০৩:৫৫ পি.এম
রংপুর, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : বর্ষা মৌসুমের বিদায়ের পর হেমন্তকাল শুরু হয়েছে। কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে আগাম নবান্নের ফলে। নদ-নদীর পানি কমেছে, কিন্তু বিভিন্ন নদীর অববাহিকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। একের পর এক এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অন্যান্য অবকাঠামো নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।
তিস্তাপাড়ের পরিস্থিতিও একই রকম। অব্যাহত ভাঙনের ফলে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি এবং রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশসাল এলাকায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ২৭টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে তাদের স্বপ্নের আমন ধান কেটে গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বাসস’কে জানান, "পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ সময় কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না।"
আরও পড়ুন: সড়কের উন্নয়ন কাজ তদারকিতে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। কোথাও নদী গর্ভে চলে গেছে বসতভিটা, কোথাও ভাঙনের মুখে রয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরের দিকে ধাবিত হয়।
স্থানীয়দের মতে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই চরের ২৭টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন— বাবর আলী, গোলাপী বানু, গোলজার হোসেন, নুর ইসলাম, মতিয়ার রহমান, আহাদ আলী, জহুরা বেগম, আসাদুল ইসলাম, আব্দুল হক, মইনুল ইসলাম, শাহ আলম, নজু মিয়া, মোন্নাফ আলী, আবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, দুলু মিয়া, নুরুল ইসলাম, নাজমুল হক, ঝন্টু, বেলাল, ওমরসহ অন্যান্যরা। ভাঙন-আতঙ্কের কারণে অনেকে ঘরবাড়ি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৫০ একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় তারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, "কয়েক বছর ধরে জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরে বসবাস করে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। হঠাৎ তিস্তার স্রোতের গতিপথ চরের দিকে চলে গেলে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করে।"
আরও পড়ুন: কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উন্নয়নের তাগিদ পর্যটনমন্ত্রীর
লক্ষ্মীটারী ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বাসস’কে বলেন, "কয়েক দিন ধরে চল্লিশসাল এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছে। তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বাসস’কে জানান, "তিস্তার ভাঙনে বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তা দেয়া হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।"
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বাসস’কে বলেছেন, "বন্যার পর হঠাৎ করে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে ভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আরও পড়ুন: নাটোরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আখ মাড়াই ৩০ অক্টোবর শুরু
লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বাসস’কে বলেন, "তিস্তার বাম ও ডান তীরে ভাঙন তীব্র হওয়ায় কৃষক বাধ্য হয়ে আমন ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সাড়ে ১৭ বিঘা জমির আমন ধান কাঁচাই কেটেছে কৃষক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন