০৪:২৮ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য, জলজ জীববৈচিত্র্যের টেকসই সংরক্ষণ এবং জাতীয় আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আজ থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং আড়ৎ বা খুচরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই আইনি নির্দেশনা আজ ১ নভেম্বর থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর ইলিশ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদি মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত ২২ দিনের সফল ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ এর ফলে নদীতে যে কোটি কোটি নতুন ইলিশের পোনা জন্ম নিয়েছে, সেগুলো এখন উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় বিচরণ করছে।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২০ বছরের তরুণ নিহত, আহত ৩
জৈবিক পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, নভেম্বর মাসের শুরুতে ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার আকারের এই পোনাগুলো প্রতি মাসে গড়ে ৩ থেকে ৩.৫ সেন্টিমিটার করে বড় হয়। এই ৮ মাস সময়কালে সেগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদে বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে আগামী মে-জুন মাসের মধ্যে সেগুলো ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪০০ গ্রাম ওজনের পূর্ণাঙ্গ ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ‘ইলিশে’ পরিণত হবে।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, এই আট মাস মেয়াদে ২৫ সেন্টিমিটার (বা ১০ ইঞ্চি) সাইজের চেয়ে ছোট ইলিশ (জাটকা) ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং আড়ৎ বা খুচরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল, মশারি জাল ও সুতা জালের ব্যবহার বন্ধে নদীগুলোতে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রবিধান লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালা মোতাবেক কঠোর শাস্তির আইনি বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন
এর মধ্যে রয়েছে— সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। অপরাধের মাত্রাভেদে বিজ্ঞ আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয় সাজাই একসাথে প্রদান করতে পারেন।
আইন অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদানের জন্য নদী তীরবর্তী জেলা ও উপজেলাগুলোতে মৎস্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখা হয়েছে।
আইনটি মাঠ পর্যায়ে শতভাগ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে মৎস্য অধিদপ্তরের সাথে দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদরদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাদের বিশেষ কমান্ড টিম গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় নদী মোহনায় বড় জাহাজ ও স্পিডবোট নিয়ে সার্বক্ষণিক টহলে নিয়োজিত রয়েছে। একই সাথে নৌ পুলিশ দেশের ৬টি নদী অভয়াশ্রমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখবে।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে
স্থলপথের চেকপোস্ট, মাছের আড়ৎ, পাইকারি বাজার ও কোল্ড স্টোরেজগুলোতে জাটকার অবৈধ পরিবহন ও মজুত রুখতে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে।
জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকাকালীন নদী অববাহিকার নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ খাদ্য নিরাপত্তা সচল রাখতে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি (ভিজিএফ চাল বরাদ্দ) নিশ্চিত করেছে।
এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রধান ইলিশ-প্রবণ ২০টি জেলার ৯৬টি উপজেলার লক্ষাধিক কার্ডধারী নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদান করা হবে।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, আশ্বিনের ২২ দিনের মা-ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি নদীতে ইলিশের শতভাগ ‘জন্ম’ নিশ্চিত করে, আর ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া ৮ মাসের জাটকা রক্ষা আইন ইলিশের ‘বেড়ে ওঠা ও পরিপক্বতা’ নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুন: হজের কোটা ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি হাবের
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন