০৪:৩১ পি.এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ফ্যাক্টওয়াচ শনাক্ত করেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা নিয়ে একটি পুরোনো ভিন্ন ঘটনা নতুন করে প্রচারিত হচ্ছে।
ফ্যাক্টওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এই পুরোনো ঘটনাটি এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।
সংস্থাটি এসব ভিডিওকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২০ বছরের তরুণ নিহত, আহত ৩
ফেসবুকে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ অস্ত্রধারী কয়েকজনের কথোপকথনের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র কর্মী।
ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওতে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা আসলে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য।
এই ভিডিওটি বান্দরবানের থানচি থেকে গত বছর ধারণ করা হয়েছিল।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: হজের কোটা ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি হাবের
২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর চ্যানেলটিতে আপলোড করা ভিডিও থেকে জানা যায়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা আরাকান আর্মির সদস্য। তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি বাধা দেয়।
ভিডিওতে কথোপকথনরত বিজিবি সদস্যকে বলতে শোনা যায়, তারা আরাকান আর্মির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন।
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভেরিফায়েড ফেসবুক সূত্রে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দেওয়া পোস্ট থেকে জানা যায়, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় সংঘটিত হয়। এটি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবরের ঘটনা।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় নিহত ৪০ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক
ওই সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর নিকটবর্তী স্থানে আরাকান আর্মির একটি দল শূন্যরেখা অতিক্রম করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন।
পরবর্তীতে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করা হয়।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, পুরোনো ভিন্ন একটি ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার সঙ্গে নতুন করে প্রচারিত হচ্ছে।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৭৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ১২ জন আটক
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ এসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন