ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মুফতি তাকি উসমানি ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন


মুফতি তাকি উসমানি ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন

মুসলিম বিশ্বের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং ফকিহ মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বাংলাদেশ সফরে আসার কথা জানিয়েছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজধানীর শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও শাইখুল হাদিস মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ।

তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী ২২ নভেম্বর রোববার বাদ জোহর রাজধানীর কাওলা নামাপাড়ায় শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে ১৫ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি আরও কয়েকটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন: মসজিদভিত্তিক শিক্ষাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার নির্দেশ ধর্মমন্ত্রীর

মুফতি তাকি উসমানি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিত, আইনবিদ, বিচারক এবং দেওবন্দি আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় (লাহোর) থেকে আরবি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন (১৯৭০)। আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি করাচির দারুল উলুম থেকে ইসলামি শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং হাদিস, ফিকহ ও তাসাউফে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।

১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বেঞ্চের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি ফেডারেল শরিয়ত কোর্টের বিচারক ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়াউল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামি আদর্শ কাউন্সিলের (Council of Islamic Ideology) সদস্য হিসেবে কাজ করেন এবং হুদুদ অধ্যাদেশ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি (জেদ্দা) এবং বাহরাইনভিত্তিক ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ও নিরীক্ষা সংস্থার (AAOIFI) শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, দারুল উলুম করাচির শাইখুল হাদিস ও নায়েবে মুহতামিম হিসেবে কাজ করছেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুফতি তাকি উসমানি আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিং ও সুদবিহীন অর্থব্যবস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। তিনি মিযান ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন: কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষায় আলেম-উলামাদের ছয় দফা প্রস্তাব

তিনি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় ১৪৩টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:

১. ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসীর (তাওযীহুল কুরআন)।

২. সহিহ মুসলিমের ওপর ৬ খণ্ডের আরবি শরিহ গ্রন্থ ‘তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম’।

৩. ইসলামি বাণিজ্যিক আইন ও অর্থনীতি নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ফিকহুল বুয়ূ’।

আরও পড়ুন: সুরা নাবার ফজিলত: কিয়ামত ও পরকালের শিক্ষা

৪. ‘উসূমুল কুরআন’ ও ‘আপ্রোচ টু দ্য কুরআনিক সায়েন্সেস’।

ইসলামে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাকে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ পদকে ভূষিত করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের দ্বিতীয় দিনেই অনিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের দ্বিতীয় দিনেই অনিয়ম

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটে ছয়টি কোম্পানির অধীনে ৭৮০টি বাস চলাচল করছে। এসব বাস নির্দিষ্ট রঙয়ে সাজানো হয়েছে এবং কোম্পানিগুলো এগুলো পরিচালনা করছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে ওঠানো এবং নামানোর ক্ষেত্রে এখনও পুরোনো বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান রয়েছে।

নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামানো, সারিবদ্ধভাবে যাত্রী ওঠানো এবং টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও, দ্বিতীয় দিনেই নানা অনিয়ম দেখা গেছে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করলেও যাত্রী তোলা হচ্ছে যত্রতত্র। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পুরোনো বাস দিয়ে কতটা কার্যকর হবে এই উদ্যোগ।

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নতুন উদ্যোগ ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। এতে নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী নেয়ার কথা ছিল 'ভিআইপি' বাসের।

তবে আজিমপুর এলাকায় দেখা যায়, সিগনাল ছাড়াই দ্রুত রাস্তা পার হচ্ছিল 'ভিআইপি' পরিবহনের একটি বাস। হাতের ইশারায় বাসের গতি মন্থর করে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে বাসে উঠছেন। অথচ সেখানে বাসের নির্ধারিত কোনো স্টপেজ ছিল না।

আজিমপুর থেকে গাজিপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া 'ভিআইপি' পরিবহন এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া 'সিটি সার্ভিস' বাস যথাসময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়। তবে কোনো বাসেই আলাদা টিকেটিং সিস্টেম ছিল না। মালিক পক্ষের বক্তব্য, পুরোপুরি রেশনালাইজেশন পদ্ধতি অনুসরণ করতে তাদের আরও সময় প্রয়োজন।

পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো বাস দিয়ে শুধু কোম্পানিভিত্তিক চলাচল শুরু করলেই প্রকৃত রুট রেশনালাইজেশন সম্ভব নয়। আধুনিক বাস, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায় ব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন শনাক্তকরণ, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

তিনি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের উপকূলে জলদস্যুতা কমেছে প্রযুক্তি ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


বাংলাদেশের উপকূলে জলদস্যুতা কমেছে প্রযুক্তি ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে

মুন্সী সহিদুল ইসলাম রানা

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান, টহল বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় জলদস্যুতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

জেলে, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার যৌথ অভিযান, আধুনিক সামুদ্রিক নজরদারি এবং জীবিকায়ন সহায়তা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করেছে। এর ফলে উপকূলের বন ও জলজ সম্পদনির্ভর জনগণের জন্য একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে উঠেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জেলেদের সুরক্ষায় পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড (বিসিজি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বন বিভাগ একত্রে কাজ করছে।

‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে জলদস্যুদের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করার জন্য গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ও নিয়মিত টহল পরিচালিত হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বাসসকে জানান, জলদস্যুপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী, পুলিশ, নৌ-পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বিজিবি, বন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড।

তিনি আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ওয়াকিটকি, দূরবীক্ষণ যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরে ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর ৫১ সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। গত ৩০ অক্টোবর শুরু হওয়া পাঁচ মাসব্যাপী শুঁটকি মৌসুমে দুবলার চর, আলোরকোল এবং কটকাসহ আশপাশের জলপথে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় থাকবে।

জলদস্যুদের হুমকির সম্মুখীন হলে জেলে ও ব্যবসায়ীদের কোস্টগার্ডের জরুরি হটলাইন ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, এসআরবি-৬-এর কমান্ডার নিস্তার আহমেদ জানান, ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর ৭৪ সদস্য এলিট ফোর্সটির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

খুলনা বিভাগের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, জেলেদের গভীর সমুদ্র বা বনের দুর্গম এলাকায় একা না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতে ১৫ থেকে ২০টি নৌকার দলবদ্ধ বহর নিয়ে চলাচলে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বন বিভাগের সদস্য মোতায়েন থাকবে।

উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক টহল জাহাজ, স্পিডবোট, রাডার, জিপিএস এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। কক্সবাজার, মহেশখালী এবং কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপহৃত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত এবং মুক্তিপণের লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধানে ড্রোন প্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ সহায়তা করছে।

তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও বিচ্ছিন্নভাবে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটছে।

গত ১২ অক্টোবর সুন্দরবনের শিবসা নদীর আরবনিয়া খাল এলাকায় সম্রাট বাহিনীর অপহৃত চার জেলেকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিন মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের জেলে শাহাবুদ্দিন ব্যাপারী বাসসকে বলেন, সরকারি এ সহায়তা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কমিয়েছে।

শরণখোলা উপজেলার বনজীবী রমজান আলী বলেন, আগে জলদস্যুদের আতঙ্ক নিয়ে তাদের বনে যেতে হতো। গত মৌসুমে তার দলের কয়েকজন সদস্য জিম্মি হওয়ার পর প্রত্যেককে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে হয়েছে।

দক্ষিণ বেদকাশীর জেলে জব্বার মোল্লা বলেন, গত ৩০ অক্টোবর ৪০টি মাছ ধরার নৌকার একটি বহর দুবলার চরে পৌঁছেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা তাদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) মহাপরিচালক কমডোর (অব.) সৈয়দ মেসবাহ উদ্দিন আহমদ সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় সম্পদ সুরক্ষায় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, জলদস্যুতা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই হুমকি নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, পর্যটন এবং বন সংরক্ষণের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে।

সাবেক এই নৌ-কর্মকর্তা ও গবেষক বলেন, উপকূলে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোপন তথ্যদাতাদের সুরক্ষা, সহজ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগের ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগের ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম আজ জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগের আওতায় আসা সাতজন হলেন- সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পর্যটন মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, "এই সাতজন আসামী (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানে অবস্থান করে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে। আমরা এভিডেন্স জমা দিয়েছি।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%