প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্পেনে গত সপ্তাহে সংঘটিত দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ৬৯ জনের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক এবং কানাডা, জাপান, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একজন করে নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এ তথ্য দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত বুধবারের এই দুর্ঘটনাটি চলতি শতাব্দীর ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মরদেহের বিচ্ছিন্ন অংশ পরীক্ষা করেও পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। এদিকে, স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা তাদের জন্য আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য গঠিত পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আইনি সংস্থা রোববার গভীর রাতে সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া ১০ বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে ফ্রান্স ও পর্তুগালের একজন করে নাগরিক এবং স্পেনের ৫৪ জন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহত ৬৯ জনের মধ্যে তিনজন ব্যতীত বাকি সবার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তিনজনের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তাদের মধ্যে দুজন অস্ট্রেলিয়ার এবং একজন জাপানের নাগরিক।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো সরাসরি স্পেনে এসে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তকরণের জন্য স্পেনে আসতে চান। তাঁদের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।’
চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। পরপর এ ধরনের দুর্ঘটনা দেশটির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উর্দা গ্রামের কাছে। এ সময় রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেন একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার পর স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কাজ করায় ওই রেলপথের ৬৩ কিলোমিটার এলাকায় সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে রেনফের ট্রেনটিকে আবার যাত্রা শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও ইরিওর ট্রেনটি তখনো একই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট নেতা পেদ্রো সানচেজ তার আট বছরের শাসনকাল আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে তার দল প্রতিকূল অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন