প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সততা ও সত্যকে সমুন্নত রেখে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।
তিনি মন্তব্য করেন, সাংবাদিকতায় প্রতিযোগিতা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গতি বা তাড়াহুড়ার চেয়ে সত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
রোববার বাসস কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার জেলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের গনি চৌধুরী এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সাংবাদিকরা অনেক সময় অন্যের আগে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন, যা সাংবাদিকতা এবং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তিনি যে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তথ্য যাচাইয়ের (ফ্যাক্ট-চেকিং) গুরুত্ব তুলে ধরে বিশিষ্ট এই সাংবাদিক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রচুর ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সাধারণ পাঠক বা দর্শকরা যাতে সহজেই বিশ্বাস করেন- এমনভাবে বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে।
তবে একজন সাংবাদিককে অবশ্যই তথ্যের উৎস যাচাই এবং সত্য অনুসন্ধান করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এটিই মূল পার্থক্য।
খবর সবার আগে প্রচারের তাড়াহুড়ায় অনেক গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে বলেও অভিযোগ করেন কাদের গনি চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কিংবদন্তি সাংবাদিক আতাউস সামাদ জীবিত থাকা অবস্থাতেই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল তার মৃত্যুর খবর প্রচার করেছিল। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকতার পেশার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকতাকে সত্যের সাধনা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মিথ্যার সঙ্গে কখনও আপস না করাই সাংবাদিকতার মূল নীতি।
বাসসের জেলা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একসময় মানুষ বাসস সাংবাদিকদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখত। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাসস এখন অনেক তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়মিত প্রকাশ করছে।
জেলা প্রতিনিধিদের নিজ এলাকা থেকে আরও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি এবং সংবাদের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রতিনিধিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, তারা অত্যন্ত স্বল্প বেতনে কাজ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সভাটি সঞ্চালনা করেন বাসসের প্রধান প্রতিবেদক (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন। এ ছাড়া সভায় বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ফজলুল হক, প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. মানিকুল আজাদ, প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) মুরসালিন নোমানী এবং অডিও-ভিজুয়াল ইনচার্জ তাহমিনা নুপুর জেলা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাসসের সিটি এডিটর হারুন আল নাসিফ, ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ শারমিন জাহান অজান্তা এবং প্রধান প্রতিবেদক (বাংলা) দিদারুল আলম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন