০৭:৪৯ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, সরকার হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সরকার এটি হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছে।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দেশের নাগরিকদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে হজযাত্রীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল আটকে রেখেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জনের বিপরীতে এক লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল সংরক্ষণ করা হয়।
বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস জেদ্দা, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে। তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দেওয়া বিপ্লব ১২ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার
ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরতের কোনো নজির ছিল না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ হজ অফিস- জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সমন্বয়ের ফলে শেষ পর্যন্ত অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার ‘নুসুক’ (Nusuk) সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে।
এ সাফল্যের জন্য সৌদি সরকার, বিশেষ করে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের হজযাত্রীদের কল্যাণে সৌদি সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানালেন বাসসের প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২০২৬ সালের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনায় বিমানভাড়াসহ ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হজযাত্রীদের হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, সেবার মান বাড়ানো এবং তাদের অর্থের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের কোনো হজযাত্রীর আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও জনবান্ধব, সাশ্রয়ী ও সুশৃঙ্খল করতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: পাইওনিয়ার ব্যাংকের নিলামে বিক্রি হওয়া ২৬৮ শতাংশ জমি হস্তান্তর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন