সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২৪ এম
ফেনীর দাগনভূঞায় সেতারা বেগম (৮০) নামের এক মায়ের মৃত্যু ঘটেছে, যা তার মেয়ের বটির কোপের কারণে হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের মেয়ে রিনা আক্তার (২৭) কে আটক করেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিনা আক্তার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি, তিনি তার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার রাতে ঘরের ভেতর হঠাৎ করে বটি দিয়ে তিনি মাকে কোপাতে শুরু করেন। পরে, তিনি ঘরের দরজায় হুক লাগিয়ে দেন। এই ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে সেতারা বেগম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি সহ রিনা আক্তারকে আটক করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে বঙ্গবন্ধু সড়ক ও শায়েস্তা খান সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় এই হামলার চেষ্টা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়ে হকার উচ্ছেদ করতে আসেন। উচ্ছেদের এক পর্যায়ে হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘিরে ধরেন। তারা উচ্ছেদ কর্মীদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এক হকার, জীবন, বলেন, "নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আমাদের কোনো রকমের নোটিশ না দিয়ে রাতে উচ্ছেদ অভিযান করতে আসে। সেই সঙ্গে আমাদের সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমাদের ওপর হামলা করে সাখাওয়াতের লোকজন। আমিসহ অন্যান্য হকারদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।"
অন্য হকার সাইফুল ইসলাম জানান, "প্রশাসক লোকজন নিয়ে আমাদের হকারদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এটা উনার কাছ থেকে আশা করি নাই। পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করে তারা এই ঘটনায় প্রদক্ষেপ নেবেন। আমরা এই ঘটনার বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলন করব।"
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, "তিনি উচ্ছেদ অভিযানে আসছিলেন। তবে প্রশাসন কিংবা আমাদের কাউকে জানায়নি। তিনি উচ্ছেদ অভিযানের কাজ সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে হকারদের সঙ্গে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর আমাদের সংবাদ দিলে আমিসহ আমার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। সেই সঙ্গে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তিনি বর্তমানে বাসায় অবস্থান করছেন।"
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, "আমি উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিলাম। এসময় হকাররা আমাদের উচ্ছেদ কর্মীদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। তারা আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। সেই সঙ্গে তারা তাদের মালামাল রাস্তায় ফেলে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিল। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। বর্তমানে আমি বাসায় অবস্থান করছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর মো. রুবেল (৩৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে তিনি দোকানের মালামাল কিনে ফেরার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার জানায়, ২০২৩ সালে জীবিকার খোঁজে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে তিনি তার ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। শনিবার রাতে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। দেশে তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ মা রয়েছেন। রুবেলের মৃত্যুতে পরিবার এবং এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তার স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না? মাঝ রাতে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেল, এরপর চোখের পাতা এক হচ্ছে না? নিদ্রাহীনতা বা অনিদ্রা একটি সমস্যা, যা অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় ভুগেছেন বা এখনও ভুগছেন। কিছু মানুষের জন্য অনিদ্রা প্রবল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষ কেন অনিদ্রায় ভোগে––এর পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান। বার্ধক্য, রাতে বার বার প্রস্রাব, মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি, রাতের পালার কাজ––এসব বিষয় অনিদ্রার সৃষ্টি করতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, সেটাও জানা থাকা জরুরি।
বিবিসি'র ইনসাইড হেল্থ টিম এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু পরামর্শ সংগ্রহ করেছে।
অনিদ্রায় বিশেষজ্ঞরা নিজেরা কী করেন?
‘আমি ঘুমাতে পারছি না, এর খুব স্বাভাবিক কারণ হতে পারে আমার মস্তিষ্ক কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে আছে অথবা আমি খুব দুশ্চিন্তা করছি। এরকম হলে আমি একটি বই নিয়ে পড়তে শুরু করি এবং একটু হালকা অনুভব করার আগ পর্যন্ত পড়তে থাকি।’ কথাগুলো বলছিলেন সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ড. ফেইথ অর্চার্ড।
লন্ডনের রয়াল ব্রম্পটন হাসপাতালের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ব্রিটিশ স্লিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালি হায়ার বলেন, আমি যখনই অনিদ্রায় ভুগি, এর প্রধান কারণ হয় আমার স্বামী বিছানায় বার বার পাশ ফিরছে বা জোরে জোরে নাক ডাকছে। তাই আমি 'স্লিপ ডিভোর্স' পদ্ধতি বেছে নেই এবং অন্য একটি ঘরে ঘুমাতে চলে যাই।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুম না এলে আমি বিছানা ছেড়ে উঠে যাই এবং আবার নতুন করে এসে শুই। এটা একটি রিবুট সিস্টেমের মতো কাজ করে। সাধারণত মাথায় কোনো চিন্তা ঘোরাফেরা করার কারণেই অনিদ্রা দেখা দেয় এবং এটি বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রেই সত্য।
অনিদ্রার উপসর্গ কী?
ইসপির মতে, যদি ঘুম না আসার সমস্যা এক রাতের পর কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে এবং এরপর কয়েক সপ্তাহে গড়ায়, এভাবে তিন মাস বা তার বেশি সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আমরা এই অবস্থাকে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলি।
অনিদ্রার সমস্যাটি কয়েক ধরনের হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করেছেন ড. অর্চার্ড। তিনি বলছেন, ঘুম না আসা প্রাথমিক উপসর্গ। কিন্তু বাস্তবে আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকা, একবার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম না আসা, ভোর পর্যন্ত জেগে থাকার পর আর ঘুম না আসা এগুলোও অনেকের জন্য অনিদ্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ড. হেয়ারের মতে, অনিদ্রার লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ এবং ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য তা একইরকম। সপ্তাহে যদি তিন রাত ঘুমানোর ক্ষেত্রে কারো সমস্যা হয় এবং তিন মাসের বেশি সময় ধরে এটা চলে, আর রাতে ঘুম না আসার কারণে দিনের কাজে প্রভাব পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
ড. অর্চার্ড বলেন, যে হরমোনের কারণে ঘুম সৃষ্টি হয় এবং সারা দিনের কর্মযজ্ঞের ফলে শরীরে যে চাপের তৈরি হয়– এই দুটি প্রক্রিয়ারই পাশাপাশি চলা উচিত। এর মধ্যে কোনো একটার ব্যতিক্রম ঘটলে সমস্যা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দিনের বেলায় বা বিকালে এক দফা ঘুমিয়ে নিলে রাতের বেলায় ঘুম আসা কঠিনও হতে পারে।
‘এর বাইরেও অনিদ্রার পেছনে বাহ্যিক যেসব কারণ কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো দুশ্চিন্তা।’
অধ্যাপক ইসপি বলেন, ঘুমের ওপর আমরা দারুণভাবে নির্ভরশীল। নানা কিছুর বিবর্তন ঘটলেও ঘুমের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তন হয়নি। বরং বলা চলে মানুষ হিসেবে আমাদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত বড় ও জটিল প্রকৃতির, এর বিশ্রামের জন্যই তুলনামূলক বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বিপদ বা যে কোনো ধরনের হুমকির জন্য আমাদের মস্তিষ্কে যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়, যেটা আমাদের ঘুমকে তাড়ানোর কাজ করে, এই প্রবণতাও বিবর্তনের সঙ্গে পাল্টায়নি।
‘দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটা অনুভূতি তৈরি করে, যা আমাদের মনে করতে বাধ্য করায়– জেগে না থাকলেই বিপদ!’
ড. হেয়ার বলছেন, আমি এটা বলবো না যে নির্দিষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই অনিদ্রায় ভোগেন, তবে এটাও ঠিক যে দুরারোগ্য ব্যাধি বা মারাত্মক ব্যাথা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঘুমের সমস্যা হয়। এছাড়া দুশ্চিন্তা, হতাশা, উদ্বেগসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার মিথস্ক্রিয়ায়ও অনিদ্রা সৃষ্টি হতে পারে।
ঘুমের পেছনে মানুষের বয়সও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দেহঘড়িও পাল্টে যায়। কত সময় ধরে ঘুম হবে এবং তা কতটা গভীর হবে, তা এই দেহঘড়ির ওপরও নির্ভর করে। বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমে ব্যঘাত ঘটতে থাকে। একজন কিশোরের জন্য দেরি করে ঘুমিয়ে দেরি করে ওঠায় যতটা না সমস্যা হয়, কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষের জন্য আগে আগে ঘুমিয়েও একবার তা ভেঙে গেলে হয়তো আবার ঘুমানোর জন্য বেগ পেতে হয়।
ঘুমের ওপর জিনগত প্রভাবও কাজ করে। অধ্যাপক ইসপি যেমন বলছেন, খুব সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা উত্তেজিত হয়ে পড়ার মতো বংশগত উপসর্গ থাকে। এর সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে।
এছাড়া আপনি সকাল সকাল উঠে কাজ শুরু করছেন এবং রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছেন কিনা, বা বেলা করে উঠে কাজ শুরু করে শেষ রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন কিনা––এরকম প্রত্যাহিত অভ্যাসও ঘুমের আলাদা প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে অনিদ্রার পেছনে একাধিক ও নানা রকম কারণ থাকতে পারে বলেই তার অভিমত।
ঘুমাতে না পারলে কী করা উচিত?
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমাদের কী করা উচিত? এ নিয়ে কিছু কুসংস্কার রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।
তিনি বলেন, সকালের দিকে আমাদের ঘুমের প্রবণতা কমে আসতে থাকে। আবার ঘুম ভেঙে গেলে আমি আবার হয়তো ঘুমাতে পারবো না––এরকম একটা দুশ্চিন্তার আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, জোর করে কেউ ঘুমাতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই ঘুম এসে যায়, এর বাইরে যখনই আপনি ঘুমানোর জন্য জোর করে চেষ্টা করবেন- তখনই সমস্যার শুরু হয় বলে আমি সন্দেহ করি।
‘বিশ্বাস করুন আর না করুন, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো–ঘুম না আসলে জেগে থাকার সিদ্ধান্তই নেওয়া। ঘুমকে স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে পারেন আপনি,’ বলেন তিনি।
খুব সহজ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে জীবনের একটি ভালো রুটিন করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. অর্চার্ড।
একটি নির্দিষ্ট সময়েই শুতে যাওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সময়েই উঠে পড়ার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ককে একটি বার্তা দেওয়া যায় যে এখানেই ঘুমাতে হবে।
সোফায় বা চেয়ারে ঘুমিয়ে যাওয়া যেমন উচিত নয়, আবার বিছানায় বসে কাজ করাও ঠিক নয়, পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।
শোয়ার পর ঘুম না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া উচিত এবং আধা ঘণ্টার মতো অন্য কোনো কাজ করার পর আবার বিছানায় ফেরত যাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন ড. হেয়ার।
ঘুমের ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?
ড. হেয়ার বা অধ্যাপক ইসপি, এই দুইজনেরও কেউই ও ধরনের ওষুধ খাওয়ার পক্ষপাতি নন।
বরং তারা পরামর্শ দিচ্ছেন এক ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক থেরাপির যা মানুষকে তার চিন্তাধারা ও আচরণ পাল্টাতে সাহায্য করবে। এর ফলে অনিদ্রার সমস্যারও উপশম হবে।
এ ধরনের থেরাপি (কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি) ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে এবং ৫০ শতাংশ মানুষ অনিদ্রা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান বলে জানান ড. হেয়ার।
অধ্যাপক ইসপি বলছেন, এরকম থেরাপি যে ওষুধের চেয়ে বেশ কাজে দেয় সেটা অনেক রোগীই বিশ্বাস করতে চান না।
থেরাপির একটি অংশের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, স্লিপ রেস্ট্রিকশন থেরাপি নামে একটি পদ্ধতির পরামর্শ দেই আমরা। এর মাধ্যমে অনিদ্রার রোগীকে একটু দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটু আগে আগে ঘুম থেকে উঠতে বলা হয়।
কিছু মানুষ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, শোয়ার আগে ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খেয়ে তারা ঘুমের ক্ষেত্রে সুফল পেয়েছেন। কিন্তু ড. অর্চার্ড বলছেন, এই বিষয়টি বড় কোনো গবেষণায় প্রমাণিত নয়, বরং ছোটো আকারের কিছু জরিপে এর কথা বলা হয়েছে।
মেলাটোনিনের বিষয়টা কী?
অনেক দেশে এ ধরনের হরমোনের ওষুধ ফার্মেসিতে গেলেই পাওয়া যায়, আবার কোথাও কোথাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেনা সম্ভব।
এ বিষয়ে ড. হেয়ার বলছেন, এই বিষয়টাও অনেকটা ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার ও তার প্রভাবের মতোই। অনেক সময় হয়তো রোগী মন রক্ষায় এসব ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসকরা।
ঘুমের ওপর আরও যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে
ঘুমের আগে কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন? টেলিভিশন, কম্পিউটার নাকি মোবাইল ফোন––কোনটার দিকে তাকিয়ে আছেন সেই যন্ত্রটা নয়, বরং কী রকম আলো আপনার চোখে প্রবেশ করছে এটাই এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ড. অর্ডার্ড বলছেন, আপনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কী করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো আপনি ফোনের দিতে তাকিয়ে এমন কিছু দেখছেন যেটা আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করছে, এটায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু এমন কিছু যদি দেখেন যা আপনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে, সেটা অবশ্যই ঘুম বিঘ্নিত করতে পারে।
অনিদ্রার ওপর মেনোপজ, নাইট শিফট বা এলকোহলের কোনো প্রভাব আছে? থাকলে এগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলে?
ড. হেয়ার বলছেন, মেনোপজ বা রজোবিরতি নারীদের জন্য কঠিন সময় নিয়ে আসে এবং এর কারণে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে।
‘মেনোপজের কারণে হট ফ্ল্যাশ হয় এবং এটা ঘুম ব্যাহত করতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, বার বার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বা মুড চেঞ্জ এগুলো মেনোপজের সঙ্গেই আসে। তবে সংসার বা পরিবারিক চাপসহ অন্যান্য চাপও নারীর শরীরের ওপর এসময় প্রভাব ফেলে।
এলকোহলের বিষয়ে ড. অর্চার্ড বলেন, ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার গভীরতার যে প্যাটার্ন তৈরি হয়, এটা বদলে দিতে পারে এলকোহল।
‘এর আরও কয়েক ধরনের প্রভাব আছে। এলকোহল পান করার পর বারবার টয়লেটে যেতে হতে পারে; শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয়ে নাক ডাকার প্রবণতা চলে আসছে পারে; হরমোনের ওপর এলকোহলের প্রভাব থাকায় আবার এটি ঘুম আসা না আসাকেও বদলে দিতে পারে,’ বলেন তিনি।
নাইট শিফটের ধকল কীভাবে সামলানো সম্ভব এ ব্যাপারে ড. হায়ার বলেন, এ ক্ষেত্রে যে দিন নাইট শিফট নেই সেসব দিনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে ঘুমের চেষ্টা করতে হবে, পাশাপাশি ছোটো ছোটো ঘুম দিয়ে অভাবটা পূরণ করে নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরে জাকির হোসেন জুয়েল নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে, যার গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এলাকায় ‘মাদক ব্যবসার’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের ডিপুটি বাড়ি এলাকার একটি সুপারি বাগান থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে রাত ১১টার দিকে কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ বাগানটিতে ফেলে রেখে যায়।
নিহত জুয়েল তোফায়েল আহমেদের ছেলে, যিনি পূর্ব নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে জুয়েলকে হত্যা করার পর মরদেহ বাগানে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসার জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, কিছুদিন আগে জুয়েল মাদক মামলায় জামিন পেয়েছিল। হত্যাকাণ্ডটি মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের ফল বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত শুরু করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ