মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:১৩ এম
৭০ বছর আগে ব্যালন ডি’অরের প্রথম আসরে ট্রফিটি ইংলিশ কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের হাতে উঠেছিল। এই স্মৃতির স্মরণে এবারের ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠান লন্ডনে আয়োজন করা হয়েছে। এবার মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি অর্জন করেছেন আরেক ইংলিশ ফুটবলার। বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং টটেনহ্যামের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে কেইন এই পুরস্কারটি নিজের ‘ঘরের শহর’ লন্ডনে অর্জন করেছেন। এটি ছিল তার জন্য প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ। কয়েক দিনের টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল এবং রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে কেইন এই সাফল্য অর্জন করেন।
১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করা কেইনের হাত ধরে ইংলিশদের ২৫ বছরের খরা কাটল ব্যালন ডি’অরে। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের হাতে উঠেছে ফ্রান্স ফুটবলের এই পুরস্কার। গত বছরের বিজয়ী পিএসজির স্ট্রাইকার উসমান দেম্বেলের উত্তরসূরি হলেন কেইন।
ব্যালন ডি’অর গ্রহণ করতে মঞ্চে উঠে আবেগঘন বক্তব্যে কেইন তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "আমি প্রায় ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। লন্ডনে এই পুরস্কার জয় করায় মুহূর্তটি আমার কাছে আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে। বিচারকদের জন্য ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কঠিন ছিল, তা আমি কল্পনা করতে পারি। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ। আমার বায়ার্ন সতীর্থদেরও ধন্যবাদ, তোমরা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছ এবং আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করেছ।"
অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও কেইন বায়ার্নের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিকে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, "কোম্পানিকে জানাই একরাশ ভালোবাসা। এই ট্রফি বায়ার্নে ফিরিয়ে নিতে পেরে আমি আনন্দিত। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হওয়াটাও আমার জন্য সম্মানের। আমি অত্যন্ত গর্বিত। টুখেল ও তার কোচিং স্টাফদেরও ধন্যবাদ জানাই।"
নিজের সাবেক ক্লাব টটেনহ্যামকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন কেইন। তিনি বলেন, "টটেনহ্যামকেও ধন্যবাদ দিতে চাই। টটেনহ্যাম ছাড়া আমি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। যারা বিশ্বের সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখে, আমি আশা করি তাদের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারব; যেমনটা আজ আমি হয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমার সন্তানদের বলতে চাই, আমি বাড়িতে অনেক ট্রফি নিয়ে এসেছি, কিন্তু এটি বিশেষ। আমি একজন ভালো পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি ভালো বাবাও হতে চাই। আর আমার স্ত্রী, আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে ধন্যবাদ। তুমি আমার চেয়েও বেশি এই পুরস্কারটি চেয়েছিলে। আমার স্বপ্ন পূরণে তুমি আমাকে সাহায্য করেছ।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জমির দলিল হাতে থাকলেও অনেক সময় জমিটির সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পুরোনো দলিল, পরিবর্তিত দাগ নম্বর, মৌজা মানচিত্রের অস্পষ্টতা কিংবা জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলে জমি খুঁজে বের করতে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। তবে দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও মৌজা মানচিত্র মিলিয়ে অনুসন্ধান করলে জমির অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব।
দলিল দেখে জমি শনাক্ত করবেন যেভাবে
জমি খুঁজে বের করার প্রথম ধাপ হলো দলিলে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো ভালোভাবে যাচাই করা। সাধারণত দলিলে জমির মৌজার নাম, জে.এল. নম্বর, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং চারপাশের সীমানার বিবরণ উল্লেখ থাকে।
প্রথমে দলিল থেকে এসব তথ্য আলাদা করে লিখে নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকার খতিয়ান ও মৌজা মানচিত্র সংগ্রহ করে তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে। এতে জমিটি কোন মৌজায় এবং কোন দাগের অন্তর্ভুক্ত, তা শনাক্ত করা সহজ হয়।
খতিয়ান ও দাগ নম্বরের গুরুত্ব
জমি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে খতিয়ান ও দাগ নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খতিয়ানে জমির মালিকানা ও জমির বিবরণ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, দাগ নম্বর মৌজা মানচিত্রে নির্দিষ্ট জমির অবস্থান চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।
তবে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। বিভিন্ন জরিপে দাগ নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন, সিএস বা এসএ জরিপের দাগ নম্বর পরবর্তী আরএস কিংবা বিএস জরিপে ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু পুরোনো দাগ নম্বর দেখে জমির বর্তমান অবস্থান নির্ধারণ করা ঠিক নয়। পুরোনো ও নতুন দাগ নম্বরের মধ্যে সম্পর্ক যাচাই করতে হবে।
মৌজা মানচিত্র দিয়ে জমি খুঁজুন
মৌজা মানচিত্রে জমির দাগ, অবস্থান, পাশের জমি এবং বিভিন্ন ভৌগোলিক চিহ্ন দেখানো থাকে। দলিলে উল্লেখ করা দাগ নম্বরের সঙ্গে মানচিত্রের তথ্য মিলিয়ে জমির অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজার সঠিক জরিপের মানচিত্র সংগ্রহ করা প্রয়োজন। পুরোনো দলিল হলে সংশ্লিষ্ট পুরোনো জরিপের মানচিত্রের পাশাপাশি বর্তমান জরিপের মানচিত্রও যাচাই করা উচিত।
পুরোনো দলিলের জমি খুঁজবেন যেভাবে
পুরোনো দলিলে দাগ নম্বর, সীমানা বা জমির পরিমাণ বর্তমান রেকর্ডের সঙ্গে না মিললে কয়েকটি ধাপে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
১. দলিলে উল্লেখ করা মৌজা ও জে.এল. নম্বর যাচাই করুন।
২. সংশ্লিষ্ট জরিপের খতিয়ান ও মৌজা মানচিত্র সংগ্রহ করুন।
৩. পুরোনো দাগ নম্বরের সঙ্গে নতুন দাগ নম্বরের সম্পর্ক যাচাই করুন।
৪. দলিলে উল্লেখ করা জমির পরিমাণ ও চারপাশের সীমানা মিলিয়ে দেখুন।
৫. প্রয়োজনে ভূমি অফিসের সহায়তায় রেকর্ড যাচাই করুন।
৬. জমির সঠিক অবস্থান নির্ধারণে অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে সরেজমিনে পরিমাপ করান।
জমি খুঁজতে কোথায় যাবেন?
জমির অবস্থান শনাক্ত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা উপজেলা ভূমি অফিস, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় এবং জেলা রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সেখানে খতিয়ান, দাগ নম্বর, মৌজা ও জরিপের রেকর্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
প্রয়োজনে সরকারি ভূমিসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমেও খতিয়ান ও ভূমিসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। তবে অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মূল দলিল ও সরকারি রেকর্ড মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ হলে কী করবেন?
দলিলে জমির বিবরণ থাকলেও বাস্তবে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু দলিলের ওপর নির্ভর না করে খতিয়ান, মৌজা মানচিত্র, জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট জরিপের তথ্য একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে পেশাদার সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করানো যেতে পারে। মালিকানা বা সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে সীমানা পরিবর্তন বা অন্যের দখল করা জমিতে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
- শুধু দলিলের দাগ নম্বর দেখে জমি চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করবেন না।
- পুরোনো ও বর্তমান জরিপের দাগ নম্বরের পার্থক্য উপেক্ষা করবেন না।
- জমির পরিমাণ ও সীমানার বিবরণ যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
- শুধু অনলাইন তথ্যের ভিত্তিতে জমি কেনাবেচা করবেন না।
- জমির অবস্থান ও মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে টাকা দেবেন না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফুটবলারের জুতোর কথা মনে হলে চোখের সামনে কী ভাসে? মাঠের ঘাসের ওপর ছুটে চলা একজোড়া বুট, যেগুলো বলের দিকে লাথি মারছে, আর তার তালে জাল কাঁপছে, গ্যালারিতে উল্লাসের স্রোত বইছে। এটাই তো?
এবার একটু ভিন্নভাবে ভাবা যাক। যদি সেই জুতোর মাপ বড় হয়ে যায়? ফুটবলারদের জুতোর মাপ অবশ্যই নিখুঁত হতে হয়, কারণ একটু এদিক-ওদিক হলে খেলোয়াড় মাঠে পড়ে যেতে পারেন; যখন লাখো দর্শকের সামনে সরাসরি সম্প্রচার হবে, তখন প্রস্তুতকারকদের বাজারদর নিমিষেই পড়ে যাবে। তবে, হয়তো ভুল বলা হচ্ছে। বড় মাপের সেই ‘জুতো’ কিন্তু কারো জীবনও বদলে দিতে পারে।
নাইজেরিয়ার অনেক শিশুর জন্য সেই ‘বড় জুতো’ এসেছে একেবারে ভিন্ন রূপে। সেই জুতো তাদের অস্ত্রোপচারের টেবিলে নিয়ে গেছে, নতুন জীবন দিয়েছে, যা তাদের নতুন পথচলার শুরু।
এই ‘বড় জুতোর’ গল্পের নায়ক হলেন আর্সেনালের উইঙ্গার বুকায়ো সাকা। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তিনি ‘সক্রেটিস’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। তবে, এটি গোলের জন্য নয়। বরং ‘বড় জুতো’ বা ‘বিগ শু’র জন্য।
ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন এবং ‘পিস অ্যান্ড স্পোর্ট’ সংস্থা ২০২২ সালে এই সক্রেটিস পুরস্কার চালু করে। পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি সক্রেটিসের নামে, যিনি সামাজিক অবস্থান এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি তার খ্যাতি ও সম্পদকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগিয়েছিলেন। যারা তার পথ অনুসরণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন, তাদের জন্য এই পুরস্কার।
পুরস্কারের তালিকাও চিত্তাকর্ষক। ২০২২ সালে প্রথমবারের জন্য সেনেগালের সাদিও মানে পেয়েছিলেন, যিনি নিজের গ্রাম বাম্বালিতে হাসপাতাল এবং স্কুল নির্মাণের জন্য। ২০২৩ সালে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি শিশুদের শিক্ষা এবং বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের জন্য পুরস্কৃত হন। ২০২৪ সালে স্পেনের জেনি এরমোসো, যিনি নিপীড়ন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার স্বীকৃতি পান। ২০২৫ সালে লুইস এনরিকের পরিবারের ‘শানা’ ফাউন্ডেশন, গুরুতর অসুস্থ শিশুদের এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুরস্কৃত হন। সাকা সেই তালিকায় অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছিলেন, এবার পেলেন ‘স্বীকৃতি’।
তার কাজটি কী? জার্মান দাতব্য সংস্থা ‘বিগশু’-র সঙ্গে সহযোগিতা করে তিনি নাইজেরিয়ায়, অর্থাৎ তার বাবা-মায়ের দেশে, শিশুদের অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করেছেন। তার সহায়তায় ১২০টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হার্নিয়া থেকে ব্রেন টিউমার, কোনোটিই ছোট বিষয় নয়।
বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘বড় জুতোয় পা গলানো’ সহজ কাজ নয়। সেখানে দায়িত্বের মাপ পায়ের মাপের চেয়ে বড়। কিন্তু সাকা সেই জুতোয় পা গলিয়েছেন নিঃশব্দে, ক্যামেরার আড়ালে।
মাঠের বুট গোল করে। কিন্তু এই জুতো কাউকে দাঁড়াতে শেখায়। বুকায়ো সাকার সে ‘বড় জুতো’ ছিল ঠিক মাপেরই, তাই না?
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচিগুলি আগামী ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত পালন করা হবে।
বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য জানান।
আজ বেলা ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের একটি যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সর্বসম্মতিক্রমে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিববৃন্দ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
একই দিন সকাল ১১টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।
দিবসটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। একই দিন সারাদেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, ৮ নভেম্বর সারাদেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র্যালির আয়োজন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬ নভেম্বর শুক্রবার বেলা ৩টায় বিএনপির উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, যুবদল ১০ নভেম্বর আলোচনা সভা, শ্রমিক দল ৫ নভেম্বর আলোচনা সভা, কৃষক দল ৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় আলোচনা সভা এবং জাসাস ৯ নভেম্বর বিকেল ৩টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
ছাত্রদল ৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যৌথসভায় গৃহীত কর্মসূচি সফল করার জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নভেম্বর মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে। সুতরাং, এই সময়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
আজ নগরের টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
সভায় সিভিল সার্জন অফিসের হালনাগাদ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয় এবং নগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৩ হাজার ২১০ জন, জেলার উপজেলাগুলোতে ২ হাজার ৭৬২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে আগত ৭০৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। তাদের মধ্যে মহানগর এলাকায় ১২ জন, উপজেলা পর্যায়ে ১৪ জন এবং অন্যান্য জেলার সাতজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ১৮ জন নারী, ৯ জন শিশু ও ছয়জন পুরুষ। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৯১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
মহানগর এলাকার মধ্যে হালিশহরে সর্বোচ্চ ৪৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া কোতোয়ালীতে ৩৩৪ জন, বন্দরে ৩২৪ জন, পাহাড়তলীতে ৩০৪ জন এবং বাকলিয়াতে ২৫৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ৮৪৮ জন, কর্ণফুলীতে ৩২৩ জন এবং বাঁশখালীতে ২৩১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩০ জন এবং অক্টোবরে ২ হাজার ১২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা— এই চারটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বর্তমানে প্রতিটি ছোট ওয়ার্ডে তিনজন করে এবং বড় ওয়ার্ডগুলোতে পাঁচজন করে কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ কর্মী এ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। মশক নিয়ন্ত্রণে বিটিআইসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চসিক প্রশাসক এসব কার্যক্রম নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ