০২:২৪ পি.এম
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে ঢোকার চেষ্টা করছে। গত কয়েক মাসে অন্তত ৩০ জনকে এইভাবে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। একজন বন্দির পেট থেকে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে, পেটের ভেতরে ক্যাপসুল ফেটে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং তিন স্তরের তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে।
কারাগারের প্রবেশপথে বন্দিদের জন্য কঠোর দেহ তল্লাশি চলছে। মুখের ভেতর থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিটি বন্দিকে ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফায় তল্লাশি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালত থেকে কারাগারে আসা বন্দিদের এইভাবে পরীক্ষা করা হয়। মূলত, কারাগারের ভেতরে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে এই কড়াকড়ি করা হচ্ছে। তবে পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে কারাগারে ঢোকার চেষ্টা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি বিএম-ভোকেশনালে পাসের হার ৪৯.৪৩ শতাংশ
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন, আসামিরা ইয়াবা খেয়ে পেটের ভেতরে নিয়ে আসে। এ ছাড়া মলদ্বারসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে মাদক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তারা যেকোনোভাবে মাদক কারাগারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে সেবনের সুযোগ নিতে চায়।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তল্লাশি করায় বন্দিদের পেটের ভেতরে থাকা ইয়াবার চালান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও, গত কয়েক মাসে অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে কয়েক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
কালো টেপে মোড়ানো প্রতিটি ক্যাপসুলে ৫০ পিস ইয়াবা থাকে। একজন বন্দি এক থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি ক্যাপসুল পেটের ভেতরে নিয়ে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে এসব ক্যাপসুল পেটের ভেতরে ফেটে গেলে বন্দির প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এ ধরনের মাদক শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন। তারপরও, কারাগারের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে তিন স্তরের তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পেটের ভেতরে থাকা একটি ইয়াবার ক্যাপসুলও ফেটে গেলে সংশ্লিষ্ট বন্দির মৃত্যু নিশ্চিত।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে সিএনজির ধাক্কায় কৃষকদল নেতা আবদুল মালেক নিহত
বড় চালান জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা করা হচ্ছে। তবে ছোট চালানের ক্ষেত্রে কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২০০ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দির সংখ্যা ৭ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি অন্তত সাড়ে ৩ হাজার। কারা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই কারণে কারাগারের ভেতরে মাদক পাচারের চেষ্টা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক মামলার আসামিদের জন্য পৃথক কারাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক আইনের মামলার আসামিদের জন্য আলাদা কারাগার প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কারা অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. ছগির মিয়া জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্রুত একটি নারকোটিক কারাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। সাধারণ বন্দিদের কাছ থেকে মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার বন্দিদের আলাদা রাখা গেলে তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রম সহজ হবে।
সাধারণ বন্দিদের কারাগারে আনার দিনই রাতে ওয়ার্ড বা সেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে পেটের ভেতরে ইয়াবা থাকার সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের অন্তত দুই দিন আলাদা করে রাখা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় সফলতাও পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: তাহসিফের বাবার দাবি, 'আমার ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাই'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন