০৯:৪৪ পি.এম
মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় ‘জিন্নী মুমিনের’ নামে অভিনব কৌশলে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে স্বর্ণালংকার।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা, হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন, জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য এবং হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া।
সোমবার (২ নভেম্বর) বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন
তিনি জানান, প্রথমবার গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তার অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী মুমিন দ্বারা সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে পারবেন না। যদি কাউকে এ বিষয়টি জানান, তাহলে তার ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
ওসি আরও জানান, রোকিয়া বেগম ছেলের সুস্থতার জন্য তার কথায় বিশ্বাস করেন। ফলে বসতঘরের পেছনের ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর দেখতে পান স্বর্ণালংকারগুলো নেই। বিষয়টি জানতে অজ্ঞাত নারীকে ফোন দিলে তাকে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। তবে এক মাসের মধ্যেই তার ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকারগুলো ফিরে পাবেন।
গত ১৬ অক্টোবর একই নারী পুনরায় ফোন করে আরও স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে জানায়। তবে তাদের ভয় দেখায় যে এবার যদি স্বর্ণালংকার না রাখেন, তাহলে তার ছেলে পাগল হয়ে যাবে। এ সময় আরও জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত দেয়া হবে। রোকেয়া বেগম তার ছেলের ক্ষতির কথা ভেবে দ্বিতীয়বার আবারও একই স্থানে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। তবে আবারও দেখতে পান স্বর্ণালংকার নেই।
এভাবে দুই দফায় রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এর আনুমানিক বাজার দর ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে
এ ব্যাপারে রোকেয়া বেগম ১ নভেম্বর (রোববার) বড়লেখা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সেইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি।
পুলিশ বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন