প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মা ইলিশ রক্ষার জন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সমুদ্র থেকে ইলিশ বোঝাই ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে টনকে টন মাছ নামছে। তবে এসব মাছের একটি বড় অংশ পচা বা অর্ধপচা অবস্থায় রয়েছে। জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা সমুদ্রে মাছ শিকার করেছেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে এবং বরফের অভাবে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নষ্ট হয়েছে।
একেকটি ট্রলারকে মাছ শিকারের জন্য সাত থেকে দশ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থাকতে হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত ট্রলার ইলিশ বোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরেছে। তাহলে কি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে ইলিশ শিকার করা হয়েছে?
সমুদ্র থেকে ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে কেউ কেউ জানাচ্ছেন, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ শিকার করেছেন তারা। ট্রলারগুলো ইলিশে পূর্ণ হলেও নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় তারা সমুদ্রে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন মাছ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বরফ না থাকার কারণে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পচে গেছে। কিছু ট্রলারে পচন ঠেকাতে মাছ কেটে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কিছু জেলের মাছ শিকারের ঘটনায় সাধারণ মৎস্যজীবীরা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতা ও প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় একটি চক্র নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করেছে। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা মেনে ঘাটে অবস্থান করা সাধারণ জেলেরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এতে মা ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে চলা জেলেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
কিন্তু কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. সালমান বলেন, "টাকা নিয়ে ম্যানেজ হয়ে জেলেদের মাছ শিকারের সুযোগ দেয়া হয়েছে- এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।" তবে তিনি জানান, রাতের আঁধারে পালিয়ে সাগরে যেতে পারে। "আমাদের অভিযান প্রতিদিনই ছিল। তবে বিশাল জায়গা এবং অনেকগুলো ঘাটের কারণে একসঙ্গে অভিযান করা বা নজরদারি করা কঠিন। তাই কেউ পালিয়ে যেতে পারে।" তবে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজের অভিযোগকে তিনি অসত্য বলেছেন।
ডিম ছাড়ার জন্য প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সাগরের লোনা পানি ছেড়ে নদীর মিঠাপানিতে আসে। এ সময় নির্বিঘ্নে প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২২ দিনের জন্য নদী ও সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এবারের নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন