বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৫ এম
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টায় আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এটি চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল বেলা ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এদিকে, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। পাঁচজন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন ধানের শীষ, জামায়াতের মো. দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী বটগাছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
নির্বাচনের আগে আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বসহ নয় দফা অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে জামায়াত। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার বলেন, "১৯৯৪ সালের মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তার পরিণতি স্মরণ রাখা উচিত।"
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ভোটগ্রহণ থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত নজরদারি, অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং সেনা মোতায়েনসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে। জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসের প্রতিফলন ভোটের মাঠে দেখতে চান তারা।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও বিজিবির ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন ৩ হাজার ১৫২ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। নিরাপত্তায় রয়েছেন ২১ প্লাটুন বিজিবি, এসআরবির ২৫১ সদস্য, পুলিশের ২ হাজার ২৭২ জন এবং আনসারের ২ হাজার ৪৬৫ সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, "আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি পরিকল্পনা অনুযায়ী সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানে ৮টি পদে মোট ৯৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টায় এবং চলবে ২৬ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে গ্রহণযোগ্য হবে। এসএসসি পাসের চাকরি প্রার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আবেদন শুরু: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ তারিখ: ২৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা পর্যন্ত
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে
চাকরির ধরন: অস্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ। তবে প্রার্থীদের জন্য বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হওয়া আবশ্যক।
কর্মস্থল: ঢাকা
বয়স: ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করার জন্য ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর । আবেদনপত্রের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি এবং ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।
আবেদন ফি: টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-৭ নং পদের জন্য ১১২ টাকা এবং ৮ নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভয় ও সংশয়ের মেঘ কাটিয়ে অবশেষে ঠাকুরগাঁও সদর, ভুল্লি ও রুহিয়া উপজেলায় ব্যালটের লড়াই শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন, মাত্র ৮ মাসের মাথায়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টায় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এটি বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো নির্বাচনি এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
এবারের উপনির্বাচনে মোট ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের আতঙ্ক দূর করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মাঠে নেমেছেন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া, যে কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। উপ-নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ মোট পাঁচটি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
ভোটারদের মনে কিছুটা আতঙ্ক ও সংশয় থাকলেও ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার কামরুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনকালীন যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপচেষ্টা দমনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ১০ জনের জন্য বিশেষ ছুটির খাবারের ঝুড়ি (holiday meal basket) প্রকাশ করেছে। এই ঝুড়ির মোট খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ ডলার, যা জনপ্রতি ৩ ডলার ৫০ সেন্ট। চলতি বছরের ঝুড়িতে পণ্যের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে দাম কমেছে ১২ শতাংশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি এই ঘোষণা দেয়। ওয়ালমার্টের খাবারের ঝুড়িটি দোকান ও অনলাইনে আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেনার জন্য উপলব্ধ থাকবে। এছাড়া, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঝুড়িটি কিনলে বিনা মূল্যে দ্রুত সরবরাহসেবা পাওয়া যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, ভোক্তারা বর্তমানে কম দামে পণ্য কেনার প্রতি আগ্রহী। এই কারণে তারা এই বিশেষ আয়োজন করেছে। ওয়ালমার্টের দাবি, তাদের ইতিহাসে একসঙ্গে কেনার সুবিধাযুক্ত এই খাবারের ঝুড়ি হলো সবচেয়ে কম দামের।
ঝুড়িতে মোট ১৭ ধরনের ২৬টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ থেকে ১৬ পাউন্ড ওজনের একটি আস্ত টার্কি, ভুট্টার মাফিন তৈরির মিশ্রণ, ভুট্টা ও শিমের কৌটাজাত খাবার, মাশরুমের স্যুপ, আলু, মিষ্টি আলু, গ্রেভি তৈরির মিশ্রণ, পাউরুটি, স্টাফিং মিশ্রণ, তাজা ক্র্যানবেরি এবং মিনি মার্শম্যালো।
এছাড়া, পাই তৈরির খোসা, কুমড়ার পিউরি, বাষ্পীভূত দুধ, হুইপড টপিং এবং ভাজা পেঁয়াজের টুকরোও রয়েছে। এসব উপকরণ ব্যবহার করে থ্যাংকসগিভিংসহ বিভিন্ন ছুটির দিনের প্রচলিত খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিবিএস নিউজের মূল্য পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে খাবারের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য জানাচ্ছে, ২০২০ সালের পর থেকে বাড়িতে খাওয়ার জন্য মুদি দোকান থেকে কেনা খাবারের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন (এবিসি) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জন পিসুমে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আবদুল হাই সরকার এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন।
ডেপুটি গভর্নর বলেন, সংকট মোকাবিলায় প্রথম পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন, বকেয়া বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ রিজার্ভ গড়ে তোলার লক্ষ্যও অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশেও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ইতোমধ্যে ১৫টি ব্যাংকে সম্পদের গুণগত মান পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ৩১ শতাংশে নেমেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ হার আরও কমবে আশা প্রকাশ করে অর্থঋণ আদালত আইন এবং নতুন বিশেষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন এ ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মত দেন তিনি।
মূলধন ঘাটতিতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য সহায়তা এবং সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশেও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পর ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া, ব্যবস্থাপনাকে জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং ঝুঁকি ও পরিপালন বিভাগকে কার্যকর ক্ষমতা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও ব্যবসার বাস্তব সম্ভাবনা বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ঋণের সঠিক শ্রেণিকরণ, পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ এবং মূলধন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর তারল্য ও মূলধন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে নিয়মিত স্ট্রেস টেস্ট করতে হবে। রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং আমানত প্রত্যাহারের চাপ একসঙ্গে মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই জরুরি। সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকসেবা অব্যাহত রাখার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
ব্যাংক পুনর্গঠন ও দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় একটি ‘ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন তহবিল’ গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে দুর্বল ব্যাংকের সমস্যা মোকাবিলার সুযোগ তৈরি হবে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কর্মদক্ষতাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা এবং নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণেও কাজ চলছে। বিইএফটিএন, আরটিজিএস, এনপিএসবি ও বাংলা কিউআরের পাশাপাশি আগামী বছর অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরে বিদ্যমান সম্পদ ও অর্থায়নের ভারসাম্য পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ