০৮:৫২ পি.এম
সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার পারশা মাহজাবিন সামাজিক মাধ্যমে তাদের বিয়ের খবর প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি এখনই তার নতুন জীবনের সঙ্গীর পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। শুধু পরিচয় গোপন রাখাই নয়, বিয়ের ছবিতে বরের মুখও ফুল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন এই শিল্পী। ফলে তার বিয়ের খবরের পাশাপাশি বরের পরিচয় নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
পারশা জানিয়েছেন, গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে তাদের আক্দ সম্পন্ন হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে তার পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বরের পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বরের পরিচয় আপাতত গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পারশা। তার ভাষ্য, নাম প্রকাশ করলে অনেকেই তাকে চিনে ফেলবেন। তাই তিনি এখনই পরিচয় সামনে আনতে চান না। মজার ছলে আগ্রহীদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেছেন, বরের পরিচয় জানতে চেয়ে যেন তাকে কিংবা তার পরিবারকে বিব্রত না করা হয়। দুজন দুজনকে প্রিয় বলে সম্বোধন করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়লেন পরীমণি
বরের মুখে ফুল, প্রচলিত ধারণায় প্রশ্ন
বরের মুখ ফুল দিয়ে ঢেকে রাখার বিষয়টি নিছক ছবি প্রকাশের কৌশল নয়, এর পেছনে রয়েছে পারশার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। তার মতে, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে কনের মুখ ঘোমটা বা পর্দায় ঢেকে রাখার প্রচলন দীর্ঘদিনের। কিন্তু পুরুষের মুখ আড়াল করা হলে তা নিয়ে মানুষের কৌতূহল অনেক বেশি দেখা যায়।
পারশার প্রশ্ন, নারীর মুখ ঢাকা যদি ঐতিহ্যের অংশ হতে পারে, তাহলে পুরুষের মুখ ঢাকা নিয়ে এত আলোচনা কেন? তার মতে, বিয়েটি দুজনেরই। তাই ছবিতে কার মুখ দেখা গেল আর কার মুখ আড়ালে থাকল, তাতে সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয় না।
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, কেউ নিজের ইচ্ছায় পর্দা করলে তাতে তার আপত্তি নেই। আপত্তি হলো, যখন ব্যক্তির নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। নারীর পোশাক, সৌন্দর্য কিংবা উপস্থিতিকে পুরুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচলিত মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এক দিনের জন্য পরিচিত দৃশ্যটি উল্টে দিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছেন এই শিল্পী।
আরও পড়ুন: ৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন
পরিচয় থেকে বিয়ে, এক বছরের সম্পর্ক
পারশার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তাদের পরিচয় হয়। দেশের বাইরে ভ্রমণে গিয়ে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ও কথাবার্তা শুরু হয়। পরে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানান তিনি। তার সিদ্ধান্তে পরিবারেরও সম্মতি ছিল।
হঠাৎ বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনে জীবনসঙ্গী সম্পর্কে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন পারশা। ছোটবেলা থেকেই বাবার ভালোবাসা, যত্ন ও নিরাপত্তার মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া নির্ভরতা তার কাছে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের অন্যতম মানদণ্ড হয়ে উঠেছে।
পারশার প্রত্যাশা ছিল, এমন একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া, যার কাছে বাবার মতোই নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। পাশাপাশি মানুষ, পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং জ্ঞানচর্চার আগ্রহকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য কিংবা জীবনের জটিল বিষয় নিয়ে যার সঙ্গে মন খুলে আলোচনা ও তর্ক করা যায়, এমন একজনকেই চেয়েছেন।
আরও পড়ুন: তানজিন তিশার সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ
নিজের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার বিষয়টিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পারশার কথায়, তিনি এমন কাউকে খুঁজেছেন, যিনি তাকে নতুন করে রাজমুকুট পরিয়ে দেওয়ার চেয়ে তার মাথায় থাকা মুকুটটি কখনো খুলে রাখতে বলবেন না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন