বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৯ এম
নিরাপত্তাহীনতা, দুর্যোগের পূর্ব সতর্কতা না পাওয়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং অন্য দেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে খুলনা অঞ্চলের হাজারো জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। নৌযান বিকল হলে দ্রুত উদ্ধার না পাওয়া কিংবা প্রত্যাশিত মাছ না মিললে ঋণ পরিশোধের চাপ তাদের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। অতএব, প্রতিটি সমুদ্রযাত্রা তাদের কাছে শুধু জীবিকা অর্জন নয়, বরং নিরাপদে ঘরে ফেরারও একটি লড়াই।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবরের শুরু থেকেই মাছ ধরতে সমুদ্রে যাত্রা করবেন জেলেরা। এ জন্য খুলনার উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
পাইকগাছার মাহমুদকাঠি, বোয়ালিয়া, হেতামপুর, কাটাখালীসহ বিভিন্ন জেলেপল্লীতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে জেলেদের। কেউ নৌকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করছেন, কেউ পরীক্ষা করছেন ইঞ্জিন। কোথাও চলছে নতুন জাল বোনা, আবার কোথাও পুরোনো জাল মেরামতের কাজ। পাশাপাশি সংগ্রহ করা হচ্ছে জ্বালানি, বরফ, খাবার ও প্রয়োজনীয় রসদ। দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘর ছাড়ার আগে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন তারা।
পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপের বহু পরিবারের জীবিকা সমুদ্রের মাছের ওপর নির্ভর করে। যাত্রা ও মাছ ধরার ধরন অনুযায়ী কেউ ১৫ দিন, আবার কেউ কয়েক মাস পর্যন্ত সমুদ্রে অবস্থান করেন। এ সময় মাছ পাওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে থাকে প্রতিকূল আবহাওয়া ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা।
তীর ছাড়ার পর জেলেদের জন্য যোগাযোগের সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা না থাকলে ঝড় কিংবা নিম্নচাপের খবরও সময়মতো পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। ফলে বিপদের খবর দেরিতে পৌঁছালে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও কমে আসে।
যোগাযোগের এই সংকট শুধু জেলেদের জন্য নয়, তীরে থাকা তাদের স্বজনদের জন্যও উদ্বেগ বাড়ায়। আবহাওয়া খারাপ হলে নৌকা কোথায় আছে, সবাই নিরাপদে আছেন কি না-এসব জানতে না পেয়ে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারের সদস্যদের।
সমুদ্রে নিজেদের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক জলসীমা শনাক্ত করাও নিরাপদ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থান নির্ণয়ে উপযুক্ত জিপিএস যন্ত্র কাজে আসতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেগুলো ব্যবহারের দক্ষতার অভাব থাকলে পথ হারানো কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য দেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। তীর কিংবা কাছাকাছি থাকা অন্য নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলে সহায়তা চাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। স্রোত ও বাতাসে নৌকা ভেসে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় উদ্ধার-অপেক্ষায় কাটাতে হয় জেলেদের।
এসব ঝুঁকির মধ্যেই বড় অঙ্কের খরচ নিয়ে সমুদ্রে যেতে হয় তাদের। জ্বালানি, বরফ, খাবার, জাল ও নৌযান মেরামতে প্রয়োজন হয় বিপুল অর্থের। অনেকেই এসব খরচ মেটাতে ঋণ কিংবা দাদনের ওপর নির্ভর করেন। ফলে জাল ফেলার আগেই তাঁদের কাঁধে চাপে ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার দায়।
কিন্তু সমুদ্রে গেলেই প্রত্যাশিত মাছ মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জালে মাছ কম উঠলে কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় আগেভাগে ফিরে আসতে হলে যাত্রার খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে। তখন আগের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরবর্তী যাত্রার পুঁজি জোগাড়ের চিন্তাও করতে হয়। এর প্রভাব পড়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচে।
পাইকগাছা উপজেলার মাহমুদকাঠি জেলেপল্লীর শঙ্কর মন্ডল বলেন, "গভীর সমুদ্রে গেলে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না। তখন বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। ঝড়ের খবর সময়মতো না পেলে নিরাপদ জায়গায় ফিরে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।"
একই এলাকার আরেক জেলে কৌশিক গাঙ্গুলি বলেন, "সমুদ্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। আশপাশে অন্য নৌকা না থাকলে সাহায্য চাওয়াও কঠিন। অবস্থান জানিয়ে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ভরসা নিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারতাম।"
চুকনগর গ্রামের জেলে আব্দুল জলিল বলেন, "সমুদ্রে যাই পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে। যাওয়ার সময় যেমন মাছ পাওয়ার আশা থাকে, তেমনি ফিরে আসতে পারব কি না, সেই ভয়ও থাকে। বিপদে যোগাযোগ ও উদ্ধারের নিশ্চয়তা পেলে আমাদের এবং পরিবারের দুশ্চিন্তা কমত।"
জেলেদের এই শ্রমকে ঘিরে উপকূলেও গড়ে উঠেছে বহু মানুষের জীবিকা। নৌযান মেরামত, জাল তৈরি, বরফ সরবরাহ, মাছ পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় নির্ভর করে মাছ আহরণের ওপর। ফলে সমুদ্রে একটি নৌযানের লোকসানের প্রভাব পড়ে একাধিক পরিবারের ওপর।
জেলেদের জীবনমান ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাওসেডের প্রধান নির্বাহী শামীম আরফীন বলেন, "সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে যাওয়া এসব মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।"
এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, দুর্যোগের আগাম বার্তা পাওয়ার সুযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা চাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অবস্থান শনাক্তের সরঞ্জাম ব্যবহার ও বিপদের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ জেলেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে পারে।
জেলেদের এসব প্রয়োজনের কথা স্বীকার করছে মৎস্য বিভাগও। মৎস্য অধিদফতরের খুলনার উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরামর্শ ও মতামত দেয়া হচ্ছে।
তবে এসব উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের জেলেদের কাছে কত দ্রুত পৌঁছাবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ও উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মাছ না পেয়ে লোকসানে ফেরা জেলেদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহটি উদ্ধার করা হয় গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী এলাকার তুরাগ নদের ঘাট থেকে। নৌ পুলিশ এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। সৌরি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় বসবাস করতেন।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।
নৌ পুলিশ জানায়, বুধবার সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর আসে যে, উওরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে। টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহের পরনে সাদা পায়জামা ও কালো জামা ছিল এবং হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। তার সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম তাহসিফ সৌরি। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। তার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে পুনরায় শুরু হবে সব ধরনের মাছ শিকার। এদিকে, জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামতের কাজ শেষ মুহূর্তে করছেন। তাদের আশা, জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়লে বিগত দিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। অন্যথায়, আগামী দিনগুলোতে তাদের কষ্টের অবসান হবে না।
চাঁদপুরের জেলেরা নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে মাছ ধরার জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পুরোনো ও নতুন জালে সুতা বুনছেন তারা। জাল মেরামতের পাশাপাশি মাছ ধরার জন্য অপরিহার্য উপকরণ নৌকাও মেরামত করছেন জেলেরা। নৌকা ধোয়া-মোছার কাজের পাশাপাশি ইঞ্জিনের গতি বাড়ানোর কাজও চলমান রয়েছে।
দেশের অন্যান্য অভয়াশ্রমের মতো চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতেও ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে, যারা জাল ও নৌকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা পেলেও, অনেক জেলেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে।
আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর, জেলেরা আবারও নদীতে নামবেন। মাছ ধরার সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাদের দুশ্চিন্তা কম নয়। কারণ, নিষেধাজ্ঞার পূর্বে ভরা মৌসুমেও পদ্মা ও মেঘনায় আগের মতো ইলিশ ধরা পড়েনি। ফলে, জাল ও নৌকা তৈরির জন্য নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনাপাড়ের গোবিন্দিয়া গ্রামের বিল্লাল মিশৌরী (৪৫) জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে ২২ দিন বেকার থাকতে হয়েছে। এতে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হয়েছে। পাশের বহরিয়া এলাকার জেলে কাশেম গাজী (৫০) বলেন, "আমার মতো অনেক জেলে সরকারি আইন মেনে চললেও এক শ্রেণির জেলে সুযোগ বুঝে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছেন।" আরেক জেলে মজিব ছৈয়াল (৩৮) বলেন, "সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু অন্য কোনো সঞ্চয় না থাকায় সেই চাল দিয়ে কত দিন চলা সম্ভব, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে।"
এদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব ডিম থেকে পোনা ফুটে জাটকায় পরিণত হবে। তাই জাটকা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ মৎস্যবিজ্ঞানী ও ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, "এবারের প্রজনন মৌসুমে কী পরিমাণ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে, তা জানতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যবিজ্ঞানীরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন।" তবে, বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ডিম থেকে জন্ম নেয়া পোনা ও পরবর্তী সময়ে জাটকায় পরিণত হওয়া মাছগুলোকে সুরক্ষা দেয়া।
ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান আরও বলেন, "নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।" এ জন্য জেলেদের সচেতন থাকার পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকেও জাটকা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ২২ দিন বেকার থাকা জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িত প্রায় ২০০ জেলেকে আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল, নৌকা ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও অভয়াশ্রমের নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জেলা ও নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ৫০ হাজার জেলে। তাদের মধ্যে সরকারি তালিকাভুক্ত ৪১ হাজারের বেশি জেলেকে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তার চাল দেয়া হয়েছে। এসব জেলের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে এ সহায়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের সংখ্যা আরও প্রায় দুই লাখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন দেশটির সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রাজিল ত্যাগ করে মায়ামিতে পৌঁছান।
ফ্লাভিও বলসোনারো অভিযোগ করেছেন যে, দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তাকে নির্বাচনী অভ্যুত্থানের শিকার করেছেন। তবে নির্বাচনে লুলা ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পূর্বে সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ মানতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর, সেখানে যাওয়ার জন্য আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ধন্যবাদ জানান ফ্লাভিও। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যিনি তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ভিসা প্রদান করেছেন এবং স্বাগত জানিয়েছেন।
একই সময়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে শেয়ার করা একটি খোলা চিঠিতে বলসোনারো প্রথমে নিজেকে ব্রাজিলের ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে সেই পোস্ট মুছে দিয়ে সংশোধিত আরেকটি চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা দাবি করেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি শুধু আমার ৬ কোটি ভোটারকেই নয়, ব্রাজিলের জনগণকেও বলতে চাই, আমিই নেতা। আর যারা ব্রাজিলের নির্বাচন চুরি করেছে, সেই অপরাধীরা একটি অপরাধী চক্রের অংশ, যারা দেশে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।’
ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জয়ী হয়েছেন। গত রোববার দ্বিতীয় দফার ভোটে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
ব্রাজিলের ফেডারেল নির্বাচনী আদালত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং বলসোনারোর নিজ দলও লুলার বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) খবর পাওয়া যায়, একদিন আগে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট বলসোনারোকে তার পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। তবে বলসোনারো কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো প্রথমে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফল বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন। তবে তার দল সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। ওই নির্বাচনে রক্ষণশীল এই প্রার্থী ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে। তবে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সহায়তা গ্রহণ করা হবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি এবং পরিবেশ রক্ষায় আলোচিত এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অববাহিকার মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীপাড়ের মানুষ তিস্তা নদীতে পানির সংকটে পড়ছেন। ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির জন্য অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সফল হয়নি। এই অবস্থায় তিস্তা অববাহিকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কয়েক বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভারত ও চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেও সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের নকশা তৈরি ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একাধিক দেশের সহায়তা গ্রহণ করা হবে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, চীন ও নেদারল্যান্ডসের পরামর্শকদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার পানি খাতের একজন বিশেষজ্ঞও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "প্রতিবছর ২ হাজার কোটি টাকা হলে কিন্তু আমরা নিজস্ব অর্থায়নে সে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারব।"
মহাপরিকল্পনায় তিস্তার পানি সংরক্ষণ, নতুন ব্যারাজ নির্মাণ এবং নদীর অন্য প্রান্তে স্লুইস গেট স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাঁধ রেখেই নদীর দুই পাড় ছোট করা হবে, নাকি বাঁধ সম্প্রসারণ করা হবে, তা নিয়েও প্রাথমিক পর্যালোচনা চলছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়, তা নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে নদীর পানি সংরক্ষণ, ব্যারাজ নির্মাণ, স্লুইস গেট স্থাপন এবং দুই পাড় সংকুচিত করে নদী খননের বিষয় রয়েছে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের ধরন চূড়ান্ত করার আশা রয়েছে।
আগামী বছরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ একটি অংশের মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ