ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাউজানে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আব্দুর রহিম গ্রেফতার


রাউজানে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আব্দুর রহিম গ্রেফতার

চট্টগ্রাম, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : পুলিশ চট্টগ্রামের রাউজানে আব্দুর রহিম বাদশা (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে, যার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি ছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল শনিবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাউজান পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্রপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আব্দুর রহিম বাদশাকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করার সময় একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের জন্য লোড করা একটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পিস্তলটির গায়ে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লেখা ছিল।

গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহিম বাদশা রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা নতুনপাড়া এলাকার মৃত রাজা মিয়ার পুত্র।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গো যাওয়া সদস্যদের ব্রিফিং দিলেন বিমান বাহিনী প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গো যাওয়া সদস্যদের ব্রিফিং দিলেন বিমান বাহিনী প্রধান

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) নিযুক্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিটের কন্টিনজেন্ট পরিবর্তন করতে যাচ্ছে।

আজ রোববার, ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে কঙ্গোগামী কন্টিনজেন্ট সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

তিনি এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার আহ্বান জানান।

পরে, তিনি মিশনের সাফল্য কামনায় আয়োজিত এক বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, ঢাকায় নিয়োজিত এয়ার অফিসার এবং বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৪টি এমআই সিরিজ হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টসহ ১৩৪ জন সদস্য ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘের মনুস্কো শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন। ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট-২৩ দলটি তাদের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এই কন্টিনজেন্টের নেতৃত্বে থাকবেন এয়ার কমডোর এ টি এম ইরফানুর রহমান।

এছাড়া, গত ২৮ অক্টোবর কন্টিনজেন্টের ২৩ সদস্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কঙ্গোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। কন্টিনজেন্টের বাকি ১১২ সদস্য আগামী ৪ নভেম্বর কঙ্গোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ভেজাল খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


চট্টগ্রামে ভেজাল খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চট্টগ্রাম, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম মহানগরের আতুরার ডিপো এলাকায় নকল ডানো ক্রিম বিক্রি, খাদ্য প্রস্তুতে নিষিদ্ধ রাসায়নিক রঙের ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আজ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি টিমের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নিউ খাজা আজমির স্টোরকে ৭ হাজার টাকা, মেসার্স তৃপ্তি ফুডস প্রোডাক্টকে ১ লাখ টাকা এবং মাবিয়া বেকারিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিউ খাজা আজমির স্টোরে নকল ডানো ক্রিম বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য প্রস্তুতে নিষিদ্ধ ক্ষতিকর রাসায়নিক কেওড়া জল ও গোলাপজল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

মেসার্স তৃপ্তি ফুডস প্রোডাক্টে খাবার তৈরিতে রাসায়নিক রং ব্যবহারের পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাদ্যদ্রব্যে তেলাপোকার অবাধ বিচরণ দেখা যায় অভিযানে।

অন্যদিকে, মাবিয়া বেকারিতে মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না করে পণ্য মোড়কজাত ও বাজারজাত করার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ নেতৃত্ব দেন। অভিযানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দলও অংশগ্রহণ করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


বাংলাদেশ ব্যাংক এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করছে

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এই লক্ষ্যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। দেশের আর্থিক খাতের পরিবর্তিত সাইবার নিরাপত্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সাইবার হামলা শনাক্ত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জটিল সাইবার আক্রমণ মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হাসান বাসসকে জানান, ‘আমরা শিগগিরই নীতিমালাটি প্রণয়ন করে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেব। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা হালনাগাদ করবে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনা অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

জাকির হাসান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে। সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ জন্য সার্বক্ষণিক সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ বিশ্বব্যাপী একটি বিষয়। তবে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এ ধরনের কোনো সমস্যার মুখে পড়েনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৯ মার্চ ‘সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, ভার্সন ১.০ (২০২৬)’ জারি করে। এর আওতায় তফসিলি ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রদানকারী এবং পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি অভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

এ কাঠামোতে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ, তথ্য ও প্রযুক্তি অবকাঠামোর সুরক্ষা, সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তাজনিত ঘটনা মোকাবিলা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও আউটসোর্সিং কার্যক্রমের ঝুঁকি মোকাবিলা, নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং নির্দেশনা পরিপালন পর্যবেক্ষণের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কাঠামোটি ছয়টি মূল কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলো হলো—ঝুঁকি ও দুর্বলতা শনাক্ত করা, সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, হুমকি শনাক্ত করা, আক্রমণ মোকাবিলা করা, স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন তৈরি করা। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার হামলার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া, হামলার সময় সম্ভাব্য ক্ষতি সীমিত রাখা এবং হামলার পর দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় নানা চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। এআইভিত্তিক প্রযুক্তি বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, লেনদেনের অস্বাভাবিক ধরন শনাক্ত এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, সাইবার অপরাধীরাও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া বার্তা তৈরি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার হামলা পরিচালনা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নকল এবং গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে পারে। এমনকি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের চেষ্টাও হতে পারে।

এ কারণে ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগত সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যারের সময়মতো হালনাগাদ এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবে। তবে নীতিমালার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো কমিটির সুপারিশ ও চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে গত ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায়। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই দিন ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির কয়েকটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। গত ২১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ সতর্কবার্তায় বলা হয়, এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা আক্রান্ত সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করার পর গত ২৫ অক্টোবর সকাল ৮টায় ওয়েবসাইটটি আবার চালু করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ওই সময় বাসসকে জানান, কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি। ডিজিটাল লেনদেনসহ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায়ও কোনো ঝুঁকি নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার হামলার ঘটনা নিশ্চিত না হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, সময়মতো নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির গুরুত্ব তুলে ধরেছে ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রাখার এ ঘটনা।

এদিকে, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে তাদের ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করছি। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সাইবার হুমকি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই ব্যাংকগুলোকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু উন্নত প্রযুক্তি থাকলেই হবে না; দক্ষ জনবল, নিয়মিত কর্মী প্রশিক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা এককালীন কোনো উদ্যোগ নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ব্যাংকগুলোকে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে, সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংকিং সেবার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি বাড়ানো এবং নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে উদীয়মান ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য বিনিময়ে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের আর্থিক খাত ক্রমেই ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন পেমেন্ট এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এসব সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, লেনদেনের নিরাপত্তা এবং আর্থিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বড় ধরনের সাইবার হামলায় ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হতে পারে, সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হতে পারে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সাইবার হামলা মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

এআইভিত্তিক নতুন সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা এবং বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো দেশের আর্থিক খাতকে দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি পদক্ষেপ। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য নতুন প্রযুক্তি আর্থিক সেবার ধরন বদলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আস্থাশীল ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুর পৌরসভার ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী পেলেন অবসরকালীন বকেয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


চাঁদপুর পৌরসভার ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী পেলেন অবসরকালীন বকেয়া

চাঁদপুর, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) পরিশোধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে চাঁদপুর পৌরসভায়।

আজ রোববার বিকেল ৩টায় পৌর পাঠাগারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পৌরসভার ২৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

তিনি অনুষ্ঠানে বলেন, "অনেক দিন পর হলেও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ পেয়েছেন।" তিনি পৌর প্রশাসককে অনুরোধ করেন, ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য প্রতি মাসে যে অর্থ কাটা হয়, তা যেন নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হয়।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আরও বলেন, "অবসর জীবনে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সবার আগে নিজেদের দেনা পরিশোধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা সবাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা দুর্নীতি করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"

তিনি চাঁদপুর পৌরসভাকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়, তা সবার জানা। যারা ৩০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী এবং নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর আজম শরীফ সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি মো. মফিজ উদ্দিন হাওলাদার।

বকেয়া পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা এবং পৌর হাফেজ মাহমুদা উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী সুরাইয়া বেগম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আরিফ মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%