প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বার্সেলোনা যেন আকাশে উড়ছিল। টানা ৯ ম্যাচ জিতে তারা লা লিগার সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছিল। এরপর তাদের সামনে এসে দাঁড়াল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই রিয়াল, যারা এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে কিছুটা দেরিতে হলেও নিজেদের ফর্ম ফিরে পেয়েছিল। বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল সেই রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। রিয়াল বার্সাকে ২-১ গোলের হার উপহার দিল।
তবে স্কোরলাইনটি যেন ম্যাচের আসল চিত্রকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না। বার্সার মাঠে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সফরকারী রিয়ালই দাপট দেখিয়েছে। দুটো গোলের কোনোটিই ম্যাচের ধারার বিপরীতে মনে হয়নি।
অন্যদিকে, বার্সা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে খুবই কম। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া, সে চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ যেই না একবার পেয়েছিলেন, বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকে দাপট দেখানো রিয়াল গোলের দেখা পায় ৪১ মিনিটে। এতে বার্সা রক্ষণের দায়টাই যেন বেশি। ইয়ান দিওমান্দের নিরীহগোছের এক ক্রস গিয়ে পড়েছিল জেরার্দ মার্তিনের পায়ে। তিনি সেটি ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন মাঠের ভেতরের দিকে। সেটি বক্সে আগুয়ান এমবাপ্পের গা ছুঁয়ে জড়ায় জালে।
এই গোলের আগ পর্যন্ত বার্সেলোনা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। পেদ্রি একের পর এক মিসপাসে বল হারাচ্ছিলেন, ইয়ামালও হাঁটছিলেন একই পথে। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ দিকে বড় একটা সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামাল। বক্সের ভেতরে অনেকটাই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে ছিলেন শুধুই আন্দ্রিই লুনিন। তবে তিনি কাছের পোস্টে শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। শেষমেশ তা বেরিয়ে যায় লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল মাদ্রিদ। জুড বেলিংহাম কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন, তার সামনে ছিলেন শুধুই মার্তিন, পাশে ছিলেন এমবাপ্পে, পাস দিলেই খেলা শেষ। কিন্তু বেলিংহাম নিজে শট নিতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন।
এরপর গোল যে হলো বার্সার, তাতেও বেলিংহামের ‘অবদান’ ছিল বেশ। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। বেলিংহামের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন রাফিনিয়া, সেটি লুনিনের হাত ছুঁয়ে জড়ায় জালে। অনেকটাই ধারার বিপরীতে পাওয়া এই গোলের পর মনে হচ্ছিল বার্সা বুঝি এবার জেগে উঠল!
কিন্তু উলটো জাগল রিয়াল মাদ্রিদই। ৮৭ মিনিটে পেল তার ফল। আর তাতে বেলিংহাম যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কিছুটা। নিজেদের অর্ধে একাধিক বার্সা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইংলিশ এই মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন উইংয়ে, সেখানে আগুয়ান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা পাউ কুবারসিকে এড়িয়ে বল দেন এমবাপ্পেকে, এবং গোল। বার্সেলোনা গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছিল, ঠিক তখন নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে গোল হজমের পর ম্যাচের আর কিছু বাকি থাকে না।
এরপর এমবাপ্পে বালদে আদেয়েমিদের হলুদ কার্ডে পরিস্থিতি একটু উত্তপ্ত হয়েছে বটে। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি করতে পারেনি। রিয়াল মাঠ ছেড়েছে ২-১ গোলে জিতে। আর তাতেই উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামতে হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন