০৮:৩৫ পি.এম
সুরা ইখলাস পবিত্র কুরআনের একটি ফজিলতপূর্ণ সুরা। প্রতিটি মুসলমানের জন্য সুরা ইখলাস মুখস্থ থাকা আবশ্যক। এই সুরার পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। একবার এই সুরা পাঠের মাধ্যমে পূর্ণ কুরআন পাঠের এক-তৃতীয়াংশের সওয়াব অর্জন করা যায়।
এটি পবিত্র কুরআনের অন্যতম ছোট সুরা হিসেবে পরিচিত। মক্কায় এটি অবতীর্ণ হয়েছে। এর রুকু ১ এবং আয়াত ৪। এটি ১১২তম সুরা। এই সুরায় মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেওয়ার পর, আল্লাহর সন্তানসন্ততি আছে বলে যে ভুল ধারণা করা হয়, তার প্রতিবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ সব অভাবের অতীত এবং তাঁর কোনো তুলনা নেই। এই সুরায় আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তার অনুপম ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
সুরা ইখলাস পাঠের অসামান্য ফজিলত
আরও পড়ুন: যানবাহনে নামাজ আদায়ের নিয়ম ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। নামাজে তিনি যখন তার সাথীদের নিয়ে ইমামতি করতেন, তখন ইখলাস সুরাটি দিয়ে নামাজ শেষ করতেন। অভিযানে ফিরে এসে তারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষয়টি আলোচনা করেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকেই জিজ্ঞেস করো কেন সে এই কাজটি করেছে? তারা যখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি উত্তর দিলেন, "এ সুরাটিতে মহান আল্লাহর গুণাবলি রয়েছে। এ জন্য সুরাটি পড়তে আমি ভালোবাসি।" তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।" (বুখারি: ৭৩৭৫)
বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমাদের কেউ কি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়তে অপারগ হয়ে যাবে?" সাহাবিরা বললেন, "এক-তৃতীয়াংশ কীভাবে পড়বে?" নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সুরা ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।" (মুসলিম: ৮১৩)
সুরা ইখলাসের ফজিলত অসংখ্য। সুরা ইখলাস যিনি ভালোবাসবেন, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। হাদিসে উল্লেখ আছে, এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, "আমি এই সুরাকে ভালোবাসি।" রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।" (মুসনাদে আহমদ: ৩/১৪১)
সুরা ইখলাস আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জের আলেম মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমীর ইন্তেকাল
قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ اَللّٰهُ الصَّمَدُ لَمۡ یَلِدۡ وَ لَمۡ یُوۡلَدۡ وَ لَمۡ یَکُنۡ لَّهٗ کُفُوًا اَحَدٌ উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ। ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।
অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও ওপর মুখাপেক্ষী নন বরং সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তাঁর কোনো সন্তান নেই এবং তিনি কারও সন্তানও নন এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন