০২:১৯ পি.এম
তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের এই মামলাটি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা হয়।
থানার ডিউটি কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন যে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এই মামলাটি তদন্ত করবে নৌ-পুলিশ। তাহসিফের ব্যবসায়িক পার্টনার এবং এলাকার ছোট ভাই শাহরিয়ার রেজ দীপের বিষয়েও নৌপুলিশ তদন্ত করছে।
নৌ-পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেয়া হয়। পরে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পকেটে থাকা আইফোনে একটি কল এলে তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তাহসিফের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠন; সভাপতি আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রাসেল সরকার
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফেরেন। কিছু সময় পর দ্বীপ নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তিনি আবার বাসা থেকে বের হন। এরপর ২৮ অক্টোবর তিনি ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে শেষ একটি খুদে বার্তা পাঠান, কিন্তু তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
এদিকে, ঘটনার দিন মধ্যরাত পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে থাকার আলোচনায় আসার পর দীপকে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই দীপকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা তাহসিফের বলে নিশ্চিত করেন দীপ।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পিবিআই তার বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতি যাচাই করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজশাহী বোর্ডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন