সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২৬ এম
লক্ষ্মীপুরে জাকির হোসেন জুয়েল নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে, যার গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এলাকায় ‘মাদক ব্যবসার’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের ডিপুটি বাড়ি এলাকার একটি সুপারি বাগান থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে রাত ১১টার দিকে কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ বাগানটিতে ফেলে রেখে যায়।
নিহত জুয়েল তোফায়েল আহমেদের ছেলে, যিনি পূর্ব নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে জুয়েলকে হত্যা করার পর মরদেহ বাগানে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসার জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, কিছুদিন আগে জুয়েল মাদক মামলায় জামিন পেয়েছিল। হত্যাকাণ্ডটি মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের ফল বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত শুরু করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। এই আয়োজনের প্রস্তুতি এবং উপকমিটিগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করার জন্য রোববার সচিবালয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন উপকমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।
সভায় সামিটের আয়োজন, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, প্রদর্শনী, আলোচনা অধিবেশন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগ, উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, সামিটে শতাধিক এআইভিত্তিক স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এসব স্টলে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তি, পণ্য, সেবা ও বাস্তবমুখী সমাধান তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শন এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
সামিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান অগ্রগতি, ব্যবসায়িক প্রয়োগ, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তিনটি আলোচনা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশনগুলোতে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
আলোচনায় এআই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দেশীয় উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সভায় সামিটের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপকমিটি ও অংশীজনদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আয়োজনের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়, অংশগ্রহণকারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং প্রদর্শনী ও আলোচনা অধিবেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আয়োজকদের আশা, এই সামিট দেশের এআইভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি এবং ডিসিসিআই সভাপতি উপস্থিত থাকবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে এক টুকরো জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন অনেকে। তবে, জাল দলিল, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কিংবা নকল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ফাঁদে পড়ে সেই স্বপ্নটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বা দেখভালের অভাব রয়েছে এমন জমির ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই জমি কেনার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, জমি কেনার আগে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই না করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারেন। জমি কেনাবেচায় জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিরাপদ জমি ক্রয়ের ৯টি কার্যকর কৌশল
ভলিউম-রেজিস্ট্রি নম্বর যাচাই: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল রেকর্ডের সঙ্গে দলিলের সাল, ভলিউম ও রেজিস্ট্রি নম্বর সঠিক কিনা তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে লিখিত দরখাস্তও দিতে হতে পারে।
সিল ও স্বাক্ষর চেক করুন: দলিলের সরকারি সিল এবং স্বাক্ষর স্বাভাবিক কিনা তা পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে বা সরকারি ছুটির দিনে রেজিস্ট্রি করা দলিল দেখলে সতর্ক থাকা উচিত।
প্রকৃত মালিক চিনুন: স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরনো খতিয়ান যাচাই করে আসল মালিককে শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই জমিতে একাধিক মালিকের দাবি থাকলে আরও সতর্ক থাকা উচিত।
নামজারি ও খতিয়ান পরীক্ষা: স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গিয়ে খতিয়ান, নামজারি, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সীমানা সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাচাই: আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে দলিলটিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের ছবি সংযুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। ছবি না থাকলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
দখল ও তারিখের মিল: দলিলের তারিখের সঙ্গে বাস্তবে জমি বুঝিয়ে পাওয়ার সময় বা ঘটনার মিল আছে কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন।
দলিল লেখকের খোঁজ নিন: দলিলটি কে তৈরি করেছেন (লেখক) তা জানুন এবং প্রয়োজনে সরেজমিন গিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
ভায়া দলিল ও উত্তরাধিকার যাচাই: পুরনো ভায়া দলিল, উত্তরাধিকার সনদ এবং কর পরিশোধের রশিদ বিক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করা উচিত।
স্ট্যাম্পের উৎস ও সিরিয়াল: ব্যবহৃত স্ট্যাম্পগুলো কোথা থেকে কেনা হয়েছে এবং এর সিরিয়াল নম্বর সঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিশেষে, একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাই না করে কখনোই জমি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটুখানি সতর্কতা ও সঠিক প্রস্তুতি আপনার কষ্টের জমানো টাকা এবং অমূল্য বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবী বা স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তা নিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনা যেন আকাশে উড়ছিল। টানা ৯ ম্যাচ জিতে তারা লা লিগার সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছিল। এরপর তাদের সামনে এসে দাঁড়াল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই রিয়াল, যারা এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে কিছুটা দেরিতে হলেও নিজেদের ফর্ম ফিরে পেয়েছিল। বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল সেই রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। রিয়াল বার্সাকে ২-১ গোলের হার উপহার দিল।
তবে স্কোরলাইনটি যেন ম্যাচের আসল চিত্রকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না। বার্সার মাঠে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সফরকারী রিয়ালই দাপট দেখিয়েছে। দুটো গোলের কোনোটিই ম্যাচের ধারার বিপরীতে মনে হয়নি।
অন্যদিকে, বার্সা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে খুবই কম। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া, সে চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ যেই না একবার পেয়েছিলেন, বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকে দাপট দেখানো রিয়াল গোলের দেখা পায় ৪১ মিনিটে। এতে বার্সা রক্ষণের দায়টাই যেন বেশি। ইয়ান দিওমান্দের নিরীহগোছের এক ক্রস গিয়ে পড়েছিল জেরার্দ মার্তিনের পায়ে। তিনি সেটি ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন মাঠের ভেতরের দিকে। সেটি বক্সে আগুয়ান এমবাপ্পের গা ছুঁয়ে জড়ায় জালে।
এই গোলের আগ পর্যন্ত বার্সেলোনা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। পেদ্রি একের পর এক মিসপাসে বল হারাচ্ছিলেন, ইয়ামালও হাঁটছিলেন একই পথে। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ দিকে বড় একটা সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামাল। বক্সের ভেতরে অনেকটাই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে ছিলেন শুধুই আন্দ্রিই লুনিন। তবে তিনি কাছের পোস্টে শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। শেষমেশ তা বেরিয়ে যায় লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল মাদ্রিদ। জুড বেলিংহাম কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন, তার সামনে ছিলেন শুধুই মার্তিন, পাশে ছিলেন এমবাপ্পে, পাস দিলেই খেলা শেষ। কিন্তু বেলিংহাম নিজে শট নিতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন।
এরপর গোল যে হলো বার্সার, তাতেও বেলিংহামের ‘অবদান’ ছিল বেশ। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। বেলিংহামের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন রাফিনিয়া, সেটি লুনিনের হাত ছুঁয়ে জড়ায় জালে। অনেকটাই ধারার বিপরীতে পাওয়া এই গোলের পর মনে হচ্ছিল বার্সা বুঝি এবার জেগে উঠল!
কিন্তু উলটো জাগল রিয়াল মাদ্রিদই। ৮৭ মিনিটে পেল তার ফল। আর তাতে বেলিংহাম যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কিছুটা। নিজেদের অর্ধে একাধিক বার্সা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইংলিশ এই মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন উইংয়ে, সেখানে আগুয়ান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা পাউ কুবারসিকে এড়িয়ে বল দেন এমবাপ্পেকে, এবং গোল। বার্সেলোনা গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছিল, ঠিক তখন নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে গোল হজমের পর ম্যাচের আর কিছু বাকি থাকে না।
এরপর এমবাপ্পে বালদে আদেয়েমিদের হলুদ কার্ডে পরিস্থিতি একটু উত্তপ্ত হয়েছে বটে। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি করতে পারেনি। রিয়াল মাঠ ছেড়েছে ২-১ গোলে জিতে। আর তাতেই উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামতে হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ছয়জন নারী এবং একজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নর্দার্ন কেপ প্রদেশের স্প্রিংবকে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। একই দিনে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিনের কাছে মিনিবাস ট্যাক্সি ও ট্রাকের সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় মেহেদি হাসান জানালেন, শনিবার দুপুরের পর দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে রুবেল হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। গাড়িতে থাকা আরেক বাংলাদেশি আহত হন, তবে তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। তিনি ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসেন এবং এখানে ফুফাতো ভাই আমির হোসেনের দোকানে কাজ করতেন।
স্থানীয় প্রবাসী নাসির উদ্দিন জানান, দোকানের মালিক দেশে ফিরে যাওয়ার কারণে রুবেল নতুন করে গাড়ি চালানো শিখেছিলেন। শনিবার দোকানের জন্য মালামাল কিনে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন।
রুবেলের দেশে স্ত্রী, দুই সন্তান, বৃদ্ধ মা এবং ছোট ভাই রয়েছেন। তার ফুফাতো ভাই আমির হোসেন ছুটি শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসলে রুবেলের দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন তাকে নিথর দেহে দেশে ফিরতে হবে।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিন শহরের বাইরে আর-৬১ সড়কে মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ইএনসিএ ও এসএবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনিবাস ট্যাক্সিটি পশ্চিম কেপের বিউফোর্ট ওয়েস্ট থেকে পূর্ব কেপের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আরও দুটি গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একটি কিয়া রিও গাড়ির একজন আরোহী আহত হন।
পূর্ব কেপ প্রদেশের পরিবহণ বিভাগের মুখপাত্র উনাথি বিনকোসে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালকের ক্লান্তি সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে।
এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ