ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দিরা পেটে ইয়াবা নিয়ে ঢোকার চেষ্টা


চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দিরা পেটে ইয়াবা নিয়ে ঢোকার চেষ্টা

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে ঢোকার চেষ্টা করছে। গত কয়েক মাসে অন্তত ৩০ জনকে এইভাবে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। একজন বন্দির পেট থেকে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে, পেটের ভেতরে ক্যাপসুল ফেটে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং তিন স্তরের তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে।

কারাগারের প্রবেশপথে বন্দিদের জন্য কঠোর দেহ তল্লাশি চলছে। মুখের ভেতর থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিটি বন্দিকে ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফায় তল্লাশি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালত থেকে কারাগারে আসা বন্দিদের এইভাবে পরীক্ষা করা হয়। মূলত, কারাগারের ভেতরে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে এই কড়াকড়ি করা হচ্ছে। তবে পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে কারাগারে ঢোকার চেষ্টা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি বিএম-ভোকেশনালে পাসের হার ৪৯.৪৩ শতাংশ

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন, আসামিরা ইয়াবা খেয়ে পেটের ভেতরে নিয়ে আসে। এ ছাড়া মলদ্বারসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে মাদক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তারা যেকোনোভাবে মাদক কারাগারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে সেবনের সুযোগ নিতে চায়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তল্লাশি করায় বন্দিদের পেটের ভেতরে থাকা ইয়াবার চালান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও, গত কয়েক মাসে অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে কয়েক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

কালো টেপে মোড়ানো প্রতিটি ক্যাপসুলে ৫০ পিস ইয়াবা থাকে। একজন বন্দি এক থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি ক্যাপসুল পেটের ভেতরে নিয়ে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে এসব ক্যাপসুল পেটের ভেতরে ফেটে গেলে বন্দির প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এ ধরনের মাদক শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন। তারপরও, কারাগারের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে তিন স্তরের তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পেটের ভেতরে থাকা একটি ইয়াবার ক্যাপসুলও ফেটে গেলে সংশ্লিষ্ট বন্দির মৃত্যু নিশ্চিত।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে সিএনজির ধাক্কায় কৃষকদল নেতা আবদুল মালেক নিহত

বড় চালান জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা করা হচ্ছে। তবে ছোট চালানের ক্ষেত্রে কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২০০ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দির সংখ্যা ৭ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি অন্তত সাড়ে ৩ হাজার। কারা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই কারণে কারাগারের ভেতরে মাদক পাচারের চেষ্টা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক মামলার আসামিদের জন্য পৃথক কারাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক আইনের মামলার আসামিদের জন্য আলাদা কারাগার প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কারা অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. ছগির মিয়া জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্রুত একটি নারকোটিক কারাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। সাধারণ বন্দিদের কাছ থেকে মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার বন্দিদের আলাদা রাখা গেলে তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রম সহজ হবে।

সাধারণ বন্দিদের কারাগারে আনার দিনই রাতে ওয়ার্ড বা সেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে পেটের ভেতরে ইয়াবা থাকার সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের অন্তত দুই দিন আলাদা করে রাখা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় সফলতাও পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: তাহসিফের বাবার দাবি, 'আমার ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাই'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহসিফের বাবার দাবি, 'আমার ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাই'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


তাহসিফের বাবার দাবি,

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেছেন, "আমি আমার ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাই।"

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফের বাসভবনে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এনায়েতুল করিম বলেন, "গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আমার ছেলে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। ওর মাকে জানায়, তার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসবে। এরপর আমার ছেলে আর ফিরে আসেনি। পরদিন সন্ধ্যার আগে নৌ পুলিশ আমাকে ফোন করে জানায়, তার মরদেহ পাওয়া গেছে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায়। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।"

তিনি জানান, "গত শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলার অভিযোগ করেছি। ছেলের মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আবেদন জানিয়েছি।"

তাহসিফের বাবার মতে, "মানুষের বিপদে তাহসিফ ছুটে যেতেন। সে অত্যন্ত মেধাবী একজন পাইলট, একজন কমিশন্ড অফিসার ছিল। সে অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র ছিল। সবার সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্কও ছিল। আমরা সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। আমার ছেলেও ছিল অনুরূপ। যে কারও সমস্যা শুনলে ছুটে যেত। যেকোনো মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকত। আমার সেই ছেলের সঙ্গে এমন ঘটনা একেবারেই মেনে নিতে পারছি না।"

তিনি আরও বলেন, "দীপের সঙ্গে আমার ছেলের বেশ কিছুদিন ধরে সম্পর্ক। বাসায় আসা-যাওয়া এবং খাওয়া-দাওয়া করত। সেদিন ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর আমার ছেলে আর ফেরেনি। পুলিশের তদন্তের সামান্য কিছু দেখেছি। সেখানে টঙ্গীতে যাওয়ার বিষয়টি দীপ স্বীকার করেছে। কিন্তু দীপ আমাকে বলেছিল, আমার ছেলেকে আমাদের ভবনে রেখে গিয়েছিল। এসব বিষয় আসলে প্রশ্নবিদ্ধ। আমি জানি না, এ ঘটনার সঙ্গে কে জড়িত বা কে কী করেছে।"

এনায়েতুল করিম বলেন, "আমরা চাই, রাষ্ট্র তার বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে প্রকৃত তদন্ত করুক এবং কেউ জড়িত থাকলে তাকে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনুক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই প্রত্যাশা করি।"

এ সময় রাওয়ার যুগ্ম সম্পাদক আবু নওরোজ খুরশিদ আলম বলেন, "এ ধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। আর যেন এর পুনরাবৃত্তি না হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। তাহসিফের পরিবারের পাশে আছে রাওয়া।"

এর আগে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।

গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

এদিকে ঘটনার দিন মধ্যরাত পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে থাকার আলোচনায় আসার পর দীপকে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআই। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। যা তাহসিফের বলে নিশ্চিত করেন দীপ। পরে তুরাগ নদেও অভিযান চালায় পিবিআই।

পিবিআই দীপের বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতি যাচাই করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে তাহসিফের বাবার করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা, যুবক গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা, যুবক গ্রেফতার

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ। এই ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী যুবক নাজমুল ইসলাম বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে টঙ্গীর পাগার আলেক টেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে নাজমুলের বাড়ির ওপর নজরদারি চলছিল। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে বাড়িতে গড়ে তোলা ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া নাজমুল ইসলাম বাপ্পি দাবি করেছেন, প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর তিনি ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। এরপর ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজেই ইয়াবা তৈরি শুরু করেন।

স্থানীয়দের মতে, নাজমুল ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। কয়েক বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগদ টাকার ব্যবহারে ব্যয় বাড়ছে, ডিজিটাল লেনদেনে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


নগদ টাকার ব্যবহারে ব্যয় বাড়ছে, ডিজিটাল লেনদেনে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নগদ টাকার ব্যবহারে ব্যয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নোট ছাপানো, পরিবহন এবং ব্যবস্থাপনার খরচ মিলিয়ে নগদ লেনদেনে প্রতি বছর মাথাপিছু ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৩৮ টাকা। নাগরিকদের খরচ কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকছে।

তবে, অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থার এই যুগে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে প্রান্তিক জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিদিন লেনদেনে ব্যবহৃত কাগজের নোটের পেছনে আসলে কত খরচ হচ্ছে? টাকা ছাপানো, নোটের স্থায়িত্ব, ব্যবহার, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার খরচ মিলিয়ে একজন মানুষের বার্ষিক নগদ লেনদেনের মাথাপিছু ব্যয় ৯ হাজার ৯৩৮ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘দ্য কস্ট অব ক্যাশ স্টাডিজ ইন বাংলাদেশ: অ্যা কম্পারেটিভ অ্যানালাইসিস অব ক্যাশ অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে দেশে নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয় দেশের জিডিপির ৩ দশমিক ২৪ শতাংশের সমান, যা চলতি অর্থবছরের মোট ঘাটতি বাজেটের ৭০ শতাংশ।

অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার বার্ষিক ব্যয় ছিল মাত্র ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেন পরিচালনায় ব্যাংকগুলোর বছরে ব্যয় হয় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ।

এ-সংক্রান্ত ভোক্তাদের বার্ষিক ব্যয় ২৮ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নগদ ব্যবস্থাপনায় বছরে খরচ হয় ৪০০ কোটি টাকা।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় নগদ লেনদেনের ব্যয় ২৮ গুণ বেশি। ফলে নগদ টাকার ব্যবহার ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, নভেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানও সমানভাবে কাজ করছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় প্রান্তিক জনগণকে যুক্ত করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। টাকা ছাপানোর পেছনে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা প্রাথমিকভাবে প্রান্তিক মানুষের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যয় করা প্রয়োজন। এতে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা ও টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন, ডিজিটাল সেবা পৌঁছালেও প্রান্তিক জনগণ অনেক ক্ষেত্রে এর সুবিধা নিতে পারছে না। এর কারণ তাদের সক্ষমতা ও আর্থিক সামর্থ্যের অভাব। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ছায়া অর্থনীতির কারণে সরকার বছরে ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। নগদ লেনদেনের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় নগদ লেনদেনের খরচ ১২ গুণ বেশি বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জের আলেম মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমীর ইন্তেকাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


কিশোরগঞ্জের আলেম মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমীর ইন্তেকাল

কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও কুলিয়ারচর উপজেলার গাইলকাটা জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুমের মুহতামিম মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমী ইন্তেকাল করেছেন। "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।"

মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স আনুমানিক ৫৫ থেকে ৫৬ বছর ছিল। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, ছাত্র ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমী ছিলেন একজন সজ্জন, পরোপকারী ও নিবেদিতপ্রাণ আলেম। দ্বীনি শিক্ষার খেদমতের পাশাপাশি তিনি মানুষের কল্যাণে সবসময় এগিয়ে আসতেন। তাঁর ইন্তেকালে স্থানীয় আলেমসমাজ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মহান আল্লাহ তাআলা মরহুমের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবরে জামিল দান করুন। "আমিন।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%