ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে


২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে

মন্ত্রিসভা ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে। আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের জন্য অনুমোদিত মোট ২৯ দিন ছুটির মধ্যে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।

আরও পড়ুন: বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শিগগিরই এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌলভীবাজারে ‘জিন্নী মুমিনের’ নামে প্রতারণায় ৪ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


মৌলভীবাজারে ‘জিন্নী মুমিনের’ নামে প্রতারণায় ৪ জন গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় ‘জিন্নী মুমিনের’ নামে অভিনব কৌশলে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে স্বর্ণালংকার।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা, হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন, জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য এবং হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া।

সোমবার (২ নভেম্বর) বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রথমবার গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তার অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী মুমিন দ্বারা সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে পারবেন না। যদি কাউকে এ বিষয়টি জানান, তাহলে তার ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

ওসি আরও জানান, রোকিয়া বেগম ছেলের সুস্থতার জন্য তার কথায় বিশ্বাস করেন। ফলে বসতঘরের পেছনের ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর দেখতে পান স্বর্ণালংকারগুলো নেই। বিষয়টি জানতে অজ্ঞাত নারীকে ফোন দিলে তাকে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। তবে এক মাসের মধ্যেই তার ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকারগুলো ফিরে পাবেন।

গত ১৬ অক্টোবর একই নারী পুনরায় ফোন করে আরও স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে জানায়। তবে তাদের ভয় দেখায় যে এবার যদি স্বর্ণালংকার না রাখেন, তাহলে তার ছেলে পাগল হয়ে যাবে। এ সময় আরও জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত দেয়া হবে। রোকেয়া বেগম তার ছেলের ক্ষতির কথা ভেবে দ্বিতীয়বার আবারও একই স্থানে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। তবে আবারও দেখতে পান স্বর্ণালংকার নেই।

এভাবে দুই দফায় রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এর আনুমানিক বাজার দর ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

এ ব্যাপারে রোকেয়া বেগম ১ নভেম্বর (রোববার) বড়লেখা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সেইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি।

পুলিশ বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে।

সোমবার (০২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানালেন, এর আগে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ১ দফার অধীনে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকেই তা উত্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয় এবং তা অনুমোদন লাভ করে।

লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং বা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে এটি এখন বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান নাসিমুল গনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলিবাবায় যুক্ত হলো স্টেপের জুতা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য নতুন সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


আলিবাবায় যুক্ত হলো স্টেপের জুতা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য নতুন সুযোগ

বাংলাদেশের ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড স্টেপ ফুটওয়্যার আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিশ্বখ্যাত বিটুবি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আলিবাবা ডট কমে ভেরিফায়েড সাপ্লায়ার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য, ব্র্যান্ড পরিচিতি ও উৎপাদন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর ঢাকার উত্তরায় স্টেপ ফুটওয়্যারের প্রধান কার্যালয়ে আলিবাবা ডট কমের বাংলাদেশি অফিসিয়াল চ্যানেল পার্টনার ম্যাক্সিমো ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম কবির এবং ম্যাক্সিমো ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা নাঈম হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান, পরিচালক আয়মান জামান এবং ম্যাক্সিমো ইন্টারন্যাশনালের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিড মুস্তাক-উল আলমসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আলিবাবা ডট কমে ভেরিফাইড সাপ্লায়ার হিসেবে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে স্টেপ ফুটওয়্যার আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আমদানিকারক, পাইকারি ক্রেতা ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম কবির এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, ‘আলিবাবা ডট কমের মতো আন্তর্জাতিক বিটুবি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া স্টেপ ফুটওয়্যারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে আমাদের পণ্য ও ব্র্যান্ড পরিচিতি তুলে ধরার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশাবাদী, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্যবসায়িক পরিসর আরও সম্প্রসারিত হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল হারলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল হারলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসবে

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ৩ নভেম্বর। এই নির্বাচনের ফলাফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরকে প্রভাবিত করবে।

ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসন বাড়াতে হবে রিপাবলিকানদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা উল্টে দিতে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ২১৮-২১৪ এবং সিনেটে ৫৩-৪৭। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু সিনেটের প্রতিযোগিতা এখনও কঠিন।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচন ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, যদি ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণও পায়, তবুও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং ব্যাপক নির্বাহী কর্তৃত্ব বজায় থাকবে। এর ফলে বড় ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা সীমিত থাকবে।

বিশ্লেষক, রাজনৈতিক কৌশলবিদ এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ২০২৭ সালে ঋণসীমা বাড়ানো এবং সরকারি অর্থায়ন নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিতে পারে।

নিচে সম্ভাব্য প্রধান পরিস্থিতি এবং সেগুলো ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি, কংগ্রেস ও অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরা হলো।

ডেমোক্র্যাটরা সিনেট নয়, প্রতিনিধি পরিষদে জিতলে

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ৫ থেকে ২০ আসন

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ, সমন জারির ক্ষমতা এবং ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার সুযোগ পাবে।

কংগ্রেসের সমনের মুখে পড়া ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তা অমান্য করতে পারেন। কারণ, ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগ (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) এসব সমন কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

শুল্কনীতি, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং ব্যাপক নির্বাহী কর্তৃত্ব বজায় থাকবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত ২০ অক্টোবর বলেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের কর্মসূচি আটকে দেয়ার ক্ষেত্রে ‘তেমন কিছু’ করতে পারবে না।

সিনেটে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের অধিকাংশ অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ আটকে দেবে।

স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভপাতের অধিকার, আবাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ডেটা সেন্টার নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রতীকী বা জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে কিছু বিল পাস করতে পারবে। তবে সেগুলোর কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

২০২৭ সালে ঋণসীমা, বাজেট এবং সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিতে পারে।

প্রভাব: শুনানি ও সমন জারির মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। তবে নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। বিশ্লেষকদের ধারণা, গ্রীষ্মের মধ্যেই ঋণসীমা নিয়ে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যা আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে। গত দুই বছরে কংগ্রেসকে অনেকাংশে পাশ কাটিয়ে যেভাবে ট্রাম্প তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন, আগামী দিনেও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারেন।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ২১ থেকে ৪০ আসন

নেতৃত্বের হাতে দলীয় ভিন্নমত সামাল দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।

নতুন নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যা বাড়বে। তাদের মধ্যে প্রগতিশীল রাজনীতির সমর্থকরা বেশি থাকলে ট্রাম্পকে অভিশংসনের দাবিও জোরালো হতে পারে।

শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের মতো ইস্যুতে কিছু রিপাবলিকান ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন। জনমত জরিপে এসব বিষয়ে ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষ দেখা গেছে।

ডেমোক্র্যাটদের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাজেট ও ঋণসীমা নিয়ে আলোচনায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী করবে। ফলে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছাড় আদায় সহজ হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভপাতের অধিকার এবং জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত বিল পাসের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ভোট বাড়বে এবং সিনেটের রিপাবলিকানদের কঠিন অবস্থানের মুখে পড়তে হবে।

প্রভাব: মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা, ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করা এবং ডেটা সেন্টারবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন বিল পাস করতে পারে। তবে সিনেটে রিপাবলিকানদের বাধা এবং ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতার কারণে বড় ধরনের আইনগত পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।

ট্রাম্প নির্বাহী পদক্ষেপের মাধ্যমে তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে পারবেন। পাশাপাশি ঋণসীমা নিয়ে বিরোধের আশঙ্কাও থাকবে।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে জয় এবং সিনেটে সমান ৫০-৫০ আসন পেলে

সিনেটে রিপাবলিকানরাই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে। কারণ, সমান ভোট হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিদ্ধান্তমূলক ভোট দিতে পারবেন।

পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান এবং কয়েকজন মধ্যপন্থি রিপাবলিকানের মতো নিজ দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, এমন কয়েকজন সিনেটর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে পারেন।

ঋণসীমা ও বাজেট নিয়ে বিরোধ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। কারণ, কোনো দলই নিজ দলের সদস্যদের ভোট হারানোর ঝুঁকি নিতে চাইবে। ফলে অল্প কয়েকজন সিনেটরের হাতেই সমঝোতা চূড়ান্ত করা বা বিলম্বিত করার ক্ষমতা চলে যেতে পারে।

প্রভাব: ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। অর্থনৈতিক, বিচার বিভাগীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে অল্প কয়েকজন সুইং সিনেটরের ভোটই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করতে পারে। ভ্যান্সের সিদ্ধান্তমূলক ভোটের কারণে ট্রাম্প তার মনোনীত ব্যক্তিদের সিনেটে অনুমোদন করিয়ে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে শুল্কনীতি, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্তগুলো অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণহীন থাকবে।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষে জিতলে

শুধু প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। কারণ, বিচারপতি নিয়োগ, মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ এবং রাষ্ট্রদূত মনোনয়নের অনুমোদন সিনেটের হাতে থাকে।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ২ আসন

ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের কমিটি এবং অধিবেশনের কার্যসূচির নিয়ন্ত্রণ পাবে।

তারা ট্রাম্পের মনোনীত অনেক বিচারপতির নিয়োগ আটকে দিতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে কোনো পদ শূন্য হলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত সেই পদ পূরণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারে।

জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর আগে রিপাবলিকানরা দ্রুততার সঙ্গে নিজেদের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা ও নির্বাহী কর্তৃত্ব বজায় থাকবে। ‘ফিলিবাস্টার’ নামে সিনেটের একটি নিয়মের কারণে অধিকাংশ বিল পাস করতে ৬০টি ভোট প্রয়োজন হয়। এই নিয়মের মাধ্যমে সংখ্যালঘু দল কোনো বিল আটকে দিতে বা বিলম্বিত করতে পারে। ফলে বড় ধরনের আইন পাস করা কঠিনই থাকবে।

উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের ঋণসীমা ও বাজেট নিয়ে আলোচনায় দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াবে। তবে আর্থিক অচলাবস্থার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

প্রভাব: ট্রাম্পের নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। তবে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ফিলিবাস্টার নিয়ম এবং ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতার কারণে বড় ধরনের আইনগত সাফল্য সীমিত থাকবে।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ৪ থেকে ৬ আসন

দলীয় নেতৃত্ব আর একক কোনো সিনেটরের ওপর অতটা নির্ভরশীল থাকবে না। কয়েকজন সদস্য ভিন্নমত দিলেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

শুল্কনীতি, ডেটা সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা বিল পাসের চেষ্টা করতে পারবে। এসব বিল ট্রাম্পের সামনে পাঠানো হলে তাকে ভেটো দিতে হতে পারে।

এ ধরনের ভেটো-সংক্রান্ত রাজনৈতিক লড়াই ২০২৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া অনেকাংশে থমকে যেতে পারে।

প্রভাব: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং ডেটা সেন্টার নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাটদের বিল পাসের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে রিপাবলিকানদের ওপর চাপও বাড়বে।

তবে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে থাকবে। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ভোটাররা শুধু ট্রাম্পের বিরোধিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানেও ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করবে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পও রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের সামনে দাঁড় করানোর সুযোগ পাবেন। ওয়াশিংটনের ব্যর্থতার দায় ডেমোক্র্যাটদের ঘাড়ে দিতে পারবেন এবং অর্থনৈতিক সমস্যা ও উচ্চমূল্যের জন্য তাদের দায়ী করতে পারেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ৮ বা তার বেশি আসন

ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে স্পষ্ট জনসমর্থন পাওয়ার দাবি করতে পারবে। তারা বলতে পারে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের শাসনব্যবস্থার প্রতি ভোটাররা অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

সরকারি অর্থায়ন ও ঋণসীমা নিয়ে রিপাবলিকান এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনায় ডেমোক্র্যাটরা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। কারণ, সংশ্লিষ্ট বিল পাসের জন্য তাদের হাতে পর্যাপ্ত ভোট থাকবে।

তবে ‘ফিলিবাস্টার’ অতিক্রম, প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল কিংবা প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে অভিশংসন করলে সিনেটে তাকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো পর্যাপ্ত ভোট ডেমোক্র্যাটদের থাকবে না।

প্রভাব: ডেমোক্র্যাটদের দর-কষাকষির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা, ফিলিবাস্টার এবং অর্থনীতির জন্য যৌথ রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার কারণে শাসন পরিচালনায় তাদের ক্ষমতা সীমিত থাকবে।

রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে

প্রতিনিধি পরিষদে অনেক রিপাবলিকান সদস্যের আসন ঝুঁকির মুখে থাকায় এই পরিস্থিতি তুলনামূলক কম সম্ভাব্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একেবারে অসম্ভব নয়।

প্রভাব: ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা তার প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরের জন্য নতুন করে জনসমর্থন পাওয়ার দাবি করতে পারবেন।

ওয়াশিংটনের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকায় ট্রাম্প আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারবেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তার ওপর বাধা আসবে খুব কম। বিচারপতি মনোনয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের প্রক্রিয়াও তিনি অব্যাহত রাখতে পারবেন।

এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বাজেটসংক্রান্ত বিরোধ, সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং ঋণসীমা নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা কমে আসবে।

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%