ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে ১ ডিসেম্বর বছরব্যাপী কার্যক্রম উদ্বোধন


পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে ১ ডিসেম্বর বছরব্যাপী কার্যক্রম উদ্বোধন

ঢাকা, ১ নভেম্বর , ২০২৬ : পরিবার পরিকল্পনা জোরদার এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকার একটি বছরব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা হবে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা প্রদান করা হবে।

‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১ ডিসেম্বর এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার এবং প্রজনন পরিস্থিতি বিবেচনায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় প্রেস ক্লাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতির সংকট নিয়ে নাগরিক সংলাপ

প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে এবং মাঠপর্যায়ে সেবা গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা হবে। দেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রজনন হার বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে।

অন্যদিকে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়ে বছরব্যাপী বড় ধরনের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি। চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।’

আরও পড়ুন: রিজভী: শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে

তিনি আরও জানান, প্রাইমারি লেভেল থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে। জারি গান, সারি গান, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাসহ নানা মাধ্যমে স্লোগান প্রচার করা হবে। তবে এই উদ্যোগ শুধুমাত্র প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬ দশমিক ৩। ২০২২ সালে তা ২ দশমিক ১৫-এ নামলেও ২০২৫ সালে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। গত দুই বছর অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ এবং এর ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে।

এ পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে বছরব্যাপী ২২ দফা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এর মধ্যে মহিলা সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার, হাট-বাজারে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ততা, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা, ‘মা ও গর্ভবতী সুরক্ষা সমাবেশ’, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর সেবা, ২৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, কৈশোর ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, নবদম্পতি কাউন্সেলিং এবং পুরুষদের সম্পৃক্তকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

বিনা মূল্যে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর প্রচার, পল্লিচিকিৎসক ও ধাত্রীদের রেফারেল অংশীদারি এবং এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়াও তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান ও বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র‌্যালি ও সমন্বয় সভা ছাড়া এক বছরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন এবং ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।

আরও পড়ুন: শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ডের বেতন কাঠামো মেনে নেবেন শিল্প মালিকরা

ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা কনডম, খাবার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্টসহ প্রায় ২৮ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রী কেনা বন্ধ থাকায় অনেক উপজেলা ও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত নেই।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের (এসসিএমপি) মনিটরিং ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি উপজেলায় কনডমের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ৩৫৪টি উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ৪২৮টি উপজেলায় আইইউডির মজুত নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বাসস’কে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অপারেশনাল প্ল্যানের অসমাপ্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গর্ভনিরোধক সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের সুপারিশ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ

ডিসেম্বর নাগাদ এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জিনাত রেহানা বলেন, আমাদের জিনিসপত্র হাতে আসছে। এখন জনগণকে জানাতে হবে যে, গর্ভনিরোধক সামগ্রী আবার পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় পাওয়া যাবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, এ জন্যই জাতীয়ভাবে একটি ক্যাম্পেইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমাতে হবে এবং একটি সন্তানের পর পরবর্তী সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ বিরতি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ জনবল সংকট উল্লেখ করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া পরিবার কল্যাণ সহকারীদের (এফডব্লিউএ) বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে বিএনপি আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আমাদের প্রায় ৩৭ শতাংশ জনবল ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ১৯-২০ হাজার কর্মী এখনো নেই, যা থাকার কথা ছিল। তবে জনবল সংকটের মধ্যেও বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর হামলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর হামলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য নিহত

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন ভেনেজুেলার সেনাবাহিনীর হামলায়, যা দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ঘটেছে। শনিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা যায়।

হাভিয়ের তারাজোনা, ফান্ডারেডেস নামের একটি এনজিওর পরিচালক, এএফপিকে জানান, শুক্রবার ভেনেজুেলার সেনাবাহিনী দেশটির ভূখণ্ডে অবস্থানরত কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) বিদ্রোহীদের একটি শিবিরে হামলা চালায়।

তারাজোনা দাবি করেছেন, গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম ভেনেজুেলার সেনাবাহিনী দেশটির অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইএলএন বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

বেসরকারি ওই সংস্থাটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ভেনেজুেলার আপুরে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকটি মরদেহ, উপড়ে পড়া গাছ এবং বিদ্রোহীদের একটি শিবিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।

তারাজোনা জানান, সংস্থাটির একজন কর্মী ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে অন্তত নয়টি মরদেহ শনাক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এএফপির পক্ষ থেকে ভেনেজুেলা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক গেরিলা বাহিনীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইএলএন লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কলম্বিয়া ও ভেনেজুেলার মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফার্কের সেই বিদ্রোহী অংশগুলো, যারা ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

বর্তমানে এসব গোষ্ঠী মাদক পাচার, বিশেষ করে কোকেনের ব্যবসা এবং অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার সরকার অভিযোগ করে আসছিল যে, বামপন্থী ভেনেজুেলা কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে।

তবে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুেলা বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মানবাধিকারকর্মী ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোসিও সান মিগেল জানিয়েছেন, শুক্রবারের সেনা হামলার খবর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম জানায়। তাদের ধারণা, ওই হামলায় ইএলএনের আরও অন্তত ১০ জন যোদ্ধা নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বলিভিয়ায় এল নিনোর প্রভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


বলিভিয়ায় এল নিনোর প্রভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এল নিনোর কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। শনিবার এই ঘোষণা তিনি দেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বজুড়ে এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। বলিভিয়ায় এর ফলে কিছু অঞ্চলে বন্যা এবং অন্যদিকে খরা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানান, জরুরি অবস্থার ঘোষণার উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনীয় অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ দ্রুত ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পাজ উল্লেখ করেন, জরুরি অবস্থার ঘোষণার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে আরও বেশি সংখ্যায় মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে খরা ও বন্যার মতো পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ সংকট মোকাবিলায় সব সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বলিভিয়ার ৯টি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ৬টিতে খরার কারণে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, খরার ফলে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।

জাতিসংঘ চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এর ফলে লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।

বলিভিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও এল নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পেরুতে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলে এরই মধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি দেশটির আবহাওয়ার ইতিহাসে ছিল সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অক্টোবর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গালাপাগোসে ভারী বৃষ্টিতে একজনের মৃত্যু, হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


গালাপাগোসে ভারী বৃষ্টিতে একজনের মৃত্যু, হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ইকুয়েডরের গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এ বৃষ্টিপাত এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেল থেকে বৃষ্টির শুরু হয়।

কুইটো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

দ্বীপটির মেয়র ফ্যানি উরিবে এএফপিকে বলেছেন, ‘সান্তা ক্রুজে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আমরা কল্পনাও করিনি যে এমন কিছু ঘটতে পারে। এটি ছিল এমন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা আমাদের সব ধারণা ছাড়িয়ে গেছে।’

সান্তা ক্রুজ দ্বীপের বাসিন্দাদের নিজেদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। জরুরি সেবা সংস্থা ইসিইউ ৯১১ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে এই দৃশ্য দেখা যায়।

সান্তা ক্রুজ পৌরসভার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার পরিবার এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উরিবে বলেন, ‘তারা সবকিছু হারিয়েছেন। পরনের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

ইসিইউ ৯১১ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন।

গালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ সান্তা ক্রুজ দ্বীপের চারটি এবং সান ক্রিস্টোবাল দ্বীপের দুটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে।

গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বরিশালে শীর্ষে পিরোজপুর, পাসের হার ৫১.৫৫%

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বরিশালে শীর্ষে পিরোজপুর, পাসের হার ৫১.৫৫%

পিরোজপুর, ১ নভেম্বর ২০২৬ : উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পিরোজপুর জেলা আবারও পাসের হারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গতকাল শনিবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার পিরোজপুরে ৫১.৫৫ শতাংশ, যেখানে ৬৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে জেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

জেলা শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা যায়, এবারে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ হাজার ৯৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৬ হাজার ৭৮২ জন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন। জেলার মোট পাসের হার ৫১.৫৫ শতাংশ।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বাসসকে জানিয়েছেন, শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণে পিরোজপুর জেলার এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।

সূত্র জানায়, জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি। প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে মোট আটজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, যে দুটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%