বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৯ পি.এম
রাজশাহী, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গ্রাম ও শহরের সকল শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বইপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বিকেলে নগরীর কালেক্টরেট মাঠে ৯ দিনব্যাপী রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম।
এছাড়াও সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাজশাহীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বইপড়া, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, এর মাধ্যমেই আগামী দিনের মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, একসময় পরীক্ষার খাতায় না লিখলেও শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার এমন দশার কারণে বর্তমানে তরুণদের হাতে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেও তাদের উপযুক্ত দক্ষতা ও জ্ঞানের চরম অভাব রয়েছে।
শিক্ষার মান ও তরুণদের বেকারত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। আর এই বেকারত্বের সুযোগ ও হতাশা কাজে লাগিয়েই দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানো হয়েছে।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে জাতীয় বাজেটের প্রায় চারভাগের এক ভাগই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনাও সরকার হাতে নিয়েছে।
পরে মেলা প্রাঙ্গণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠে শুরু হওয়া এই বিভাগীয় বইমেলা চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সব বয়সীর দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাতৃত্ব জীবনের একটি নতুন অধ্যায়, কিন্তু মা হওয়ার ফলে কি অভিনয়জীবনে ইতি টানা উচিত? বলিউডের অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে কাজের সুযোগ হারাতে চান না। বরং তিনি সংসার, সন্তান এবং পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আরও ভালো কাজ করতে চান। নতুন ওয়েব সিরিজ ট্রাস্ট নো ওয়ান (Trust No One)-এ অভিনয়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা এবং মাতৃত্বের পর ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
আড়াই ঘণ্টায় পড়ে ফেলেছিলেন পুরো চিত্রনাট্য।
কোনো একটি কাজের প্রতি ভালো লাগা কখনও কখনও প্রথম পরিচয়েই তৈরি হয়ে যায়। পরিণীতির ক্ষেত্রেও ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের চিত্রনাট্য ছিল তেমনই এক অভিজ্ঞতা। চিত্রনাট্যটি হাতে পাওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, বই পড়া তার অন্যতম প্রিয় অভ্যাস। তবে পড়তে বসলে মাঝে মাঝে মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। সে কারণে অনেক সময় অন্য কাউকে দিয়ে পড়ে শোনাতে পছন্দ করেন তিনি।
কিন্তু সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও রেনসিল ডি’সিলভা যখন সিরিজটির চিত্রনাট্য পাঠান, তখন পরিণীতি শহরের বাইরে ছিলেন। তার ধারণা ছিল, পুরো চিত্রনাট্য শেষ করতে দু-তিন দিন সময় লাগবে। বাস্তবে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এক বসায় পুরো চিত্রনাট্য পড়ে শেষ করেন তিনি।
শেষ পাতা পড়ার পরই তার মনে হয়েছিল, এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। গল্পের আকর্ষণই তাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল। পাশাপাশি কাজটির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন অভিনেত্রী।
পরিণীতির কথায়, চিত্রনাট্য এতটাই ভালো ছিল যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো কারণই ছিল না। তার সঙ্গে নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ, প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা এবং পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভা মতো অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি তার কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং, পাশে ছিল পুরো পরিবার।
ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের শুটিংয়ের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পরিণীতি। জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে শুটিংয়ের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা তার অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।
অভিনেত্রী জানান, শুটিংয়ের সময় ইউনিটের সবাই তার শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। কাজের পরিবেশে বাড়তি চাপ ছিল না, বরং সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। ফলে শুটিংয়ের সময়সূচি সামলাতেও বড় কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাকে।
পরিবারের সদস্যরাও এই সময়ে পরিণীতির পাশে ছিলেন। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতা। সুখবরটি শোনার পরই রাঘব শিমলায় ছুটে গিয়েছিলেন। পরিণীতির মা, শাশুড়ি এবং ভাইয়েরাও তাকে দেখতে সেখানে পৌঁছে যান।
পরিবারের সবার এমন উপস্থিতি নিয়ে মজার ছলে পরিণীতি বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, তার পুরো পরিবারই বুঝি শুটিংয়ে চলে এসেছে!
সেই সময়ের স্মৃতি মনে করে অভিনেত্রী আরও জানান, তারা মজা করে বলতেন, এই সিরিজ যেমন তার ছেলে নীরের অভিষেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তেমনই ওয়েব দুনিয়ায় তার নিজেরও অভিষেক। তাই কাজটি তার কাছে বরাবরই বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মা হওয়ার পরও কাজের সুযোগ চান পরিণীতি।
মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা পরিণীতির জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। তবে মা হওয়ার কারণে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বরং সন্তান জন্মের পর একজন অভিনেত্রীর কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই তাকে বেশি ভাবায়।
পরিণীতির মতে, মা হওয়া জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার কারণে পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়তে হবে, এমনটা হওয়া উচিত নয়।
তিনি মনে করেন, কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না; অভিনেত্রীদের কাজের প্রস্তাবও পেতে হবে। মাতৃত্বের পরও যদি শুধু মা হওয়ার কারণে কোনো শিল্পী কাজের সুযোগ হারান, তবে তা তার কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক হবে।
বলিউডে মাতৃত্বের পরও নিয়মিত কাজ করে চলেছেন এমন অভিনেত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন পরিণীতি। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং তার দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম।
পরিণীতির মতে, তাদের প্রজন্মের অভিনেত্রীরা মাতৃত্বের পরও নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন, যা আনন্দের বিষয়। প্রিয়াঙ্কা যেমন বলিউডের বাইরেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তেমনই অন্য অভিনেত্রীরাও নিজেদের পেশাগত জায়গা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তারা এখন ভালো কাজ করছেন এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো কাজ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
সংসার, সন্তান, নিজের সময়—সবকিছুরই গুরুত্ব রয়েছে।
কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকেও বরাবর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিণীতি। পরিবার, বন্ধু, ভ্রমণ, ছুটি কাটানো, উৎসব কিংবা একান্তে নিজের জন্য কিছুটা সময়—জীবনের এই ছোট ছোট আনন্দগুলো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তবে মা হওয়ার পর সময়ের হিসাব অনেকটাই বদলে গেছে। এখন নিজের কাজের পাশাপাশি সন্তানের প্রয়োজন এবং পরিবারের দায়িত্বও সমান গুরুত্ব পায়। তাই জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আগের চেয়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিণীতির কাছে সাফল্য মানে শুধু পেশাগত অর্জন নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনদের সময় দেওয়া এবং নিজের ভালো থাকার দিকে নজর রাখা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ছেলের দায়িত্ব মা-বাবার দুজনেরই
রাজনীতির ব্যস্ততায় সময় কাটে রাঘব চাড্ডার, অন্যদিকে অভিনয়, শুটিং ও প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন পরিণীতি। ফলে তাদের ছোট্ট ছেলের দেখাশোনা কীভাবে হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে পরিণীতির উত্তর একেবারেই স্পষ্ট— সন্তানের দায়িত্ব তারা দুজন সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, তারা দুজনেই মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সন্তানের দায়িত্বও দুজনেরই। পরিণীতি যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন রাঘব ছেলের সঙ্গে সময় কাটান। আবার রাঘবের কাজ থাকলে সন্তানের দায়িত্ব সামলান পরিণীতি।
অর্থাৎ, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্বকে তারা একজনের ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং নিজেদের কাজের সময় এবং প্রয়োজন বুঝে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
পরিণীতির কাছে স্বামীর এই সহযোগিতা বিশেষভাবে মূল্যবান। কারণ, অভিনয়ের ব্যস্ততা সব সময় একই রকম থাকে না। কোনো দিন শুটিং বা কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন রাঘবের আশ্বাস তাকে নতুন করে সাহস জোগায়।
পরিণীতি জানান, এমন অনেক দিন যায়, যখন কাজের শেষে তিনি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাঘব তাকে আশ্বস্ত করেন, তিনি নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন, বাকি সব দায়িত্ব তিনি সামলে নেবেন।
স্বামীর এই ভরসা তার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। কারণ, পেশাগত জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে দুজনের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
অভিনয় আর রাজনীতি—দুজনের জগৎ আলাদা
পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডার পেশাগত জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। একজন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, অন্যজন রাজনীতির মানুষ। সংসারে তাদের বোঝাপড়া ভালো হলেও কাজের ক্ষেত্রে একে অপরকে পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস খুব একটা নেই।
রাজনীতির জটিল হিসাব, সংসদীয় বক্তৃতা কিংবা নির্বাচনের বিষয়ে নিজের বিশেষ জ্ঞান নেই বলেই জানান পরিণীতি। তাই এসব বিষয়ে রাঘবকে পরামর্শ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। অন্যদিকে সিনেমার চিত্রনাট্য বা অভিনয়ের জগতেও রাঘবের অভিজ্ঞতা সীমিত।
এই প্রসঙ্গে মজার একটি ঘটনাও শোনান অভিনেত্রী। কোথাও তার নিজের গান বাজছিল, অথচ গানটি যে তারই, তা রাঘবকে আলাদা করে জানাতে হয়েছিল তাকে!
ঘটনাটি বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন পরিণীতি। তার বক্তব্য, কাজের ক্ষেত্রে দুজনের জগৎ আলাদা থাকাই ভালো। একে অপরের পেশাগত পরিসরে অযথা হস্তক্ষেপ না করেও যে ভালো বোঝাপড়া বজায় রাখা যায়, তাদের সম্পর্ক যেন তারই উদাহরণ।
মাতৃত্বের সঙ্গে স্বপ্নের সহাবস্থান
পরিণীতি চোপড়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার গল্পে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় ধরে রাখার দৃঢ় ইচ্ছা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা, পরিবারের সমর্থন এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বাস্তব চিত্র।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর একটাই— মাতৃত্ব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও তা কোনো নারীর পেশাগত স্বপ্নের সমাপ্তি হতে পারে না। একজন নারী একই সঙ্গে মা এবং সফল পেশাজীবী হতে পারেন, যদি তার কাজের সুযোগ থাকে এবং পরিবার ও কর্মক্ষেত্র থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলে।
পরিণীতির কাছে তাই মা হওয়া মানে অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো নয়। বরং জীবনের নতুন দায়িত্বকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা। আর সেই পথচলায় নিজের পরিচয়, ভালোবাসার মানুষদের সময় দেওয়া এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া আইন ও বিধিবিধান, আবেদনকারীদের প্রস্তাব, কারিগরি মূল্যায়ন দলের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এলপিজির দামের বিষয়ে গণশুনানির পর কমিশনে লিখিত মতামত ও প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১ নভেম্বর।
আজ বিইআরসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বেসরকারিভাবে বাজারজাতকৃত এবং সরকারিভাবে সরবরাহিত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ভোক্তা পর্যায়ের দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী এ শুনানির আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুনানিতে রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস পিএলসি, বেসরকারি আবেদনকারী, অপারেটর, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং অটোগ্যাস স্টেশনের প্রতিনিধিরা তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। কমিশন গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন দলও তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পক্ষ থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দাম নির্ধারণের আইনি দিক, কমিশনের দায়িত্ব এবং দাম নির্ধারণে বিবেচ্য বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজনও শুনানিতে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান সফরে গিয়ে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরতে ১৫ সদস্যের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তান হাউসে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাকিস্তান সফর করে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলটি। সফরের সময় ইসলামাবাদে তারা বাংলাদেশের শিল্প, সংগীত ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার জন্য পরিবেশন করেন। প্রতিনিধিদলের পরিবেশনা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
এই ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও ছাপচিত্রশিল্পী মো. আবদুস সাত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সংগীতশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন পিয়াল হাসান, ইশা খান, এথুন বাবু, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন নাসের এবং নাজনীন চৌধুরী। নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিনিধিদলে অংশ নেন ফারহানা চৌধুরী, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আবদুর রশিদ স্বপন এবং গোলাম মোস্তফা।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই সফর দুই দেশের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মধ্যে যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতি বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ইসলামাবাদে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনার প্রশংসা দেশের শিল্প-সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক পরিচিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।
পাকিস্তান হাউসে আয়োজিত সংবর্ধনায় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের সদস্যদের উপস্থিতি এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এ সফরের গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, যুবসমাজ দেশের সম্পদ। নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। তরুণরা যেন বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার শিকার না হন এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাটোরের লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিদেশে বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ‘স্টাডি অ্যাব্রড কনসালটেন্সি জিটি গ্রুপ’।
প্রতিমন্ত্রী পুতুল উল্লেখ করেন, দেশের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তবে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে তরুণদের প্রতারণার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কর্মসংস্থানের উদ্যোগ তরুণদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে, কিন্তু তা যেন ঝুঁকি কিংবা দুর্ভোগের কারণ না হয়।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া সহ উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তরুণদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলে তা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এবং বেকারত্ব নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা, চাকরির চুক্তি, বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় জিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান পার্ক জি ইয়ং, গ্রুপটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহমুদুল হাসান মামুন, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ