১০:৫৭ পি.এম
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এই উপলক্ষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: দুই দশকের বন্ধন, স্মৃতির টানে মিলনমেলা: চাঁদপুরে বি.এন.ডি. ফোরামের ২০ বছর পূর্তি উৎসব
রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেদিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হয় এবং জাতীয় সংহতির নতুন ভিত্তি তৈরি হয়।
বক্তব্যে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি ফ্রান্সে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দূতাবাসের সেবাকে আরও জনবান্ধব করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসীদের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সংহতি বজায় রেখে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: যশোরে ইঞ্জেকশন পুশ করে হত্যা, মরদেহ নদীতে ফেলা
আলোচনা পর্বে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁরা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদ্যাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এ উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যের চেতনা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দলমত-নির্বিশেষে দেশের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁরা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা, প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাঁদের আরও কার্যকর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ফের বিক্ষোভের চেষ্টা, পুলিশ সতর্ক
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন