প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে পুনরায় শুরু হবে সব ধরনের মাছ শিকার। এদিকে, জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামতের কাজ শেষ মুহূর্তে করছেন। তাদের আশা, জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়লে বিগত দিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। অন্যথায়, আগামী দিনগুলোতে তাদের কষ্টের অবসান হবে না।
চাঁদপুরের জেলেরা নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে মাছ ধরার জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পুরোনো ও নতুন জালে সুতা বুনছেন তারা। জাল মেরামতের পাশাপাশি মাছ ধরার জন্য অপরিহার্য উপকরণ নৌকাও মেরামত করছেন জেলেরা। নৌকা ধোয়া-মোছার কাজের পাশাপাশি ইঞ্জিনের গতি বাড়ানোর কাজও চলমান রয়েছে।
দেশের অন্যান্য অভয়াশ্রমের মতো চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতেও ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে, যারা জাল ও নৌকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা পেলেও, অনেক জেলেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে।
আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর, জেলেরা আবারও নদীতে নামবেন। মাছ ধরার সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাদের দুশ্চিন্তা কম নয়। কারণ, নিষেধাজ্ঞার পূর্বে ভরা মৌসুমেও পদ্মা ও মেঘনায় আগের মতো ইলিশ ধরা পড়েনি। ফলে, জাল ও নৌকা তৈরির জন্য নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনাপাড়ের গোবিন্দিয়া গ্রামের বিল্লাল মিশৌরী (৪৫) জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে ২২ দিন বেকার থাকতে হয়েছে। এতে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হয়েছে। পাশের বহরিয়া এলাকার জেলে কাশেম গাজী (৫০) বলেন, "আমার মতো অনেক জেলে সরকারি আইন মেনে চললেও এক শ্রেণির জেলে সুযোগ বুঝে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছেন।" আরেক জেলে মজিব ছৈয়াল (৩৮) বলেন, "সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু অন্য কোনো সঞ্চয় না থাকায় সেই চাল দিয়ে কত দিন চলা সম্ভব, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে।"
এদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব ডিম থেকে পোনা ফুটে জাটকায় পরিণত হবে। তাই জাটকা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ মৎস্যবিজ্ঞানী ও ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, "এবারের প্রজনন মৌসুমে কী পরিমাণ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে, তা জানতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যবিজ্ঞানীরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন।" তবে, বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ডিম থেকে জন্ম নেয়া পোনা ও পরবর্তী সময়ে জাটকায় পরিণত হওয়া মাছগুলোকে সুরক্ষা দেয়া।
ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান আরও বলেন, "নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।" এ জন্য জেলেদের সচেতন থাকার পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকেও জাটকা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ২২ দিন বেকার থাকা জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িত প্রায় ২০০ জেলেকে আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল, নৌকা ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও অভয়াশ্রমের নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জেলা ও নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ৫০ হাজার জেলে। তাদের মধ্যে সরকারি তালিকাভুক্ত ৪১ হাজারের বেশি জেলেকে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তার চাল দেয়া হয়েছে। এসব জেলের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে এ সহায়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের সংখ্যা আরও প্রায় দুই লাখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন