ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৭ জন আটক


নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৭ জন আটক

নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানার এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ৩৭ জনকে আটক করেছে। শনিবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যার ফলে আটককৃতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ৩৭ জনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বের একটি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৩৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

থানাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় সাত, কোম্পানীগঞ্জে পাঁচ, কবিরহাটে চার, বেগমগঞ্জে পাঁচ, সেনবাগে দুজন, সোনাইমুড়ীতে সাত, চরজব্বরে তিন এবং হাতিয়ায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধের জন্য অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে পর্যটক রিয়াজ আহমেদ নিখোঁজ, দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


সুন্দরবনে পর্যটক রিয়াজ আহমেদ নিখোঁজ, দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি সন্ধান

বঙ্গোপসাগরের পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মো. রিয়াজ আহমেদ (২৮) এর সন্ধান দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনভর কোস্ট গার্ড দুবলা স্টেশন ও বন বিভাগের সদস্যরা সাগরের বিভিন্ন স্থানে তার উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আলোরকোল সমুদ্র সৈকতে গোসল করার সময় প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যান রিয়াজ। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার কাঠালী পশ্চিমপাড়ার আবুল বাষার ঢালীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলী স্টেশন থেকে তিন দিনের পাস নিয়ে ১৯ জন পর্যটকসহ ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম-২’ নামের একটি কাঠের তৈরি লঞ্চ সুন্দরবনে প্রবেশ করে। বিভিন্ন এলাকা ভ্রমণের পর শুক্রবার দুপুরে লঞ্চটি দুবলার চরের আলোরকোলে নোঙর করে।

লঞ্চ থেকে ট্রলারে চড়ে পর্যটকরা সৈকতে গোসল করতে নামেন। সেখানে রিয়াজসহ তিনজন সমুদ্রে গোসল করতে নামলে সাগরের ঢেউ ও স্রোতের টানে রিয়াজ হঠাৎ তলিয়ে যান। তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি দেখে অন্য পর্যটকরা ডাক-চিৎকার শুরু করেন।

পরে আলোরকোল শুঁটকি পল্লির জেলেরা দ্রুত ট্রলার নিয়ে উদ্ধার কাজে নামলেও রিয়াজকে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন ও বন বিভাগের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। তবে রাতের অন্ধকার এবং প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

আলোরকোল শুঁটকি পল্লির রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির শেখ জানান, পর্যটকরা সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় ঢেউয়ের তোড়ে একজন তলিয়ে যান। জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তার কোনো হদিস মেলেনি।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই কোস্ট গার্ডের টহল দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

সুন্দরবন বিভাগের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সদস্যরা যৌথভাবে সম্ভাব্য বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের নাগরিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


প্রথম বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের নাগরিক

পাকিস্তানের একজন নাগরিক প্রথমবারের মতো বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন। তিনি দেশটির পরবর্তী ‘শেনঝৌ-২৪’ মিশনে অংশগ্রহণ করবেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) চীনের মহাকাশ সংস্থা (সিএমএসএ) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান। এই অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানি নভোচারীদের চীনা সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

চীনের ম্যানড স্পেস এজেন্সি (সিএমএসএ) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, মনোনীত পাকিস্তানি নভোচারী মূলত একজন ‘পে-লোড স্পেশালিস্ট’ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি চীনা মিশন ‘শেনঝৌ-২৪’-এর ক্রুদের সঙ্গে মহাকাশ স্টেশনে যাবেন।

সংস্থাটি আরও জানায়, তিনি অল্প সময়ের জন্য কক্ষপথে অবস্থান করবেন এবং পরবর্তী সময়ে গত মে মাসে তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে যুক্ত হওয়া ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তবে এই মিশনটি ঠিক কোন তারিখে শুরু হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই মহাকাশ অভিযানটি পরিচালিত হতে পারে।

সিএমএসএ তাৎক্ষণিকভাবে নভোচারীর নাম প্রকাশ না করলেও, গত এপ্রিলে চীনের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত দুই পাকিস্তানি নভোচারী মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদের নাম জানিয়েছিল বেইজিং।

চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের চুক্তির অধীনে চীনে কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে পাকিস্তানি নভোচারীরা আগামী কয়েক বছর ধরে চীনা ক্রুদের সঙ্গে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি মিশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, বেইজিং বিগত কয়েক বছর ধরে তাদের মহাকাশ গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে। দেশটির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানব মিশন পাঠানো এবং এর মাধ্যমে এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানো। বহু বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানকেই মহাকাশ গবেষণার অন্যতম অংশীদার হিসেবে চীন বেছে নিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন

টালিউডের সেরা নায়িকাদের মধ্যে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নাম প্রথম সারিতে থাকবে। বাংলা সিনেমায় কাজ করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করা গুণী এই অভিনেত্রী। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) তার জন্মদিন।

১৯৭০ সালের এই দিনে কলকাতায় তার জন্ম হয়। কলকাতার কার্মেল কনভেন্ট স্কুলে শিক্ষাজীবন শেষ করে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

১৯৮৯ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’-এর মাধ্যমে ছোটপর্দায় তার অভিনয় শুরু হয়। সেখান থেকেই তিনি বড়পর্দায় নিজের স্থান তৈরি করতে থাকেন। ৯০-এর দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্ধশতাধিক সিনেমায় সফল ক্যারিয়ার গড়ে তিনি টালিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেডি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন।

সময় পরিবর্তনের সাথে বাংলা সিনেমার ভাষা এবং দর্শকের রুচি বদলেছে, নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এসেছেন। কিন্তু নিজের অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছেন। অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে তিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

কলকাতার শিল্পী হলেও ঋতুপর্ণা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার কাজের ক্ষেত্র বলিউড থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত।

ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত সিনেমা ‘দহন’। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় তিনি এক ধর্ষিতা গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিনেমার জন্য ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ঋতুপর্ণা।

বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক ঘরানার সিনেমায় সমানভাবে উজ্জ্বল ও দ্যুতি ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,

"আমি থামতে জানি না, থামতে চাই না, আমাকে থামানো যাবে না।"

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল ও আলোচনা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তিনি আজও একই উদ্যমে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে চলছেন। অভিনয়ের মতো তার ব্যক্তিগত জীবনও তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সঞ্জয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই অভিনেত্রী। দুই সন্তান অঙ্কন ও রিশোনা নিয়াকে নিয়ে তার সুখের সংসার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিহত তিতাসের বাড়িতে শোক জানাতে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


নিহত তিতাসের বাড়িতে শোক জানাতে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করার জন্য দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। টেকনাফে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

শনিবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিহত তিতাস শেখের বাড়িতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত হন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। এরপর তিনি নিহতের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, "তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সাহসী সৈনিক ছিলেন। মানব পাচারকারীদের গুলিতে আমরা তাকে হারিয়েছি। এই মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ, তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু।"

মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অবস্থান তা অত্যন্ত দৃঢ়।" তিনি জানান, মানব পাচারকারীদের শনাক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট দেশ-বিদেশে সক্রিয়। তিনি বলেন, "যেসব রুটে তারা বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে যাচ্ছি।"

এছাড়া, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার ডিসিদের সঙ্গে মানব পাচার সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সেখানে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "ডিসি-ইউএনওদের দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা যেন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে দালালচক্রকে গ্রেফতার করে।" বিদেশে নিখোঁজ ও আটক ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, "গত ১৭ বছরে আমরা বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ লর্ড মাফিয়াদের দেখেছি, যারা এই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মানব পাচারকারীদের দমন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।"

তিনি বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। শুধু দেশেই নয়, এই চক্র দেশের বাইরেও রয়েছে। দেশে এবং বিদেশে সব জায়গাতেই আমরা সোচ্চার রয়েছি।"

তিনি যোগ করেন, "মানব পাচারকারীদের কারণে তিতাসের মতো সাহসী সৈনিকরা শহীদ হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও স্বাভাবিকভাবে বিদেশে যেতে পারছে না। এ কারণে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।"

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, নিহতের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে অভিযানকালে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল শেখের ছেলে। পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি মেজো সন্তান ছিলেন। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নানির পাশের কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%