্রে গেলেই প্রত্যাশিত মাছ মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জালে মাছ কম উঠলে কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় আগেভাগে ফিরে আসতে হলে যাত্রার খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে। তখন আগের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরবর্তী যাত্রার পুঁজি জোগাড়ের চিন্তাও করতে হয়। এর প্রভাব পড়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচে।
পাইকগাছা উপজেলার মাহমুদকাঠি জেলেপল্লীর শঙ্কর মন্ডল বলেন, "গভীর সমুদ্রে গেলে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না। তখন বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। ঝড়ের খবর সময়মতো না পেলে নিরাপদ জায়গায় ফিরে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।"
একই এলাকার আরেক জেলে কৌশিক গাঙ্গুলি বলেন, "সমুদ্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। আশপাশে অন্য নৌকা না থাকলে সাহায্য চাওয়াও কঠিন। অবস্থান জানিয়ে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ভরসা নিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারতাম।"
চুকনগর গ্রামের জেলে আব্দুল জলিল বলেন, "সমুদ্রে যাই পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে। যাওয়ার সময় যেমন মাছ পাওয়ার আশা থাকে, তেমনি ফিরে আসতে পারব কি না, সেই ভয়ও থাকে। বিপদে যোগাযোগ ও উদ্ধারের নিশ্চয়তা পেলে আমাদের এবং পরিবারের দুশ্চিন্তা কমত।"
জেলেদের এই শ্রমকে ঘিরে উপকূলেও গড়ে উঠেছে বহু মানুষের জীবিকা। নৌযান মেরামত, জাল তৈরি, বরফ সরবরাহ, মাছ পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় নির্ভর করে মাছ আহরণের ওপর। ফলে সমুদ্রে একটি নৌযানের লোকসানের প্রভাব পড়ে একাধিক পরিবারের ওপর।
জেলেদের জীবনমান ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাওসেডের প্রধান নির্বাহী শামীম আরফীন বলেন, "সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে যাওয়া এসব মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।"
এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, দুর্যোগের আগাম বার্তা পাওয়ার সুযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা চাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অবস্থান শনাক্তের সরঞ্জাম ব্যবহার ও বিপদের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ জেলেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে পারে।
জেলেদের এসব প্রয়োজনের কথা স্বীকার করছে মৎস্য বিভাগও। মৎস্য অধিদফতরের খুলনার উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরামর্শ ও মতামত দেয়া হচ্ছে।
তবে এসব উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের জেলেদের কাছে কত দ্রুত পৌঁছাবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ও উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মাছ না পেয়ে লোকসানে ফেরা জেলেদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহটি উদ্ধার করা হয় গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী এলাকার তুরাগ নদের ঘাট থেকে। নৌ পুলিশ এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। সৌরি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় বসবাস করতেন।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।
নৌ পুলিশ জানায়, বুধবার সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর আসে যে, উওরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে। টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহের পরনে সাদা পায়জামা ও কালো জামা ছিল এবং হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। তার সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম তাহসিফ সৌরি। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। তার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে পুনরায় শুরু হবে সব ধরনের মাছ শিকার। এদিকে, জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামতের কাজ শেষ মুহূর্তে করছেন। তাদের আশা, জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়লে বিগত দিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। অন্যথায়, আগামী দিনগুলোতে তাদের কষ্টের অবসান হবে না।
চাঁদপুরের জেলেরা নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে মাছ ধরার জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পুরোনো ও নতুন জালে সুতা বুনছেন তারা। জাল মেরামতের পাশাপাশি মাছ ধরার জন্য অপরিহার্য উপকরণ নৌকাও মেরামত করছেন জেলেরা। নৌকা ধোয়া-মোছার কাজের পাশাপাশি ইঞ্জিনের গতি বাড়ানোর কাজও চলমান রয়েছে।
দেশের অন্যান্য অভয়াশ্রমের মতো চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতেও ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে, যারা জাল ও নৌকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা পেলেও, অনেক জেলেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে।
আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর, জেলেরা আবারও নদীতে নামবেন। মাছ ধরার সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাদের দুশ্চিন্তা কম নয়। কারণ, নিষেধাজ্ঞার পূর্বে ভরা মৌসুমেও পদ্মা ও মেঘনায় আগের মতো ইলিশ ধরা পড়েনি। ফলে, জাল ও নৌকা তৈরির জন্য নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনাপাড়ের গোবিন্দিয়া গ্রামের বিল্লাল মিশৌরী (৪৫) জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে ২২ দিন বেকার থাকতে হয়েছে। এতে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হয়েছে। পাশের বহরিয়া এলাকার জেলে কাশেম গাজী (৫০) বলেন, "আমার মতো অনেক জেলে সরকারি আইন মেনে চললেও এক শ্রেণির জেলে সুযোগ বুঝে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছেন।" আরেক জেলে মজিব ছৈয়াল (৩৮) বলেন, "সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু অন্য কোনো সঞ্চয় না থাকায় সেই চাল দিয়ে কত দিন চলা সম্ভব, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে।"
এদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব ডিম থেকে পোনা ফুটে জাটকায় পরিণত হবে। তাই জাটকা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ মৎস্যবিজ্ঞানী ও ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, "এবারের প্রজনন মৌসুমে কী পরিমাণ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে, তা জানতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যবিজ্ঞানীরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন।" তবে, বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ডিম থেকে জন্ম নেয়া পোনা ও পরবর্তী সময়ে জাটকায় পরিণত হওয়া মাছগুলোকে সুরক্ষা দেয়া।
ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান আরও বলেন, "নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।" এ জন্য জেলেদের সচেতন থাকার পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকেও জাটকা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ২২ দিন বেকার থাকা জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িত প্রায় ২০০ জেলেকে আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল, নৌকা ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও অভয়াশ্রমের নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জেলা ও নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ৫০ হাজার জেলে। তাদের মধ্যে সরকারি তালিকাভুক্ত ৪১ হাজারের বেশি জেলেকে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তার চাল দেয়া হয়েছে। এসব জেলের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে এ সহায়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের সংখ্যা আরও প্রায় দুই লাখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ