ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়


৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়

ইতিহাসের গতিপথ কখনো সরলরেখায় চলে না; মাঝে মাঝে তা মোড় নেয়, রক্তস্নাত অলিগলি অতিক্রম করে রাষ্ট্র ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সুনির্দিষ্ট বাঁকে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ছিল তৎকালীন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়-পরবর্তী সংকটময় ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও অবিনাশী অধ্যায়। ৭ই নভেম্বর কেবল একটি নির্দিষ্ট তারিখ নয়; এটি ছিল ইন্দো-পাক উপমহাদেশের আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক নকশা ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তূরীভেদী জাতীয় জাগরণ। এই কারণে বাংলাদেশের মানুষ ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, পরবর্তী চার বছরে ভুল শাসননীতি, দুঃশাসন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) এবং সার্বিক সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার অশুভ আঁতাতের কারণে তা গভীর সংকটে নিপতিত হয়। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ছিল বাঙালির আজন্ম লালিত মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আত্মপরিচয় ও মর্যাদার সাথে বিশ্বের বুকে স্বতন্ত্র পরিচয়ে মাথা উঁচু করে অস্তিত্ব জানান দেয়ার যে যুগযুগান্তরের স্বপ্ন বাঙালি লালন করেছে, সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ছিলো স্বাধীনতার প্রত্যাশা ও চেতনা। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তার সে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ভঙ্গ হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। শাসকদল আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, লুটপাট, দুর্নীতি, নির্যাতনের স্টিম রোলার মানুষকে বছর পার না হতেই মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করে। শাসক ও সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয় ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈষম্য, গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক মানবাধিকার হরণ, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ, একদলীয় অগণতান্ত্রিক বাকশালী শাসন, দলীয় পেটুয়া ও রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, নারকীয় ও বিভৎস হত্যাযজ্ঞ, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সর্বোপরি মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া সিপাহী বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও এদেশের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী আমজনতা যখন অনুভব করল যে- লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা এবং প্রিয় মাতৃভূমি আজ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে চলেছে, ঠিক তখনই সিপাহী- জনতার ঐক্যের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস ছিল মুজিববাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপশক্তির আধিপত্যবাদকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এনেছিল এদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে। আজ এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের একান্ন বছর (৫১ বছর) পূর্তিতে দাঁড়িয়ে আমাদের অত্যন্ত নির্মোহ এবং সুগভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন-কীভাবে সেদিন রক্ষিত হয়েছিল এ ভূখণ্ডের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।

৩রা নভেম্বরের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনীতে চরম বিভ্রান্তি

স্বাধীনতার পর একটি আধিপত্যবাদী শক্তি চায়নি বাংলাদেশ শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। তাই সেনাবাহিনীকে দুর্বল রেখে শক্তিশালী প্যারা মিলিটারি ফোর্স রক্ষীবাহিনী গঠন করেছিল। ফলে সেনাবাহিনীর মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র অসন্তোষ। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, খাদ্যসংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী তাদের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ব্রিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের নেতৃত্বে একটি উচ্চাভিলাষী ও বিভ্রান্তিকর সেনা অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। ৩রা নভেম্বরের এই অভ্যুত্থানের পেছনের অদৃশ্য চালিকাশক্তি ছিল বিদেশি আধিপত্যবাদী প্রভুদের গোপন নির্দেশ। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে জাতীয়তাবাদী ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি বিশেষ পরাশক্তির অশুভ বলয়ে ঠেলে দেওয়ার কুৎসিত নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ছিলেন একজন সৎ, নীতিবান, পেশাদার এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় সেনা কর্মকর্তা। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, সেনাবাহিনীতে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করলে তা দেশের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে। তিনি চক্রান্তকারীদের অসাংবিধানিক পদক্ষেপে সায় না দেওয়ায় তাঁকে নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি করা হয়।

সাংবাদিক ও বিখ্যাত গবেষক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (Anthony Mascarenhas) তাঁর বহুল পঠিত গ্রন্থ 'Bangladesh: A Legacy of Blood' (১৯৮৬)-এ তৎকালীন পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে লিখেছেন, ৩রা নভেম্বরের ক্যু কোনো জনমুখী অভ্যুত্থান ছিল না; এটি ছিল একটি উচ্চাভিলাষী সামরিক পদক্ষেপ যা সাধারণ সৈনিকদের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। জিয়াউর রহমানের গৃহবন্দিত্ব সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়, কারণ তারা তাঁকে জাতীয় সম্মান ও সামরিক সততার প্রতীক মনে করত। ৩রা নভেম্বর থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, তা সাধারণ সিপাহী এবং এদেশের ধর্মপ্রাণ দেশপ্রেমিক জনগণের মধ্যে এই স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেয় যে, এদেশকে আবারও বিদেশি আধিপত্যবাদের কলোনিতে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার

সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও জিয়াউর রহমানের মুক্তি: ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন

৬ই নভেম্বর দিবাগত রাতে অর্থাৎ ৭ই নভেম্বরের প্রথম প্রহরে ঢাকা সেনানিবাসের সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার এক অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটে। সিপাহীরা 'নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার' এবং 'সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, জিয়াউর রহমানের মুক্তি চাই' স্লোগানে রাজপথ ও ব্যারাকে মুখরিত করে তোলে। অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সাধারণ সিপাহীরা তাদের প্রিয় জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে আনে। মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান যখন সেনানিবাসে বের হয়ে এলেন, হাজার হাজার সাধারণ সৈনিক ও সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘিরে উল্লাসে ফেটে পড়ে। জিয়াউর রহমান কোনো ক্ষমতার লোভ বা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে এগিয়ে আসেননি; বরং সিপাহী ও জনতার আস্থাই তাঁকে দেশের সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে স্থান করে দেয়। সেনানিবাসের সিপাহীদের বিপ্লবের খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঢাকা শহরে। সাধারণ জনগণ রাজপথে নেমে আসে। সিপাহী এবং জনতা একে অপরকে কোলাকুলি করে, ট্যাংকের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা উড়ায় এবং আধিপত্যবাদ-বিরোধী স্লোগান দেয়। ইতিহাসে সিপাহী ও জনতার এমন রক্তপাতহীন ও স্বতঃস্ফূর্ত গণবিপ্লবের নজির বিরল।

সেই রাতের ঘটনাবলির বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ পিএসসি। তার বর্ণনায়, "বিপ্লবীর এবং সেপাইরা বিভিন্ন ইউনিট থেকে বেরিয়ে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জিয়ার বাসভবনের চারপাশে সমবেত হতে থাকে। সবারই লক্ষ্যস্থল ছিল জিয়ার বাসভবন। সবাই সেখানে একত্র হয়ে দুর্গ ভেঙে বন্দী জিয়াকে বের করে আনবে, এই ছিল পরিকল্পনা”। (তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে: কর্নেল (অব.) এম.এ. হামিদ, পিএসসি, হাওলাদার প্রকাশনী, ত্রয়োদশ সংস্করণ, ২০২৪, পৃষ্ঠা- ১৫৮ দ্রষ্টব্য)। মুক্তিযুদ্ধকালীন জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, উঁচুমানের পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও সততার কারণে তিনি সেই অস্থির মূহূর্তে সেনা ও অফিসারদের ভরসার চূড়ান্তস্থলে পরিণত হয়েছিলেন। সেকারণে তাঁকে সেনা সদস্যরা মুক্ত করে অস্থির সময় থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন।

দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতির প্রখ্যাত মার্কিন গবেষক লরেন্স লিফশুলজ তাঁর আলোচিত গ্রন্থ 'Bangladesh: The Unfinished Revolution' বইয়ে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, ৭ই নভেম্বরের ভোরের আলো ফোঁটার আগেই হাজার হাজার সৈনিক এবং বেসামরিক জনতা ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। ট্যাংকগুলো জনগণকে দমন করতে বের হয়নি, বরং সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ফুল দিয়ে সজ্জিত হয়ে রাজপথে নেমেছিল।

আরও পড়ুন: মীর হেলাল: ৭ নভেম্বরের চেতনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল প্রেরণা

৭ই নভেম্বর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিপাহী-জনতা সেই পতাকাকে উঁচিয়ে ধরেছিল, নত হতে দেয়নি। কেননা এই রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে পদানত করার ষড়যন্ত্র ছিলো সবার অলক্ষে। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে '৭৫-এর সেই অস্থির সময়ে বাংলাদেশ বহুমুখী ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। জিয়াউর রহমানের নাম শুনেই দেশবাসী মুক্তির ভরসা পায়। নেমে আসে রাস্তায়। লেখক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ এ ব্যাপারে লিখেছেন, "আমজনতা পথের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লাস করে, হাততালি দেয় এবং অনেকে জীবনে প্রথমবারের মতো ট্যাংকে বা সেনাবাহিনীর ট্রাকে চড়ে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ান।” (ইতিহাসের বাঁকবদল, একাত্তর ও পঁচাত্তর, মহিউদ্দিন আহমদ, পঞ্চম মুদ্রণ, মার্চ-২০২৩, পৃষ্ঠা- ১২০ দ্রষ্টব্য)। কেবল আম জনতা নয়, দেশের সর্বপর্যায়ের এলিট শ্রেণিও তখন জিয়াউর রহমান নামের মধ্যেই তাদের ভরসা খুঁজে পান। সাবেক জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসানের বর্ণনায় তার প্রমাণ মেলে। "জিয়ার ক্ষমতাগ্রহণকে দেশের জন্য বর্তমান অবস্থার সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর বলে সকলেই অভিমত প্রকাশ করলাম।” (১৯৭৫ সাল, সৈয়দ আলী আহসান, বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, চতুর্থ মুদ্রণ, অক্টোবর, ২০২১, বাংলাবাজার, ঢাকা, পৃষ্ঠা- ১৫৯ দ্রষ্টব্য)।

আধিপত্যবাদের পরাজয় ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ

১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশকে একটি পুতুল রাষ্ট্র বা 'Satellite State'-এ পরিণত করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত পরাজয়। ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ নীতিতে যেভাবে প্রতিবেশী দেশের অনুকম্পা ও আধিপত্য চেপে বসেছিল, ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব সেই শৃঙ্খলকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। ৭ই নভেম্বরের অভ্যুত্থান আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের সেই শক্তিকে চূড়ান্তভাবে ভেঙে দেয় যা জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশকে গ্রাস করার হুমকি দিচ্ছিল। এটি বাংলাদেশকে কোনো অনুগত প্রভু রাষ্ট্র নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম অনুঘটক হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে। ৭ই নভেম্বরের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, এদেশের জনগণ কারো দাসত্ব মেনে নেওয়ার জন্য লক্ষ শহীদের রক্তে স্বাধীনতা অর্জন করেনি। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তিনি 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়' এবং বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব, চীন ও পশ্চিমাদের সাথে সমতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করেন। ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক মর্যাদাপূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান: সামরিক আইন প্রশাসক থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক দিন: দুলু

৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব জিয়াউর রহমানকে এক ঐতিহাসিক জাতীয় দায়িত্বের মুখোমুখি দাঁড় করায়। দেশ যখন চরম অরাজকতা, অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং চরম রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখন রাষ্ট্র পরিচালনার ভার গ্রহণ করা কোনো বিলাসিতা ছিল না, ছিল এক কঠিন ব্রত। জিয়াউর রহমান প্রথমে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (Deputy Chief Martial Law Administrator) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংহতি রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পুনর্বাসনের স্বার্থে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (Chief Martial Law Administrator) এবং ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে সামরিক পোশাকের আড়ালে তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। জিয়াউর রহমান গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন যে, একটি টেকসই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনরুজ্জীবন অপরিহার্য। তাই তিনি দ্রুত দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রওনক জাহান তাঁর গ্রন্থ 'Bangladesh Politics: Problems and Issues' (১৯৮৬)-এ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন সম্পর্কে লিখেছেন, জিয়াউর রহমান অনুধাবন করেছিলেন, সামরিক শাসনজনিত বৈধতা ক্ষণস্থায়ী। গণভোট আয়োজন, স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা এবং অবশেষে ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি তাঁর শাসনকে বেসামরিকীকরণ করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। ১৯৭৮ সালের ৩রা জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিয়াউর রহমান ব্যাপক জনভোটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সিপাহী-জনতার বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি গণতান্ত্রিক বৈধতায় রূপান্তর করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন ও ‌‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’

৭ই নভেম্বরের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দর্শনের জন্ম হয়, তার মূর্ত রূপ হলো 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ'। ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল' (বিএনপি)। বিএনপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল ছিল না; এটি ছিল ৭ই নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের চেতনাসম্ভূত এক বিরাট জাতীয় ঐক্যমঞ্চ। এদেশের বামপন্থী, ডানপন্থী, মধ্যপন্থী এবং ঐতিহ্যবাহী দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিকে একই পতাকাতলে নিয়ে আসার এক ঐতিহাসিক প্রয়াস ছিল এটি। শহীদ জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা, ধর্ম এবং সংস্কৃতির অনন্য মিশ্রণে গঠিত এ ভূখণ্ডের মানুষের আসল পরিচয় হলো 'বাংলাদেশি'। আওয়ামী লীগের সঙ্কীর্ণ 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' যা এদেশের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীকে বাদ দিয়েছিল এবং বাংলাদেশকে একটি বিশেষ প্রতিবেশীর সাংস্কৃতিক বলয়ে আটকে রাখতে চেয়েছিল, তার বিপরীতে জিয়ার 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' এদেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করে এবং জাতীয় ঐক্যের সূচনা করে।

আরও পড়ুন: শহীদ জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে তাঁর এক নিবন্ধে লিখেছেন, জিয়াউর রহমান কর্তৃক উদ্ভাবিত 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' জাতিকে ভৌগোলিক সীমানা, সার্বভৌম গৌরব এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে প্রতিষ্ঠিত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিচয় এনে দেয়, যা বিদেশী সাংস্কৃতিক আধিপত্য ছিন্ন করে সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। বিএনপির ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল এদেশের অর্থনীতির প্রতিটি খাতকে স্বনির্ভর করার এক অমূল্য দলিল। এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) খাতের সূচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানির মতো মহতী উদ্যোগগুলো গৃহীত হয়েছিল, যা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।

স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল অবস্থান

৭ই নভেম্বরের বিপ্লবের পর জেনারেল জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের শাসনভার লাভ করেছিলেন, সেই বাংলাদেশ ছিল তলাবিহীন ঝুড়ি (Bottomless Basket) নামে আখ্যায়িত এক অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া রাষ্ট্র। কিন্তু তাঁর কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশ অল্প সময়ের মধ্যেই একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হতে শুরু করে। জিয়াউর রহমান অনুধাবন করেছিলেন যে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, "Sovereignty is not given; it is constantly constructed through economic and political self-reliance." (সার্বভৌমত্ব কোনো দান নয়; এটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত গঠন করতে হয়।)। ঠিক এর কাছাকাছি একটি কথা বলেছিলেন আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক। তিনি বলেছিলেন, "Sovereignty is not given, it is taken."। জিয়াউর রহমান ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন। তিনি খাল খনন করে তার মাধ্যমে আনীত পানি দিয়ে কৃষি বিপ্লব ঘটান, গ্রামে গ্রামে গিয়ে 'খাল কাটা কর্মসূচি' পরিচালনা করেন এবং এদেশের কৃষককে উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর আমলেই বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে বিদেশে চাল রপ্তানির যোগ্যতা অর্জন করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে তিনি শীর্ষে নিয়ে যান। ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (OIC) তে জিয়াউর রহমান ওআইসি আল-কুদস কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধ মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। সার্ক (SAARC) গঠন: দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার যে স্বপ্ন জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন, তার ফলশ্রুতিতেই পরবর্তীতে গঠন করা হয় সার্ক। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাপানকে পরাজিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়, যা ছিল জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক সাফল্যের এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনৈতিক ধারা ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা

আরও পড়ুন: একাত্তরের পরাজিত ও ফ্যাসিবাদী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল- বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করা, আধিপত্যবাদকে প্রতিহত করা এবং গণমানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। শহীদ জিয়াউর রহমানের বিএনপি এই চেতনাকেই তাদের মূল রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেছে। আজকের প্রেক্ষাপটে, যখনই বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়, যখনই কোনো অগণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবাদী শক্তি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে একটি পুতুল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তখনই ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব আমাদের প্রেরণা জোগায়। বিএনপির অদম্য যাত্রা প্রমাণ করেছে যে, এদেশের মাটিতে আধিপত্যবাদের কোনো স্থায়ী স্থান নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং আমাদের জননেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় বিএনপি সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পাহারাদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল তিনি বাংলাদেশিদের একটি জাতীয় গর্ব ও পরিচয়ের অনুভূতি দিয়েছিলেন। তিনি একটি হতাশ জাতিকে একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।

৫১ বছর পূর্তিতে ৭ই নভেম্বরের অঙ্গীকার

আজ ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ৫১ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে আমাদের শপথ নিতে হবে যে, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী ও জনতা যে ঐক্যের বিনিময়ে এবং যে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল, আমরা তা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ণ হতে দেব না। ৭ই নভেম্বর আমাদের শেখায় যে, জনগণের ঐক্য এবং সেনাবাহিনীর দেশপ্রেম যদি এক সুতোয় গাঁথা হয়, তবে পৃথিবীর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে গোলাম বানিয়ে রাখতে পারে না। শহীদ জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক বাণী আজও আমাদের হৃদয়ে অনুরণিত হয়: "দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, স্বনির্ভর হতে হবে।"। ৭ই নভেম্বরের চেতনাই হচ্ছে বাংলাদেশের অস্তিত্বের গ্যারান্টি। আজকে যখন দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে বাংলাদেশকে অস্থির করতে, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে দেশি বিদেশি যড়ন্ত্রকারীরা নানামুখী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে, তখন ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার, ধারণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের এই মহান বার্তা প্রতিটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্ম ও অবদান অমর হোক, সিপাহী বিপ্লবের চেতনা চিরজীবী হোক, আর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ চিরকাল স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকুক। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

লেখক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সংসদ সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর বিদায়ের পর নতুন স্কোয়াড ঘোষণা করল পর্তুগাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


রোনালদোর বিদায়ের পর নতুন স্কোয়াড ঘোষণা করল পর্তুগাল

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পর, পর্তুগাল জাতীয় দলের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। আসন্ন নেশনস লিগের ম্যাচের জন্য এই স্কোয়াডে সাতজন নতুন ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন কোচ জর্জে জেসুস। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের বিষয়টিও তিনি পরিষ্কার করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেন পর্তুগিজ কোচ। নতুন মুখ হিসেবে দলে স্থান পেয়েছেন আলবার্তো কস্তা, আন্তোনিও সিলভা, মাতেউস ফার্নান্দেস, কার্লোস ফোর্বস, জিওভানি কুয়েন্দা, রদ্রিগো মোরা ও গুস্তাভো ভারেলা। তাদের মধ্যে আলবার্তো কস্তা ও গুস্তাভো ভারেলার জন্য এটি প্রথম জাতীয় দলে ডাক পাওয়া।

তবে নতুনদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি, কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে ছাড়াই দল সাজাতে হয়েছে জেসুসকে। নরওয়ের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার কারণে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও উয়েফার তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। ইনজুরির কারণে দলে নেই পিএসজির ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস। এছাড়া, কৌশলগত কারণে প্রাথমিক বিবেচনায় থাকা গনসালো ইনাসিও শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছেন।

নতুনদের মধ্যে রদ্রিগো মোরা ও জিওভানি কুয়েন্দা আগে সাবেক কোচ রবার্তো মার্তিনেজের সময়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন। তবে তারা এখনও পর্তুগালের মূল দলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

রোনালদোর বিদায়ের পর, পর্তুগালের নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে। এ বিষয়ে জেসুস জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে কার কতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটির ভিত্তিতে অধিনায়ক নির্বাচন করা হবে। দলের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা পাঁচজন ফুটবলার সম্মিলিতভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই নিয়ম কেবল আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য নয়, ভবিষ্যতেও কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন কোচ। সেই অনুযায়ী, রোনালদোর পর নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকবেন বার্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, রুবেন নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেস। তবে এই পাঁচজনের মধ্যে কাউকে নির্দিষ্ট অধিনায়ক বা সহ-অধিনায়ক হিসেবে আলাদা করে বেছে নেওয়া হয়নি। সবাই অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।

এদিকে, নেশনস লিগে পর্তুগাল এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম চার ম্যাচেই জয় নিয়ে তারা আগেভাগেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে বাকি ম্যাচগুলো থেকে তাদের প্রয়োজন মাত্র এক পয়েন্ট।

ডেনমার্কের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে এক গোলের বেশি ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে পারলেই ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই গ্রুপসেরা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে পর্তুগালের। ফলে রোনালদোবিহীন নতুন অধ্যায়ের শুরুতে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নেতৃত্বের নতুন কাঠামোও আলোচনায় থাকবে।

পর্তুগালের ঘোষিত স্কোয়াড

গোলরক্ষক: দিয়োগো কস্তা (পোর্তো), রুই সিলভা (স্পোর্টিং লিসবন), স্যামুয়েল সোয়ারেস (বেনফিকা)

রক্ষণভাগ: জোয়াও কানসেলো (বার্সেলোনা), দিয়োগো দালোত (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), আলবার্তো কস্তা (পোর্তো), রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি), রেনাতো ভেইগা (ভিয়ারিয়াল), তমাস আরাউজো (বেনফিকা), আন্তোনিও সিলভা (বোর্নমাউথ), নুনো তাভারেস (লাজিও)

মিডফিল্ড: রুবেন নেভেস (আল হিলাল), জোয়াও পালিনিয়া (বেনফিকা), মাতেউস ফার্নান্দেস (টটেনহাম), জোয়াও নেভেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), ভিতিনিয়া (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), ব্রুনো ফার্নান্দেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), বার্নার্দো সিলভা (রিয়াল মাদ্রিদ)

আক্রমণভাগ: পেদ্রো নেতো (চেলসি), রদ্রিগো মোরা (রোমা), ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও (আল আহলি), রাফায়েল লেয়াও (গালাতাসারে), জিওভানি কুয়েন্দা (চেলসি), কার্লোস ফোর্বস (ক্লাব ব্রুগে), জোয়াও ফেলিক্স (আল নাসর), গনসালো রামোস (মিলান), ফাবিও সিলভা (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড), গুস্তাভো ভারেলা (মঞ্জা)

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ কড়া শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ এম


পারমাণবিক আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ কড়া শর্ত

পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে সাতটি কঠোর শর্ত তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে কাতারের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেয়া সাতটি শর্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আমরা হরমুজ প্রণালী খুলব না এবং কোনো আলোচনায়ও বসব না।’ অপরদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, তেহরানের এই প্রস্তাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ‘খালিজ টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রশাসনের কাছে ইরানের প্রধান দাবিগুলো হলো-

১. সামরিক সংঘাত বন্ধ: লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত অবিলম্বে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

২. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা সমস্ত নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।

৩. নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. জব্দ সম্পদ ফেরত: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত ফ্রিজ বা জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করতে হবে।

৫. মার্কিন সেনা হ্রাস: মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সেনা সংখ্যা কমাতে হবে।

৬. ক্ষতিপূরণ প্রদান: সংঘাতের কারণে সৃষ্ট যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

৭. হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা: ইরানের মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সামরিক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

কূটনৈতিক স্তরে মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালালেও দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে হলে সেখানে অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে তেহরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সংঘাত আবার শুরু হলে তারা আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরবর্তীতে এই সংঘাত লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। হাউছিরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন মার্কিন-ইসরাইলপন্থী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে ইরানের এই নতুন সাত শর্তের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থায়িত্ব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? জরুরি কিছু তথ্য জেনে নিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? জরুরি কিছু তথ্য জেনে নিন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল আবার শুরু হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের জন্য দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। এবার দ্বীপে গিয়ে রাত কাটানোর সুযোগও রয়েছে।

তবে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করার জন্য যাওয়ার আগে জাহাজের টিকিট, যাতায়াত খরচ, আবাসন ও প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আগেভাগেই সংগ্রহ করুন জাহাজের টিকিট

যদি সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে জাহাজের টিকিট বুকিং করে নেওয়া উচিত। শেষ মুহূর্তে টিকিটের সংকট এড়াতে ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের পরই টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা করা উচিত।

জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, গ্রাহকসেবা নম্বর অথবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা সম্ভব। বুকিংয়ের আগে যাত্রার সময় ও টিকিটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

কোন কোন জাহাজে যেতে পারবেন

চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে কোন জাহাজের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

যাতায়াত খরচ কত হতে পারে

জাহাজের টিকিটের মূল্য আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে। সাধারণ আসন থেকে শুরু করে বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড ও কেবিন—বিভিন্ন শ্রেণির টিকিট পাওয়া যায়।

যাওয়া-আসার জন্য এসব আসনের টিকিটের দাম প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে আসনের সুবিধা, ভাড়া এবং আসন খালি আছে কি না, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ট্রাভেল পাস নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক। তবে এ জন্য আলাদাভাবে নিবন্ধনের ঝামেলা পোহাতে হবে না।

জাহাজের টিকিট বুকিং সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই সম্পন্ন করবে।

আগে থেকেই বুকিং দিন হোটেল বা রিসোর্ট।

দ্বীপে রাত কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগেই আবাসন নিশ্চিত করা উচিত। সেন্টমার্টিনে ২৩০টিরও বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছে থাকার জায়গা খোঁজার পরিবর্তে যাওয়ার আগেই পছন্দের হোটেল বুকিং দিলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে। আবাসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে।

হোটেল বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে চলমান অফার ও বিশেষ ছাড় সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। দ্বীপে প্রবেশের সময় প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।

ভ্রমণের সময় পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। সৈকতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, রাতে দীর্ঘসময় উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখা কিংবা সৈকতে বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

এছাড়া সৈকতের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহার না করে বাইসাইকেল বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও প্রত্যেক পর্যটকের। তাই ভ্রমণের আনন্দ যেন প্রকৃতির ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন এনসিপি নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন এনসিপি নেতারা

ভাষা সৈনিক এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাসভবন কুমিল্লায় স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবিতে সেখানে স্থাপিত সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

এটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে। সাইনবোর্ড ভাঙার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি এবং দুই বারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, যিনি ওই বাড়ির ওয়ারিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতে বাড়িটি সংস্কার, স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি, আরমা দত্ত ওই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ দাবি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের একমাত্র ছেলে সঞ্জিব দত্তের মেয়ে। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল—‘এই জমির প্রকৃত মালিক ওয়ারিশ সূত্রে আরমা দত্ত। পিতা মৃত সঞ্জিব দত্ত। দাগ নং ১৮০০, মৌজা ছোটরা, কুমিল্লা।’

এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, বাড়িটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তারা জানান, বাড়িটি বিক্রির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পুরোনো স্থাপনা সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাই তারা সাইনবোর্ড ভেঙে দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর এনসিপি নেতারা সেখানে গিয়ে প্রথমে বাড়ির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং পরে সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন।

রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি একটি সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। সুতরাং, বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় না হয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করা উচিত।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয় যে, তারা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবেন এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য।

এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার বলেন, "আমরা একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। আশা করি সরকার এবং ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্ত আমাদের পাশে পাবেন। যদি এই জায়গা বিক্রি বা বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণ নিয়ে প্রতিহত করা হবে।"

আরমা দত্ত বলেন, "এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমি এর বৈধ ওয়ারিশ। কুমিল্লাবাসীও এ বিষয়টি জানে। তাই এ বাড়িটির জায়গা আমি কী করব, রাখব না বিক্রি করব, এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাতে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করব।"

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, "শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড কে ভেঙেছে, এ বিষয়ে এখনো কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।"

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে ও তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দিলীপ কুমার দত্তের মেয়ে আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%