শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৮ এম
সারাদিনের কাজ শেষে যখন কেউ ঘরে ফিরে একটু শান্তিতে বসার চেষ্টা করেন, তখন যদি সোফায় ছড়িয়ে থাকা কাপড়, টেবিলে জমে থাকা কাগজপত্র, মেঝেতে পড়ে থাকা খেলনা কিংবা রান্নাঘরের অপরিষ্কার বাসনপত্রের দৃশ্য দেখে বিরক্তি অনুভব করেন, তখন বিষয়টিকে কেবল ঘর পরিষ্কারের ঝামেলা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মানসিক স্বস্তির সঙ্গে চারপাশের পরিবেশের একটি সম্পর্ক বিদ্যমান।
অগোছালো ঘর ও মানসিক চাপের সম্পর্ক
ঘর অগোছালো থাকলে কি সত্যিই মন খারাপ হয়? ২০২৫ সালের আগস্টে Journal of Environmental Psychology সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৫০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা এই গবেষণায় দেখতে পান যে, ঘরের অগোছালো অবস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার মধ্যে একটি নেতিবাচক সম্পর্ক বিদ্যমান। যাঁরা নিজেদের ঘরকে বেশি অগোছালো মনে করেন, তাঁদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতির পরিমাণ বেশি এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি ও মানসিক সুস্থতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।
তবে গবেষণাটি থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে অগোছালো ঘরই মানসিক অশান্তির একমাত্র কারণ। মানসিক চাপের মধ্যে থাকা ব্যক্তির জন্য ঘর গোছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ, সম্পর্কটি দুই দিক থেকেই কাজ করতে পারে।
চোখের সামনে বিশৃঙ্খলা থাকলে মনের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছড়িয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। চাবি কোথায় রাখা হয়েছে, জরুরি কাগজপত্র কোথায় আছে, কিংবা কাপড়ের স্তূপের মধ্যে পছন্দের পোশাকটি খুঁজে পাওয়া—এ ধরনের ছোটখাটো সমস্যাগুলো প্রতিদিনের বিরক্তি বাড়াতে সক্ষম।
অন্যদিকে, যদি কেউ ঘরে ফিরেই অসমাপ্ত কাজের তালিকা দেখে, তাহলে অবসর সময়েও মনে হতে পারে যে অনেক কিছু এখনো করা বাকি। এর ফলে বাড়িতে থেকেও বিশ্রামের অনুভূতি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
ঘরের পরিবেশ কি মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষক ডারবি স্যাক্সবে ও রেনা রেপেত্তির ২০১০ সালের একটি গবেষণায় ৩০ জন দ্বৈত-আয়ের দম্পতির বাড়ির পরিবেশ ও মানসিক অবস্থার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেসব নারী তাঁদের ঘরকে বেশি চাপপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে দিনের সঙ্গে নেতিবাচক মেজাজ বাড়ার সম্পর্ক দেখা গেছে। তাঁদের কর্টিসলের দৈনিক ওঠানামার ধরনও তুলনামূলকভাবে কম খাড়া ছিল, যা কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণাটি ছোট পরিসরের হওয়ায় এর ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে বাড়ির পরিবেশ যে মানুষের মানসিক অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, তা বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
অগোছালো ঘর থেকে অপরাধবোধও তৈরি হতে পারে। অনেকেই ঘর অগোছালো দেখে মনে মনে ভাবেন, ‘এতটুকু কাজও কেন করতে পারছি না?’ কর্মজীবী মানুষ, ছোট সন্তানের অভিভাবক কিংবা যাঁদের ওপর পরিবারের বেশির ভাগ দায়িত্ব থাকে, তাঁদের জন্য ঘর গোছানো আরও একটি অসমাপ্ত কাজের বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
ফলে শুধু ঘরের বিশৃঙ্খলা নয়, নিজের প্রতি বিরক্তি ও অপরাধবোধও তৈরি হতে পারে। অথচ ক্লান্তি, সময়ের অভাব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কিংবা মানসিক চাপের মতো বাস্তব কারণেও ঘর অগোছালো থাকতে পারে। তাই ঘর গোছানো না থাকাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি আমাদের বিশ্রাম, অভ্যাস ও দৈনন্দিন অনুভূতির সঙ্গেও জড়িত। গবেষণায় অগোছালো পরিবেশের সঙ্গে কম মানসিক সুস্থতা ও বেশি নেতিবাচক অনুভূতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে অগোছালো ঘর সরাসরি মানসিক সমস্যার কারণ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো যথেষ্ট নয়।
চলবে....
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উজান বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে একটি কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলে ৫৫টি নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং এক অসাধু জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালিয়াকৈর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার শিলা। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, একটি অসাধু চক্র উজান বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রিং জাল ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে মা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নির্বিচারে নিধন করে আসছিল। খবর পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩৫টি রিং জাল ও ২০টি কারেন্ট জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বিলের অবৈধ বাঁধ ভেঙে দিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, কারেন্ট ও রিং জালের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। মা মাছ ও পোনা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং নিয়মিত নজরদারির দাবি তুলেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। বাংলাদেশও এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মেগাসিটি ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৯ম অবস্থানে রয়েছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৪২, যা শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান স্কোর ওঠানামা করতে পারে।
তালিকার শীর্ষে থাকা সৌদি আরবের রিয়াদের বাতাসে দূষণের মাত্রা আবারো ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ২১৭, যা রিয়াদবাসীর জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’।
এদিকে, বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর তালিকায় পাঁচটি দেশ রয়েছে। এই দেশগুলো হলো- পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের মুম্বাই, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, চীনের সাংহাই ও ইরাকের বাগদাদ।
বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১১ দেশের বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। এই দেশগুলো হলো- কাজাখস্তানের আলমাতি, পাকিস্তানের করাচি, উজবেকিস্তানের তাসকান্ত, কঙ্গোর কিনসাসা, চীনের গুয়াংজু ও হাংজু, ভিয়েতনামের হেনোয় ও হো চি মিন সিটি, নেদারল্যান্ডসের রোটারদাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েতের কুয়েত সিটি।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য জানায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। এই প্রতিষ্ঠানটি বায়ুমান সূচক বা একিউআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে বাতাসের মানকে বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে ধরা হয়।
বায়ুদূষণ বাড়লে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এই অবস্থায় দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেয়া হয়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বাইরে গেলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, ফলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। চূড়ান্ত ভোট গণনার ফলাফলে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট ৪৮টি আসন লাভ করেছে। এ অবস্থায় ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ৬১ আসনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন নিয়ে নেসেটের বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান করছে। তবে বৃহত্তম দল হওয়ার পরও জোটের আসনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন যৌথ তালিকা ও রা’আম দলের সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধী জোট যদি আরব দলগুলোর সমর্থন পায়, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনে সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। যৌথ তালিকার নেতা আহমেদ তিবিও বিরোধী শিবিরের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেসেটের স্পিকার নির্বাচনে বিরোধীদের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে। স্পিকার নির্বাচন ও সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই সমর্থন বিরোধী শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আরব দলগুলো সরাসরি সরকারে যোগ না দিলেও সংসদে বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে। তবে সরকার গঠনের সমীকরণ শেষ পর্যন্ত দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং জোটের শর্ত নিয়ে আলোচনা নির্ভর করবে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আরব দলগুলো নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের অখণ্ডতা বজায় ছিল। বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের সন্দেহ নিয়ে তদন্তের খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই তদন্তের কারণে ঘোষিত ফলাফল পরিবর্তিত হবে না।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, আরব দলগুলোর নির্বাচনী সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক বৈধতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্মিলিত ১৯টি আসন তাদের সংসদীয় প্রভাবের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির মামলাগুলো এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার আগে ও পরে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে জবাবদিহির দাবি তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে ক্ষমতা হারালেই এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিণতি নিশ্চিত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
যদি দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হয়, তবে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। আপাতত সরকার গঠনের আলোচনা, আরব দলগুলোর অবস্থান এবং বিরোধী জোটের ঐক্যই নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না। তথ্যসূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, এপি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার গায়ের রং ও শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে প্রবীণ অভিনেতা আন্নু কাপুরের মন্তব্যের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে। অনেকেই আন্নু কাপুরের মন্তব্যকে আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এতদিন পর, তামান্না ভাটিয়া সেই বিতর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে চান না। বর্তমানে তাঁর মনোযোগ নিজের কাজ এবং অভিনয়জীবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নিবদ্ধ রয়েছে।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তামান্না মন্তব্য করেন, একজন সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য অন্যের কথা শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, কোন কথাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং কোনটি এড়িয়ে যেতে হবে, সেই বোধও থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তামান্নার মতে, ‘একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শোনা। কিন্তু কী শুনছি, তার মধ্যে কোনটা গ্রহণ করব আর কোনটায় কান দেব না, সেটা বোঝাও জরুরি।’
এ ধরনের বিতর্কে মনোযোগ দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কেও নিজের মতামত প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করি, তাহলে হয়তো জীবনে এগিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে।’
আন্নু কাপুরের মন্তব্য তাঁকে কতটা প্রভাবিত করেছে, সে বিষয়ে তামান্না স্পষ্ট করে জানান, তিনি এসব নিয়ে ভাবতে চান না। বরং, নিজের কাজের দিকেই মনোযোগী থাকতে পছন্দ করেন।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমি এসব বিষয় দেখিই না। আমি আমার কাজের দিকে মন দিই। কী তৈরি করতে চাই, কীভাবে আমার অভিনয়জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, সেদিকেই নজর রাখি।’
শুধু অভিনয় নয়, তামান্না তাঁর কাজকে মানুষের প্রতি এক ধরনের সেবা হিসেবেও দেখেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কাজের পেছনে সৎ উদ্দেশ্য থাকলে তা মানুষের কাছে পৌঁছায়।
যে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
গত বছর, তামান্নার ‘আজ কি রাত’ গানের দৃশ্য নিয়ে আলোচনার সময় আন্নু কাপুর তাঁর গায়ের রং ও শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মাশাআল্লাহ! কী দুধের মতো ফর্সা শরীর!’
তবে, প্রশংসার পাশাপাশি প্রবীণ এই অভিনেতা তামান্নাকে উদ্দেশ করে আরও কিছু মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্যগুলোকে আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন।
সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতে এবার নিজের অবস্থান জানালেন তামান্না। তবে, অন্যের মন্তব্য নিয়ে পড়ে না থেকে নিজের কাজেই মনোযোগী থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ