প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে এক টুকরো জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন অনেকে। তবে, জাল দলিল, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কিংবা নকল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ফাঁদে পড়ে সেই স্বপ্নটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বা দেখভালের অভাব রয়েছে এমন জমির ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই জমি কেনার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, জমি কেনার আগে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই না করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারেন। জমি কেনাবেচায় জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিরাপদ জমি ক্রয়ের ৯টি কার্যকর কৌশল
ভলিউম-রেজিস্ট্রি নম্বর যাচাই: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল রেকর্ডের সঙ্গে দলিলের সাল, ভলিউম ও রেজিস্ট্রি নম্বর সঠিক কিনা তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে লিখিত দরখাস্তও দিতে হতে পারে।
সিল ও স্বাক্ষর চেক করুন: দলিলের সরকারি সিল এবং স্বাক্ষর স্বাভাবিক কিনা তা পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে বা সরকারি ছুটির দিনে রেজিস্ট্রি করা দলিল দেখলে সতর্ক থাকা উচিত।
প্রকৃত মালিক চিনুন: স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরনো খতিয়ান যাচাই করে আসল মালিককে শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই জমিতে একাধিক মালিকের দাবি থাকলে আরও সতর্ক থাকা উচিত।
নামজারি ও খতিয়ান পরীক্ষা: স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গিয়ে খতিয়ান, নামজারি, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সীমানা সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাচাই: আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে দলিলটিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের ছবি সংযুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। ছবি না থাকলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
দখল ও তারিখের মিল: দলিলের তারিখের সঙ্গে বাস্তবে জমি বুঝিয়ে পাওয়ার সময় বা ঘটনার মিল আছে কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন।
দলিল লেখকের খোঁজ নিন: দলিলটি কে তৈরি করেছেন (লেখক) তা জানুন এবং প্রয়োজনে সরেজমিন গিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
ভায়া দলিল ও উত্তরাধিকার যাচাই: পুরনো ভায়া দলিল, উত্তরাধিকার সনদ এবং কর পরিশোধের রশিদ বিক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করা উচিত।
স্ট্যাম্পের উৎস ও সিরিয়াল: ব্যবহৃত স্ট্যাম্পগুলো কোথা থেকে কেনা হয়েছে এবং এর সিরিয়াল নম্বর সঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিশেষে, একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাই না করে কখনোই জমি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটুখানি সতর্কতা ও সঠিক প্রস্তুতি আপনার কষ্টের জমানো টাকা এবং অমূল্য বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবী বা স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তা নিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন