প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে। তবে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সহায়তা গ্রহণ করা হবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি এবং পরিবেশ রক্ষায় আলোচিত এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অববাহিকার মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীপাড়ের মানুষ তিস্তা নদীতে পানির সংকটে পড়ছেন। ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির জন্য অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সফল হয়নি। এই অবস্থায় তিস্তা অববাহিকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কয়েক বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভারত ও চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেও সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের নকশা তৈরি ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একাধিক দেশের সহায়তা গ্রহণ করা হবে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, চীন ও নেদারল্যান্ডসের পরামর্শকদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার পানি খাতের একজন বিশেষজ্ঞও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "প্রতিবছর ২ হাজার কোটি টাকা হলে কিন্তু আমরা নিজস্ব অর্থায়নে সে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারব।"
মহাপরিকল্পনায় তিস্তার পানি সংরক্ষণ, নতুন ব্যারাজ নির্মাণ এবং নদীর অন্য প্রান্তে স্লুইস গেট স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাঁধ রেখেই নদীর দুই পাড় ছোট করা হবে, নাকি বাঁধ সম্প্রসারণ করা হবে, তা নিয়েও প্রাথমিক পর্যালোচনা চলছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়, তা নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে নদীর পানি সংরক্ষণ, ব্যারাজ নির্মাণ, স্লুইস গেট স্থাপন এবং দুই পাড় সংকুচিত করে নদী খননের বিষয় রয়েছে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের ধরন চূড়ান্ত করার আশা রয়েছে।
আগামী বছরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ একটি অংশের মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন