ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি যুক্তরাষ্ট্র


ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এই দাবি করেন, যা ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে তার সংখ্যা আগের তুলনায় ‘অনেক কম’। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ইরানের ড্রোন নির্মাতারা উৎপাদন করতে সমস্যায় পড়ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি।’ ট্রাম্পের দাবি, তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন থেকেই এই সংঘাতের সমাপ্তি হওয়া উচিত ছিল।

আরও পড়ুন: ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে। ওই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

আলোচনার সময়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে হামলা চালায়। এর আগে, গত বছরও আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা করা হয়েছিল।

এদিকে, ট্রাম্পের যুক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি জর্জিয়ার আটলান্টায় এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, তেহরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না।

ওবামা উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, সেটি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ করে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে নিজেকে ব্রাজিলের ‘প্রকৃত নেতা’ ঘোষণা বলসোনারোর

তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি। আমি কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছিলাম।’

এই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘এই যুদ্ধে কারণে আমাদের মিত্ররা এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো হামলার শিকার হয়েছে। আমেরিকানরা প্রাণ হারিয়েছেন। শত শত আমেরিকান আহত হয়েছেন। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে গেছে, এটি আমাদের আরও অরক্ষিত করে তুলেছে; আর এখন হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ভেটো দেয়ার মতো ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে গেছে।’

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন: টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা ফয়সল: জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী, তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


মির্জা ফয়সল: জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী, তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের মতামতই চূড়ান্ত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করার পর তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফয়সল আমীন জানান, ‘ভোট দিলাম। এখনই পরিবেশ নিয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে মনে হচ্ছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েদারটা একটু খারাপ, তারপরও আশা করি ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত। সেটা প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস নেই।’

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৮টায় এবং চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হচ্ছে। এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তারা ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ভোটাররা।

সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, জনগণের মতামতই চূড়ান্ত।

ভোট প্রদান শেষে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘ভোট গ্রহণের পরিবেশ নিয়ে এখন কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে মনে হচ্ছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া একটু খারাপ, তারপরও আশা করি ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত। সেটাকে প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস নেই।’

এদিকে ভোট সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করছেন ১৯০ এসআরবি সদস্য, প্রায় আড়াই হাজার আনসারসহ পুলিশ সদস্যরাও বলেও জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারা দেশে বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


সারা দেশে বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে। ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সকাল সাতটায় প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ছয়টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৩ মিনিটে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিকে ৯৩% ও মাধ্যমিকে ৫৭% বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


প্রাথমিকে ৯৩% ও মাধ্যমিকে ৫৭% বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সকল শ্রেণির মানসম্মত ও আকর্ষণীয় বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তদারকি অব্যাহত রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে কোনো নিম্নমানের কাগজের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে। যাতে কেউ কম মূল্যের অজুহাতে নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে এবার কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এনসিটিবির সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণ এবং বাঁধাইয়ের অগ্রগতি শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে ছাপার অগ্রগতি ৫৭ শতাংশের বেশি হয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই মুদ্রণের কার্যক্রম কিছু প্রেসে শুরু হলেও বেশিরভাগ প্রেসে এখনও শুরু হয়নি।

এনসিটিবি জানায়, যেসব প্রেস প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের বই ছাপার কাজ পেয়েছে, সেসব প্রেসগুলোতে মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই বেশি। কিছু ছাপাখানায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের ফর্মা ছাপার কাজও চলমান রয়েছে।

এনসিটিবি জানায়, সারা দেশে মোট ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান এবার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ পেয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক (ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি) স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবারের বইয়ের মুদ্রণ কাজ গত বছরের তুলনায় এক মাস আগেই শুরু হয়েছে।

স্তরভিত্তিক বই মুদ্রণের চিত্র

এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণের চিত্র প্রায় শতভাগ, চুক্তি অনুযায়ী তা সন্তোষজনক। প্রাক-প্রাথমিকের মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি (৯৮.২১ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। এ স্তরে প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) হয়েছে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি (৮৮.৪৮ শতাংশ) বই।

অন্যদিকে, প্রাথমিক (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি (৮৭.৬৭ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি (৭৭.৭৯ শতাংশ) বই। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক মিলে গড়ে ৯২.৯৪ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের সাথে ইবতেদায়ি বইয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইবতেদায়ি (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি (৬৪.১৫ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি (৫১.১১ শতাংশ) বই।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক (ষষ্ঠ-দশম) স্তরে মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি (৫১.১৮ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি (৩৭.০৫ শতাংশ) বই। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক মিলে গড়ে ৫৭.৬৬ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে; যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বইয়ের মান ও ছাপার কাজ তদারকি করছে এনসিটিবি।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, “প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কাজও অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির কাজের গতি কিছুটা কম থাকায় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ স্তরের কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় কিছুটা ধীরগতি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানো হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসগুলোকে দায়িত্ব দিয়ে কাজ সমন্বয় করা হবে। বইয়ের মান ও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।”

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এনসিটিবি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিকের সব ও মাধ্যমিক স্তরের ৫০ শতাংশ বই এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই সরবরাহ নিশ্চিত করা।

নিম্নমানের ফর্মা-বই বাতিল, মান রক্ষায় নজরদারি

মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বইয়ের মান বজায় রাখতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসে মুদ্রণকৃত বইয়ের গুণগত মান যাচাইয়ে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মোট ৫৩টি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রেসের নিম্নমানের ফর্মা ও বই বাতিল করা হয়েছে।

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসে মানদণ্ড অনুযায়ী নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ ফর্মা, বই এবং কভার বিনাশ (ডিস্ট্রয়) করা হয়েছে। মোট ৩৬টি প্রেসের ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, “এবার বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় আমরা সাড়ে ৯ লাখ নিম্নমানের ফর্মা ও ১২ হাজারের মতো বই বাতিল করেছি। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত বই উপজেলায় পৌঁছাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের (অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণি) বই মুদ্রণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি কম। চুক্তি অনুযায়ী ৩ নভেম্বরের মধ্যে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের কথা থাকলেও ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, “শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ এ মাসের মধ্যেই ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে। আর মাধ্যমিকের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি পৌঁছে যাবে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় মাঠপর্যায়ে বই সরবরাহের কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অনিয়মের সুযোগ থাকলেও এবার বই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিসিভ করার পর বইয়ের মানে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে গ্রহিতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। সূত্র বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%