০৪:৫৫ পি.এম
আমলকী একটি ফল যা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে আমলকীর জুস পান করলে শরীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে এর উপকারিতা নির্ভর করে পান করার পরিমাণ, প্রস্তুতির পদ্ধতি এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপর।
আমলকীর জুসের ৭ উপকারিতা
১. রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে: আমলকীর মধ্যে বিদ্যমান ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করে। তবে আমলকীর জুস পান করলেই সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আরও পড়ুন: বিটরুট শরবত তৈরির সহজ রেসিপি ও পুষ্টিগুণ
২. ত্বকের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে: ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরির জন্য অপরিহার্য। এটি ত্বকের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে আমলকীর জুস পান করলেই ত্বক ফর্সা বা বলিরেখামুক্ত হবে, এমন প্রমাণ নেই।
৩. আয়রন শোষণে সাহায্য করে: উদ্ভিজ্জ খাবারের মধ্যে থাকা আয়রন শরীরে শোষিত হতে ভিটামিন সি সহায়তা করে। ডাল, শাকসবজি এবং অন্যান্য উদ্ভিজ্জ আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে আমলকী খাওয়া উপকারী হতে পারে।
৪. কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে: আমলকীতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে আমলকী সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে।
৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা: কিছু গবেষণায় আমলকীর নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সাধারণ আমলকীর জুস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধের বিকল্প নয়।
আরও পড়ুন: ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে কি?
৬. কোলেস্টেরলের মাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে: সীমিত মানব গবেষণায় আমলকীর নির্যাস গ্রহণের পর ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL)-এর কিছু সূচকে উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে গবেষণা ছোট পরিসরের এবং জুসের ক্ষেত্রে একই ফল নিশ্চিত নয়।
৭. হজমে কিছুটা সহায়ক হতে পারে: আমলকী ফলের আঁশ হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তবে শুধুমাত্র জুস পান করলে আঁশের বড় অংশ বাদ পড়ে যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য গোটা ফল খাওয়া বা আঁশযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া বেশি উপকারী।
কখন ও কীভাবে আমলকীর জুস খাবেন?
- পরিমাণ: অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা উচিত। যেমন, ১–২টি ছোট আমলকী দিয়ে তৈরি জুস পানি মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এর কোনো সর্বজনস্বীকৃত চিকিৎসাগত ডোজ নেই।
আরও পড়ুন: শনিবার ১২ রাশির কেমন কাটবে, জেনে নিন রাশিফলে
- চিনি না মেশানো ভালো: অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে পানীয়টির ক্যালরি বৃদ্ধি পায়।
- খালি পেটে খেতেই হবে, এমন নয়: খালি পেটে খেলে বেশি উপকার হয়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। অস্বস্তি হলে খাবারের পরে পান করা উচিত।
- প্রতিদিন পান করা বাধ্যতামূলক নয়: সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আমলকী খাওয়া যেতে পারে।
কারা সতর্ক থাকবেন?
আরও পড়ুন: ঘর অগোছালো থাকলে মনের ওপরও পড়ে নেতিবাচক প্রভাব, গবেষণা বলছে
- যাদের গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে টক জুস অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
- ডায়াবেটিসের ওষুধ কিংবা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে নিয়মিত ঘন আমলকীর নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আরও পড়ুন: খালি পেটে গরম পানি খেলে শরীরে কি উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা?
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন