ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পুরোনো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার: ফ্যাক্টওয়াচ


পুরোনো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার: ফ্যাক্টওয়াচ

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ফ্যাক্টওয়াচ শনাক্ত করেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা নিয়ে একটি পুরোনো ভিন্ন ঘটনা নতুন করে প্রচারিত হচ্ছে।

ফ্যাক্টওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এই পুরোনো ঘটনাটি এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।

সংস্থাটি এসব ভিডিওকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২০ বছরের তরুণ নিহত, আহত ৩

ফেসবুকে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ অস্ত্রধারী কয়েকজনের কথোপকথনের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র কর্মী।

ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওতে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা আসলে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য।

এই ভিডিওটি বান্দরবানের থানচি থেকে গত বছর ধারণ করা হয়েছিল।

দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: হজের কোটা ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি হাবের

২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর চ্যানেলটিতে আপলোড করা ভিডিও থেকে জানা যায়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা আরাকান আর্মির সদস্য। তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি বাধা দেয়।

ভিডিওতে কথোপকথনরত বিজিবি সদস্যকে বলতে শোনা যায়, তারা আরাকান আর্মির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভেরিফায়েড ফেসবুক সূত্রে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দেওয়া পোস্ট থেকে জানা যায়, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় সংঘটিত হয়। এটি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবরের ঘটনা।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় নিহত ৪০ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক

ওই সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর নিকটবর্তী স্থানে আরাকান আর্মির একটি দল শূন্যরেখা অতিক্রম করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন।

পরবর্তীতে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করা হয়।

ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, পুরোনো ভিন্ন একটি ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার সঙ্গে নতুন করে প্রচারিত হচ্ছে।

দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৭৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ১২ জন আটক

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ এসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় শ্রমিক আন্দোলনে নিহতের অপপ্রচার শনাক্ত, এআই দিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে : বাংলাফ্যাক্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


ঢাকায় শ্রমিক আন্দোলনে নিহতের অপপ্রচার শনাক্ত, এআই দিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে : বাংলাফ্যাক্ট

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট শনাক্ত করেছে যে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভিডিওর মাধ্যমে ঢাকায় শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ২ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার মিথ্যা প্রচার করা হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওটি ছড়িয়ে ‘ঢাকাতে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ২ জন শ্রমিক নিহত’ হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ঢাকাতে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ২ জন শ্রমিক নিহত’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচারিত হয়েছে।

যাচাইয়ের পর বাংলাফ্যাক্ট নিশ্চিত করেছে যে, এই দাবির সাথে সম্পর্কিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভুয়া এই ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় তাঁতি দল নেতা হত্যা মামলায় ৫ আসামির মধ্যে ১ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


খুলনায় তাঁতি দল নেতা হত্যা মামলায় ৫ আসামির মধ্যে ১ জন গ্রেফতার

খুলনা, ২ নভেম্বর ২০২৬ : মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পুত্র সৈয়দ নুর আমিন সৌহার্দ্য গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) রাতে আড়ংঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরো ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি শেখ সিদ্দিক (৫৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান সোমবার সকালে বাসসকে নিশ্চিত করে বলেন, এজাহারভুক্ত আসামি সিদ্দিককে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, মূল অভিযুক্ত আরাফাতসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া শেখ সিদ্দিক রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত শেখ ইদ্রিস আলী ওরফে ইদিল ফকিরের পুত্র।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ৪ থেকে ৫ জন দুষ্কৃতিকারী (তাদের মধ্যে একজনের মুখ ঢাকা ছিল) দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইজি বাইকে এসে হুমায়ুন কবিরের নিজ প্রতিষ্ঠান 'আল-ক্যান্টিনো' নামক রেস্টুরেন্টে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে রয়েছে মইন, আরাফাত, ফায়েক ও বায়েজিদ। তারা সবাই রায়ের মহল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত আরাফাতের দোকান থেকে ক্রয়কৃত ফ্রিজের কিস্তির টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় ঘটনার আগে নিহত হুমায়ুন কবির এবং আরাফাত ও ফায়েকের মধ্যে তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। এরপরই তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হুমায়ুন কবিরকে আঘাত করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদ এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন তাঁতি দল নেতা হুমায়ুন কবির। ঘটনার সময় তিনি নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আল-ক্যান্টিনো' নামক রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিলেন। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হুমায়ুন কবির রায়ের মহল বড় মসজিদ এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর পুত্র।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিসিবি ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা কমাতে চায়, আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


টিসিবি ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা কমাতে চায়, আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্জন করা হবে।

এছাড়া, টিসিবি আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বাসসকে জানান, "সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্থাটিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, পণ্য কেনার খরচ, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, "চলতি অর্থবছরে আমরা ভর্তুকির ব্যয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছি। তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে সংস্থার মোট ভর্তুকির প্রয়োজনও বাড়তে পারে।"

২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিসিবির ভর্তুকি ব্যয় ছিল ২ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা, যেখানে বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ভর্তুকির প্রধান দুটি উৎস হলো পণ্য কেনা ও বিক্রির দামের পার্থক্য এবং ব্যাংক ঋণের সুদ।

টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, "টিসিবির মূল সমস্যা হলো, যে দামে পণ্য কেনা হয়, সেই দামের চেয়ে অনেক কম দামে তা বিক্রি করতে হয়। কিছু পণ্য কেনা দামের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ভোজ্যতেলে ভর্তুকির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।"

২০২২ সাল থেকে টিসিবি প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকায় বিক্রি করছে, অথচ বর্তমানে ডিলার কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়সহ প্রতি লিটার তেল কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। ব্যাংক ঋণের সুদ যোগ করলে এ খরচ প্রায় ২০০ টাকায় দাঁড়ায়।

ব্যাংক ঋণের সুদ কমানোর লক্ষ্যে টিসিবি এখন ঋণপত্র (এলসি) ও ঋণপত্রের বিপরীতে ঋণ (এলটিআর) সুবিধার পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কিনছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক ঋণের সুদ বাবদ প্রায় ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনায় এলসি চার্জ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমেছে প্রায় ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাটির বার্ষিক ব্যাংক ঋণের সুদ ব্যয় বর্তমানে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। এ ব্যয় থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, "আমরা ঋণপত্র (এলসি) এবং ব্যাংক ও সরকারের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা কমাচ্ছি। যেখানে সম্ভব, নগদ অর্থে পণ্য কেনা হচ্ছে।"

এছাড়া, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কম সুদে ঋণ সুবিধা পাওয়ায় টিসিবি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা ও এলটিআর সুবিধা নেওয়া শুরু করেছে।

বিক্রির অর্থ দ্রুত সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চালু করেছে টিসিবি। আগে এ অর্থ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হিসাবের মাধ্যমে আসত। নতুন ব্যবস্থায় ডিলারদের কাছ থেকে বিক্রির অর্থ দ্রুত টিসিবির হিসাবে জমা হবে। এতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নগদে পণ্য কেনা সহজ হবে।

ভর্তুকির বাইরেও আয় বাড়াতে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বাজারে এনেছে টিসিবি। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি।

আয়ের উৎস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ফয়সল আজাদ বলেন, "শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।"

পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানোসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমাতে বিতরণব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনেছে টিসিবি। আগে আঞ্চলিক গুদাম থেকে পণ্য জেলা প্রশাসনের গুদামে পাঠানো হতো। এখন আঞ্চলিক গুদাম থেকেই সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া জরিপের কাজে পুনরাবৃত্তি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, জরিপ ও এ-সংক্রান্ত কাজে বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। একই ধরনের জরিপের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা গেলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে ভর্তুকির মোট পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন টিসিবির চেয়ারম্যান। বর্তমানে অতিরিক্ত পণ্যসহ টিসিবির কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পণ্য কিনছেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, "চলতি বছর ৮০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে আগামী অর্থবছরে এক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর আশা করছি।"

বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই জানিয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, এসব পণ্য আগের দামেই বিক্রি হবে। নতুন বাণিজ্যিক পণ্যও যুক্ত করা হচ্ছে, তবে সেগুলো কেনা উপকারভোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

ফয়সল আজাদ বলেন, "উপকারভোগীরা চাইলে নতুন পণ্য কিনতে পারবেন। এসব পণ্য কেনা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কাউকে তা কিনতে বাধ্য করা হবে না।"

টিসিবি চেয়ারম্যানের আশা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধি, ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ধীরে ধীরে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনবিআরের তদন্তে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


এনবিআরের তদন্তে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : দুই পোশাক কারখানা ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে, যা বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি, কম মূল্যে রপ্তানি দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঘটেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) পৃথক তদন্তে এই রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে।

আজ এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। এর মধ্যে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইসির তদন্ত দল প্রতিষ্ঠান দুটির কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করে। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানির তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।

রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৩৭ টন বা ৭৮ শতাংশ কাপড় কারখানার গুদামে পাওয়া যায়নি। রপ্তানির হিসাবেও এসব কাপড়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড় সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানির নথিতে সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব পাওয়া গেলেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। যেসব ৩১টি ইউডিতে কোনো রপ্তানি হয়নি, সেগুলোর ৩০টিতেই আমদানি করা কাপড়ের পুরোটা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আংশিক রপ্তানি হওয়া ১০টি ইউডিতেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।

পরিদর্শনে পুরো কারখানায় ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় পাওয়া যায়। এই কাপড়ের পরিমাণ মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লিশা টেক্সের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়া যায়নি। এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু এ খাতেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করলেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই মূসক পরিশোধ না করে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিআইসির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%