০৮:৫৪ পি.এম
শারীরিক সম্পর্কের পর অনেকেরই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা তলপেটে অস্বস্তি অনুভূত হয়। নারীরা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বা মূত্রনালীর সংক্রমণ বলা হয়। মূত্রনালী, মূত্রথলি, অথবা কিডনি— মূত্রতন্ত্রের যেকোনো অংশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনে অন্তত একবার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নারী মূলনালীর সংক্রমণে ভোগেন। বিশেষ করে ৬৫ বছরের পর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে।
মিলনের পর কেন বাড়ে সংক্রমণ
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, চলতি বছরে মোট ৪৫৮ জনের প্রাণহানি
শারীরিক মিলনের সময় ঘর্ষণের ফলে যৌনাঙ্গের চারপাশের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রনালীতে প্রবেশ করে এবং মূত্রথলিতে পৌঁছে যায়। নারীদের শারীরিক গঠনগত কারণে এই ঝুঁকি বেশি হয়।
ছোট মূত্রনালী: নারীদের মূত্রনালী পুরুষদের তুলনায় ছোট হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রথলিতে পৌঁছে সংক্রামিত করে।
পায়ুপথের নৈকট্য: নারীদের মূত্রনালী ও পায়ুপথের দূরত্ব কম হওয়ায় ‘ই. কোলাই’র মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রনালীতে ছড়াতে পারে।
ওরাল সেক্স: ওরাল সেক্সের মাধ্যমে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু
প্রতিরোধে করণীয়
মূলনালীর সংক্রমণ থেকে ১০০ শতাংশ নিরাপদ থাকার কোনো উপায় নেই, তবে কিছু অভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মিলনের পর প্রস্রাব করা: সহবাসের পরেই প্রস্রাব করা অত্যন্ত জরুরি। এতে মূত্রথলিতে প্রবেশ করা ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের সঙ্গে ধুয়ে বেরিয়ে যায়। মিলনের আগেও একবার প্রস্রাব করে নেওয়া ভালো।
গরম পানি ব্যবহার: সহবাসের আগে গরম পানি দিয়ে যৌনাঙ্গ হালকাভাবে ধুয়ে নিলে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ আটকানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫
গর্ভনিরোধক পরিবর্তনে নজর: ডায়াফ্রাম বা স্পার্মিসাইড জাতীয় গর্ভনিরোধক মূলনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বারবার সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পদ্ধতি বদলানো উচিত।
অ্যান্টিবায়োটিকের একক ডোজ: যাদের ঘন ঘন ইউটিআই হয়, চিকিৎসকরা তাদের মিলনের পরপরই খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি অ্যান্টিবায়োটিক ডোজের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
১. মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির পর যেসব নারীর যোনিপথের টিস্যু শুষ্ক হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ভারতের ডক্টর রেড্ডিজের এইচআইভির নতুন ওষুধের অনুমোদন, ভাইরাস ধ্বংস করবে দুটি ইনজেকশনে
২. ঘন ঘন ও তীব্র শারীরিক মিলন বা নতুন সঙ্গীর সঙ্গে সহবাস।
৩. স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি।
৪. গর্ভাবস্থা বা মূত্রনালীতে গঠনগত কোনো সমস্যা থাকলে।
৫. পরিবারে ঘন ঘন সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে।
আরও পড়ুন: পুলিশের এএসআই নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে
এছাড়া ক্যাথেটার ব্যবহার, পাথর হলে ঠিকমতো প্রস্রাব না হওয়া এবং অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলেও মূত্রনালীর স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সংক্রমণ হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দেয়
১. বারবার প্রস্রাবের বেগ কিন্তু অল্প প্রস্রাব হওয়া।
২. প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা যন্ত্রণা।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০১০ জন
৩. তলপেট বা পেলভিক অঞ্চলে অস্বস্তি ও চাপ অনুভব।
৪. ঘোলাটে, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব।
৫. সংক্রমণ কিডনিতে ছড়ালে পিঠের ওপরের দিকে ব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন