ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আয়ারল্যান্ডের বইয়ের দোকানগুলো স্যালি রুনির উপন্যাসের চাহিদা মেটাচ্ছে


আয়ারল্যান্ডের বইয়ের দোকানগুলো স্যালি রুনির উপন্যাসের চাহিদা মেটাচ্ছে

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : লেখক স্যালি রুনির প্রতি সমর্থন জানানো একটি ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনের কারণে প্রকাশনা সংস্থা ফ্যাবার যুক্তরাজ্যে তার বই সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আয়ারল্যান্ডের বইয়ের দোকানগুলো রুনির উপন্যাস পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছে।

এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

ফ্যাবার জানিয়েছে, রুনি তার বই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ফিলিস্তিন অ্যাকশন নামক একটি সংগঠনের জন্য দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ায়, লেখকের কাছে ওই অর্থ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে যুক্তরাজ্যে তার বই বিতরণ অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ফিনল্যান্ডে সিঙ্গেলদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ

তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের লন্ডনডেরিতে অবস্থিত লিটল অ্যাকর্নস বুকস্টোরের মালিক জেনি ডোহার্টি আয়ারল্যান্ডের প্রজাতন্ত্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে রুনির বই সংগ্রহ করে বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।

ডোহার্টি, যিনি রুনির ‘নরমাল পিপল’, ‘ইন্টারমেজো’ এবং ‘বিউটিফুল ওয়ার্ল্ড, হোয়ার আর ইউ’ সহ বিভিন্ন উপন্যাসের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, এএফপিকে বলেন, ‘বইগুলো বিক্রির ওপর আমাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমরা এখনো বইগুলো সংগ্রহ করতে পারছি।’

উত্তর আয়ারল্যান্ডের অংশ লন্ডনডেরি যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলেও এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য আয়ারল্যান্ডের সীমান্তসংলগ্ন। এই ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে ডোহার্টি আয়ারল্যান্ডের পরিবেশকদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছেন।

ফ্যাবার অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে জানায়, ‘কোনো লেখকের বই বিক্রি করে সেই অর্থ তাকে দিতে না পারা প্রকাশকের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি।’

আরও পড়ুন: অবৈধ আকামাধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে কুয়েত সরকার

প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, রুনির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকার সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের আওতায় ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে রুনি যে আয়ারল্যান্ডে বসবাস করেন, সেখানে সংগঠনটি নিষিদ্ধ নয়।

যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তালিকায় লেবাননের ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নামও রয়েছে। ফলে দেশটিতে সংগঠনটির সদস্য হওয়া, সমর্থন দেওয়া কিংবা অর্থায়ন করা বেআইনি।

ফ্যাবার জানায়, তারা এখনো রুনির প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে তার বই বিক্রি অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, রুনির বই নিষিদ্ধ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের দোকানগুলোতে আগে থেকে থাকা বই বিক্রির ওপরও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ফ্যাবারের স্বাভাবিক যুক্তরাজ্যভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন করে বই সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় ডোহার্টির দোকানে নতুন ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এমন অনেক নতুন ক্রেতা এসেছেন, যারা আগে কখনো আমাদের দোকানে আসেননি।’ তার মতে, এ বিতর্কের কারণে আরও বেশি পাঠকের কাছে রুনির বই পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী শিবিরে সেনা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯

আগে বইগুলো দোকানের সাধারণ তাকেই বর্ণানুক্রমে সাজানো থাকত। এখন ক্রেতাদের নজরে পড়ার জন্য সামনের কাউন্টারে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে বই নিয়ে খোলামেলা ও ব্যক্তিগত আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান ডোহার্টি।

বিকল্প সরবরাহকারীর খোঁজে ব্রিটেনের অন্যান্য বই বিক্রেতারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ডোহার্টি বলেন, ‘আপনি চাইলে বইটি না-ও পড়তে পারেন। কিনতে না চাইলে সেটিও আপনার সিদ্ধান্ত।’

আয়ারল্যান্ডের অন্যান্য বইয়ের দোকানগুলোতেও রুনির উপন্যাসের চাহিদা বেড়েছে। ফ্যাবারের সিদ্ধান্তের পর গলওয়ের কেনিস বুকশপে তার বই বিক্রি আগের তুলনায় ১০ গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডোহার্টি বলেন, নাগরিক অধিকার আন্দোলন ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েক দশকব্যাপী সংঘাতের ইতিহাসে গড়ে ওঠা শহরটিতে এ বিতর্ক বিশেষভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় বোমা হামলায় দুই মাসের শিশুসহ ৪ জন নিহত

এ ঘটনা তাকে আয়ারল্যান্ডের সাহিত্য সেন্সরশিপের ইতিহাসের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। অতীতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন এডনা ও’ব্রায়েন, স্যামুয়েল বেকেট ও জন ম্যাকগাহার্নের মতো বিখ্যাত লেখকরা।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমরা সামনে এগোনোর পরিবর্তে আবার পেছনের দিকে ফিরে যাচ্ছি।’

তবে ডোহার্টির মতে, কোনো বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ পাঠকদের মধ্যে সেটি পড়ার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে স্যালি রুনিসহ অন্যান্য আইরিশ লেখকের বইও নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ বইই বেশি বিক্রি হয়। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বইটির প্রতি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের আগ্রহ তৈরি করে।’

আরও পড়ুন: রাশিয়া ও ইউক্রেনের সতর্কতা অ্যাপে সাইবার হামলা, ভুল তথ্য ছড়াল

এদিকে ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি। এ বিষয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্যালি রুনির উপন্যাসের কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। আধুনিক সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরার কারণে তার বইয়ের প্রতি বিশেষ পাঠকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।

বিবিসিতে তার উপন্যাস ‘নরমাল পিপল’-এর টেলিভিশন রূপান্তর প্রচারের পর তিনি আরও ব্যাপক পরিচিতি পান।

লন্ডনের বার্ড বুকসের মালিক ভিকি শেনকিন কের বলেন, ‘তিনি বর্তমান সময়ের অনুভূতি ও বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরেন, তা সত্যিই অনন্য। মানুষ তার বই ও লেখাকে ভালোবাসে।’

আরও পড়ুন: ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

ফ্যাবারের সিদ্ধান্তের পর তার দোকানেও রুনির বই বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দোকানে থাকা অবশিষ্ট বইগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।

তবে বিদেশ থেকে আমদানি করে নতুন করে বইয়ের মজুত না করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের প্রধান গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০০ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধি পণ্য রপ্তানিতে দেশের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই প্রমাণ।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। এত বড় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।’

হাসান আরিফ আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ, গুণগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা এবং বিশেষ করে বড় ভোক্তাবাজারে দেশীয় পণ্যের ধারাবাহিক চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ছে

প্রচলিত বড় বাজারে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন ও বিকল্প বাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বড় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে তুরস্কে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাজারেও রপ্তানি আয় বেড়েছে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৫২ ও ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ইউরোপের দেশ স্পেনেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এতে রপ্তানি বাজারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বড় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, রপ্তানি বাজারের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক মন্দা, বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন কিংবা পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও বড় বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ডলার। এ নিয়ে দেশটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থান ধরে রেখেছে।

একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। দেশটি রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। এরপর রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

ইউরোপের এসব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দেশের তৈরি পোশাকসহ প্রধান উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি— এ তিন দেশ থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে। ফলে প্রচলিত বড় বাজারগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অক্টোবরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৪.৩৯ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতে রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ।

অক্টোবরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এ বাজারের ধারাবাহিক অবদানকেই তুলে ধরছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক। এ কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় আমরা অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।’

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কিংবা এর প্রয়োগ এড়ানোর সুযোগ খুঁজতে বিজিএমইএ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক এড়ানোর বিষয়ে আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ধারাবাহিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাই লক্ষ্য

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণ, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সময়মতো সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকেরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বড় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা ও ভোক্তাদের পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রচলিত বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং অপ্রচলিত বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ার ফলে আগামী মাসগুলোতেও ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদী।

তার মতে, প্রচলিত ও নতুন—উভয় ধরনের বাজারে রপ্তানির এ প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নতুন ও বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ার প্রবণতা দেশের রপ্তানি ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার মাদকসহ মোটরসাইকেল জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার মাদকসহ মোটরসাইকেল জব্দ

লালমনিরহাট, ২ নভেম্বর ২০২৬ : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। ফুলবাড়ী সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের ৯৮ বোতল, ৫ দশমিক ৬ কেজি গাঁজা এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে বিজিবি। আজ সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে, ব্যাটালিয়নের আওতাধীন অনন্তপুর ও বালারহাট বিওপির সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী উপজেলার হাজিটারী ও বালাটারী এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানের সময় হাজিটারী থেকে ৯৮ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ এবং বালাটারী থেকে ৫ দশমিক ৬ কেজি গাঁজাসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের সরকারি সিজার মূল্য ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শৃঙ্খলায় ফিরছে অটোরিকশা, নিবন্ধন করবে সব সিটি করপোরেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


শৃঙ্খলায় ফিরছে অটোরিকশা, নিবন্ধন করবে সব সিটি করপোরেশন

মোশতাক আহমদ

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা (ই-রিকশা) চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে নতুন বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার অধীনে, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো ই-রিকশার নিবন্ধন, রুট ও জোন নির্ধারণ, চলাচলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কারিগরি মান নিশ্চিত করবে। নিবন্ধন ও নিবন্ধন নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট রং ও রুটে চলাচল, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, যাত্রী পরিবহনের সীমা, ব্যাটারি চার্জিং এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এটি স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিধিমালার আওতায়, প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের আওতাধীন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে, তা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজন হলে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা অথবা পৃথক জোনভিত্তিকভাবে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা কত হবে, তা আর চালক বা মালিকদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না; বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ শহীদুল হাসান বাসসকে জানান, ‘ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতেই নতুন বিধিমালা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের সব সিটি করপোরেশনে একই নীতিমালার ভিত্তিতে ই-রিকশার নিবন্ধন ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত হোক, যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

এ বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে সব সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা করবে।

সব শর্ত পূরণ হলে, আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো আবেদন নামঞ্জুর হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন।

একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একই মালিকের নামে অতিরিক্ত সংখ্যক ই-রিকশা নিবন্ধন এবং এক এলাকার যানবাহন অন্য এলাকায় নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকবে।

বিধিমালার তফসিল অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা। নিবন্ধন ও নবায়ন থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।

নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট প্রদান করা হবে। চালককে বিনামূল্যে এই নম্বর প্লেট এবং যানবাহনের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করা হবে। ব্লু-বুকে সংশ্লিষ্ট চার্জিং স্টেশন বা চার্জিং গ্যারেজের তথ্যও উল্লেখ থাকবে।

ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ সহজেই নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করতে পারে।

ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে তা নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুসারে নকশা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংশোধনের মাধ্যমে নতুন মানদণ্ডের উপযোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব যানবাহনকে বিমার আওতায় আনার বিধানও রাখা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বাসসকে জানান, ‘নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ, নিবন্ধন এবং জোনভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণ করা হবে। নিবন্ধিত যানবাহন সহজে শনাক্ত করতে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও নির্দিষ্ট রংয়ের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।’

গতিসীমা নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।

স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।

নিবন্ধনের তারিখ থেকে একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে।

নতুন বিধিমালায় জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) প্রধান সড়ক বা করিডোরে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রশাসন সময় সময় যেসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, সেসব সড়কেও এসব যান চলতে পারবে না। ফুটপাত দিয়ে ই-রিকশা চালানো যাবে না।

চালকদের সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং এবং অনিয়ম করে লেন পরিবর্তনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও ধারণক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত ও নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।

ই-রিকশার চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত করতে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট ও জোন নির্ধারণ করবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে সংশ্লিষ্ট জোনে চলাচলকারী ই-রিকশার সংখ্যা, নির্দিষ্ট রুট ও যানবাহনের রং চূড়ান্ত করা হবে।

এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। ফলে একই এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমানো ও সড়কে যান চলাচল ব্যবস্থাপনা সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে নতুন বিধিমালায়। ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ব্যাটারি ও ই-রিকশার রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা যাবে। এর মাধ্যমে চালকদের সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান (চলতি দায়িত্বে) বাসসকে জানান, ‘রাজধানীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য ই-রিকশার নিবন্ধন ও রুট নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রধান সড়ক, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজটের চাপ কমানো সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাফিক বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি নিবন্ধনবিহীন ও নিয়ম অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যাটারি চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়মের আওতায় আনতে প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বেসরকারি উদ্যোগ অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো ব্যবস্থায় চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার সুযোগ থাকবে।

চার্জিং স্টেশন স্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

পরিবেশ সুরক্ষায় পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে কিংবা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে ফেলতে পারবে না। ব্যাটারি পোড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো একটি ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজে নিয়োজিত হতে পারবে না।

ই-রিকশা উৎপাদন ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্যও বিধিমালায় একটি কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বুয়েট বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা থাকবেন।

কমিটি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য ও অনুমোদিত নকশা যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উৎপাদন লাইসেন্স দেবে।

বিধিমালা অমান্য করে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য ও দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অবৈধ ই-রিকশার চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের বিধিমালার অধীনে সম্পন্ন কাজ, গৃহীত ব্যবস্থা ও অনিষ্পন্ন কার্যধারা নতুন বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিষ্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো বাস্তবায়িত হলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচলের সংখ্যা ও রুট নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি নিরাপত্তা ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় একটি অভিন্ন কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে রাজধানীতে অনিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা চলাচল, একই সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলভাবে রিকশা চলাচলের সমস্যা মোকাবিলায় এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে.

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিক আন্দোলনে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


শ্রমিক আন্দোলনে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তিগুলি সম্মিলিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আশুলিয়া ও মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে শ্রমিক লীগের সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়ছে। সরকার শ্রমিকদের দাবির প্রতি আন্তরিক এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে তাদের দাবি পূরণ করা হবে। তবে, পতিত শক্তি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। ডিসেম্বরের দিকে ’৭১-এর পতিত শক্তি এবং ’২৪-এর পতিত শক্তি একত্রে দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করার জন্য চক্রান্ত করছে।

মো. রাশেদ খান আরও বলেন, আশুলিয়া ও মিরপুরে ঘটে যাওয়া অগ্নিসন্ত্রাসের জন্য জামায়াতের আমির দায় এড়াতে পারেন না। তারা বলেছে, সব কিছু তছনছ করে দেয়া হবে। এটি তাদের পরিকল্পনার একটি অংশ।

এ সময় পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

তিনি উল্লেখ করেন, পিরোজপুরের এই ঘটনা আমাদের জন্য কলঙ্কজনক। ’৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও রাজনৈতিক কারণে টিকে আছে এবং তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি।

মো. রাশেদ খান বলেন, জামায়াত শিবির পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনের বাধা সৃষ্টি করেছে। তারা এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, কিন্তু এখনও সেই তদন্তের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

সাম্য ও মানবিক মর্যাদা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%