বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪১ এম
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন দেশটির সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রাজিল ত্যাগ করে মায়ামিতে পৌঁছান।
ফ্লাভিও বলসোনারো অভিযোগ করেছেন যে, দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তাকে নির্বাচনী অভ্যুত্থানের শিকার করেছেন। তবে নির্বাচনে লুলা ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পূর্বে সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ মানতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর, সেখানে যাওয়ার জন্য আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ধন্যবাদ জানান ফ্লাভিও। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যিনি তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ভিসা প্রদান করেছেন এবং স্বাগত জানিয়েছেন।
একই সময়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে শেয়ার করা একটি খোলা চিঠিতে বলসোনারো প্রথমে নিজেকে ব্রাজিলের ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে সেই পোস্ট মুছে দিয়ে সংশোধিত আরেকটি চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা দাবি করেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি শুধু আমার ৬ কোটি ভোটারকেই নয়, ব্রাজিলের জনগণকেও বলতে চাই, আমিই নেতা। আর যারা ব্রাজিলের নির্বাচন চুরি করেছে, সেই অপরাধীরা একটি অপরাধী চক্রের অংশ, যারা দেশে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।’
ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জয়ী হয়েছেন। গত রোববার দ্বিতীয় দফার ভোটে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
ব্রাজিলের ফেডারেল নির্বাচনী আদালত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং বলসোনারোর নিজ দলও লুলার বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) খবর পাওয়া যায়, একদিন আগে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট বলসোনারোকে তার পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। তবে বলসোনারো কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো প্রথমে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফল বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন। তবে তার দল সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। ওই নির্বাচনে রক্ষণশীল এই প্রার্থী ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে। তবে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সহায়তা গ্রহণ করা হবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি এবং পরিবেশ রক্ষায় আলোচিত এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অববাহিকার মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীপাড়ের মানুষ তিস্তা নদীতে পানির সংকটে পড়ছেন। ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির জন্য অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সফল হয়নি। এই অবস্থায় তিস্তা অববাহিকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কয়েক বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভারত ও চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেও সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের নকশা তৈরি ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একাধিক দেশের সহায়তা গ্রহণ করা হবে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, চীন ও নেদারল্যান্ডসের পরামর্শকদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার পানি খাতের একজন বিশেষজ্ঞও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "প্রতিবছর ২ হাজার কোটি টাকা হলে কিন্তু আমরা নিজস্ব অর্থায়নে সে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারব।"
মহাপরিকল্পনায় তিস্তার পানি সংরক্ষণ, নতুন ব্যারাজ নির্মাণ এবং নদীর অন্য প্রান্তে স্লুইস গেট স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাঁধ রেখেই নদীর দুই পাড় ছোট করা হবে, নাকি বাঁধ সম্প্রসারণ করা হবে, তা নিয়েও প্রাথমিক পর্যালোচনা চলছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়, তা নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে নদীর পানি সংরক্ষণ, ব্যারাজ নির্মাণ, স্লুইস গেট স্থাপন এবং দুই পাড় সংকুচিত করে নদী খননের বিষয় রয়েছে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের ধরন চূড়ান্ত করার আশা রয়েছে।
আগামী বছরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ একটি অংশের মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মির্জাপুর, টাঙ্গাইলের একটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে চিলাহাটিগামী নীল সাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহেড়া রেলস্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে, যার ফলে যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মির্জাপুরের মহেড়া রেলস্টেশন মাস্টার সোহেল রানা জানান, "সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীল সাগর এক্সপ্রেস চিলাহাটির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রেনটি মহেড়া রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে সরে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়।"
তিনি আরও জানান, "রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের চাপা দিয়েছে একটি কাভার্ড ভ্যান।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার লালদীঘি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশুর নাম হলো ৮ বছর বয়সী আরবিয়া এবং ৬ বছর বয়সী রাবেয়া। তারা দুই সহোদর বোন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ জানিয়েছেন, সকালে গৃহপরিচারিকা ফাতেমা আক্তার কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় দুই শিশুও মায়ের পেছনে পেছনে ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ করে একটি শেরপুরগামী কাভার্ড ভ্যান তাদের উপর দিয়ে চলে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই দুই বোনের মৃত্যু ঘটে। ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে আটক করার চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এই দাবি করেন, যা ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে তার সংখ্যা আগের তুলনায় ‘অনেক কম’। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ইরানের ড্রোন নির্মাতারা উৎপাদন করতে সমস্যায় পড়ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি।’ ট্রাম্পের দাবি, তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন থেকেই এই সংঘাতের সমাপ্তি হওয়া উচিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে। ওই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
আলোচনার সময়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে হামলা চালায়। এর আগে, গত বছরও আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা করা হয়েছিল।
এদিকে, ট্রাম্পের যুক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি জর্জিয়ার আটলান্টায় এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, তেহরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না।
ওবামা উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, সেটি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ করে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি। আমি কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছিলাম।’
এই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘এই যুদ্ধে কারণে আমাদের মিত্ররা এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো হামলার শিকার হয়েছে। আমেরিকানরা প্রাণ হারিয়েছেন। শত শত আমেরিকান আহত হয়েছেন। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে গেছে, এটি আমাদের আরও অরক্ষিত করে তুলেছে; আর এখন হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ভেটো দেয়ার মতো ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে গেছে।’
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ