প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন ভেনেজুেলার সেনাবাহিনীর হামলায়, যা দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ঘটেছে। শনিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা যায়।
হাভিয়ের তারাজোনা, ফান্ডারেডেস নামের একটি এনজিওর পরিচালক, এএফপিকে জানান, শুক্রবার ভেনেজুেলার সেনাবাহিনী দেশটির ভূখণ্ডে অবস্থানরত কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) বিদ্রোহীদের একটি শিবিরে হামলা চালায়।
তারাজোনা দাবি করেছেন, গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম ভেনেজুেলার সেনাবাহিনী দেশটির অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইএলএন বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
বেসরকারি ওই সংস্থাটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ভেনেজুেলার আপুরে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকটি মরদেহ, উপড়ে পড়া গাছ এবং বিদ্রোহীদের একটি শিবিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।
তারাজোনা জানান, সংস্থাটির একজন কর্মী ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে অন্তত নয়টি মরদেহ শনাক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এএফপির পক্ষ থেকে ভেনেজুেলা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক গেরিলা বাহিনীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইএলএন লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কলম্বিয়া ও ভেনেজুেলার মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফার্কের সেই বিদ্রোহী অংশগুলো, যারা ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বর্তমানে এসব গোষ্ঠী মাদক পাচার, বিশেষ করে কোকেনের ব্যবসা এবং অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার সরকার অভিযোগ করে আসছিল যে, বামপন্থী ভেনেজুেলা কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে।
তবে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুেলা বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মানবাধিকারকর্মী ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোসিও সান মিগেল জানিয়েছেন, শুক্রবারের সেনা হামলার খবর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম জানায়। তাদের ধারণা, ওই হামলায় ইএলএনের আরও অন্তত ১০ জন যোদ্ধা নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন