ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিষ্ঠার দুই দশকেও জনবলসহ নানা সংকটে ভুগছে বরিশাল মহানগর পুলিশ


প্রতিষ্ঠার দুই দশকেও জনবলসহ নানা সংকটে ভুগছে বরিশাল মহানগর পুলিশ

বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি)-এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (সোমবার)। এই বিশেষ উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় বিএমপি সদর দপ্তরে কর্তৃপক্ষ একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে বরিশালের ‘মহানগর পুলিশ’ প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরেও জনবল ও যানবাহনসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। জনবল সংকট এই মহানগর পুলিশের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অনেকটাই উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। গত ৩ মাসে বরিশাল মহানগর পুলিশ থেকে ৩ জন উপ-কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে, কিন্তু নতুন নিয়োগ হয়নি একজনেরও।

বরিশাল মহানগর পুলিশের অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২,১৩৫, কিন্তু কর্মরত জনবলের সংখ্যা ১,৮৫০ জনের মতো। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অনেক সময়েই কঠিন হয়ে পড়ছে। নগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেলেও মহানগর পুলিশ নানা সমস্যার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জনবল ও যানবাহন সংকট। নগরীর ট্রাফিক পুলিশের সীমাবদ্ধতার কারণে অবৈধ রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রাস্তাঘাট দখল করে নিচ্ছে। ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক সময়।

এ মহানগর পুলিশ ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনারের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ৮ জন উপ-কমিশনারের কাজ করছেন মাত্র ৩ জন। ১১ জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পদের বিপরীতে ৪ জন কর্মরত আছেন। ১৭ জন সহকারী কমিশনার পদের অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে মাদক ব্যবসার বিরোধে যুবক জাকির হোসেন জুয়েল খুন

গত দুই দশকে বিএমপি সদর দপ্তর, পুলিশ লাইন্স ও এয়ারপোর্ট থানা ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বন্দর থানার ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কোতোয়ালি থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলতি অর্থবছরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাউনিয়া থানার নির্মাণ প্রকল্প এখনও অনুমোদন পায়নি। প্রায় শত বছরের পুরোনো পুলিশ কমিশনারের বাসভবন নির্মাণ এখনও সম্পন্ন হয়নি। বরিশাল জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের জরাজীর্ণ বাসভবনে বর্তমানে ডিআইজি পদমর্যাদার বিএমপি কমিশনার বসবাস করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে গত দুই দশকেও বরিশাল মহানগর পুলিশ পূর্ণতা না পাওয়ায় নগরীর সাধারণ মানুষ ও সমাজসচেতনরা হতাশ। তবে সদ্য যোগ দেওয়া বিএমপি কমিশনার সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশের যেকোনো মহানগরীর তুলনায় বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো। সাধারণ মানুষ নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে খুব সন্তুষ্ট না হলেও অসন্তুষ্টও নন।

অপরাধ পর্যবেক্ষকদের মতে, নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে বড় কোনো সমস্যা নেই। তবে এসব বিষয়ে মহানগর পুলিশ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি রাতে নগরীর কোনো না কোনো এলাকায় ব্লক রেইড পরিচালনা করছে পুলিশ। নগরীর মাদকের ‘নিরাপদ আখড়া’ কেডিসি বস্তিসহ অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে সব আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রতিটি এলাকায় মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিএমপি এক হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজনসহ বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, এর মধ্যে মাদক মামলার অভিযুক্তও রয়েছে বিপুল সংখ্যক।

গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেওয়া বিএমপির ২২তম কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ বলেছেন, সংকট ও সমস্যা থাকবেই। তবে তার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে নিরন্তর চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক মো. রুবেলের মৃত্যু

২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে বরিশাল মহানগরীর ওয়াপদা কলোনি মাঠে বিএমপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র ও সদর আসনের এমপি মুজিবুর রহমান সারোয়ার। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে উদ্বোধনী ফলকটি উধাও হয়ে গেছে। ফলে দেশের ৫ম মহানগর পুলিশের শুরুর কোনো স্মৃতিচিহ্নও অবশিষ্ট নেই। সেদিন বরিশাল রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রথম ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। শুরুতে সাবেক কোতোয়ালি থানা নিয়ে মহানগর পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে থানার সংখ্যা ৪টি। কিন্তু কোনো থানাতেই চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন নেই। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলা নগরীতে টহল দিতে পুলিশ ইউনিটটি প্রতিনিয়ত সংকটে পড়ছে। পাশাপাশি মহানগর পুলিশের জন্য অন্তত ৩টি নতুন থানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। নগরীর রূপাতলী-কালিজিরা ও জাগুয়া এলাকা নিয়ে একটি থানার পাশাপাশি এয়ারপোর্ট থানাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনী থেকে কড়াপুর পর্যন্ত একটি থানার এবং চরমোনাই ইউনিয়ন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে আরও একটি থানার স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ওয়াকিফহাল মহল।

২০০৬ সাল থেকে হাঁটি হাঁটি পায়ে মহানগর পুলিশের কার্যক্রম চললেও ব্যাপক জনবল ঘাটতি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল ঘাটতি পুলিশ ইউনিটটির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকেও প্রতিনিয়ত ব্যাহত করছে। তবে গত দুই দশকে নগরীর ওয়াপদা কলোনির মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় এক একর জমি পুলিশ অধিদপ্তর কিনে সেখানে বিএমপির সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ করেছে। নগরীর রূপাতলী এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমির ওপর পুলিশ লাইন্স কার্যক্রম শুরু হলেও তা মহানগরীর একদম শেষ প্রান্তে হওয়ায় যেকোনো বড় ধরনের সংকটকালে ‘ফোর্স মুভমেন্ট’ অনেকটাই সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় নগরীর কেন্দ্রস্থলে জেলা পুলিশ লাইন্সটি মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু পরে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে বিএমপি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের জনবল মঞ্জুরি প্রায় সাড়ে ১২শো থেকে পরবর্তীতে ২,০৭৩-এ উন্নীত হয়ে বর্তমানে ২,১৩৫ জনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালে মহানগরীতে আরও ৪টি পুলিশ স্টেশন ও কয়েকটি ফাঁড়িসহ জনবল প্রায় ৪ হাজার ৩শো জনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিগত ৮ বছরেও তার অনুমোদন মেলেনি।

অপরদিকে বিদ্যমান জনবল কাঠামোর মধ্যেই অতিরিক্ত কমিশনার, উপ-কমিশনার, পরিদর্শক, এসআই, টিএসআই, সার্জেন্ট এবং কনস্টেবলের বিপুল সংখ্যক পদসমূহে জনবল ঘাটতি বরিশাল মহানগর পুলিশ ইউনিটের কর্মকাণ্ডকে শ্লথ করে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের ওপর হকারদের হামলার চেষ্টা

তবে গত দুই দশকে মহানগরীর আইনশৃঙ্খলাসহ পুলিশ ইউনিটের বেশকিছু উন্নয়ন এবং নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। জুলাই বিপ্লবের পরে টানা প্রায় ১৫ দিন পুলিশি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির থাকলেও নগরীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হয়নি। পুলিশের সাথে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্কও বিদ্যমান রয়েছে।

অবৈধ যানবাহনের চাপে পুরো নগরী এখন নুইয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নগর প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের মাঝে এখনও প্রয়োজনীয় সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। অবৈধ যানবাহনের নৈরাজ্যে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশও অসহায় হয়ে পড়ছে। নগরীতে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ নেই। নগরীজুড়ে দানবের মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাহিন্দ্রা-আলফার মতো বড় মাপের বেপরোয়া থ্রি-হুইলারও। নগরীর সব অবৈধ যানবাহনের চালকরাও অবৈধ। অনেক চালকের কোনো লাইসেন্স নেই। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে নগরীর পথে পথে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এ নগরীর নিয়তি হয়ে উঠেছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, দেশের যেকোনো এলাকার তুলনায় এ নগরীর আইনশৃঙ্খলা ভালো। তিনি বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি জনবান্ধব একটি পুলিশ ইউনিট গড়ে তুলতে।" তিনি জানান, এ নগরীতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে চলাচল করতে পারছেন। রোজা, ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ কোরবানির পশুর হাটগুলো নির্বিঘ্নে ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। যেকোনো উৎসবের আগে নগরবাসীর মতামত নিয়ে এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করেই তিনি নগরীর আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তার মতে, অতি সম্প্রতি দুর্গাপূজা অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফেনীতে মেয়ের বটির কোপে মায়ের মৃত্যু, আটক রিনা আক্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন ঘর পেলেন বিধবা আকলিমা বেগম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন ঘর পেলেন বিধবা আকলিমা বেগম

বিধবা হতদরিদ্র আকলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন আকলিমার দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেন।

নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগম শেরপুর জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন এবং সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এখন আর তাঁকে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতে হবে না। তাঁর বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে। আকলিমা বেগমের স্বামী আব্দুস সামাদ প্রায় ১০-১২ বছর আগে মারা গেছেন।

অসুস্থতার কারণে আকলিমার কাজ করার সামর্থ্য নেই; ফলে তাঁকে অন্যের দয়ায় দিন কাটাতে হয়। তাঁর দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার শুরু করেছেন। মেয়ে আজমিনা স্বামীপরিত্যক্তা। তাই মা-মেয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করেন। সংসারের খরচ, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখভাল—এসব কিছু সামলে জীবন চালানো তাঁদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের জরাজীর্ণ ঘরটিই ছিল একমাত্র আশ্রয়।

কিন্তু সেই আশ্রয়ও নিরাপদ ছিল না। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল চুইয়ে পানি পড়ত। নতুন ঘর নির্মাণ বা পুরোনো ঘর সংস্কারের জন্য তাঁদের কোন সামর্থ্য ছিল না।

তাদের এই দুরবস্থার কথা সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত হলে শেরপুরের মানবিক জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নজরে আনেন। পরে তিনি আকলিমার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বর্তমানে ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগমের দীর্ঘদিনের দুর্দশা দূর হয়েছে এবং তাঁর মনে ফিরেছে চরম স্বস্তি ও শান্তি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছোট্ট দীঘি এখন রূপসী নায়িকা, জন্মদিনে ভক্তরা মুগ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ এম


ছোট্ট দীঘি এখন রূপসী নায়িকা, জন্মদিনে ভক্তরা মুগ্ধ

ঢালিউডের চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘির জন্মদিন আজ ২৬ অক্টোবর। এই বিশেষ দিনে সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় তিনি সিক্ত হচ্ছেন। জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই নিজের একটি আকর্ষণীয় ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। ভিডিওটিতে দীঘির নতুন গ্ল্যামারাস রূপ দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন।

ভিডিওটিতে দীঘিকে ভিন্নধর্মী সাজে দেখা গেছে। হালকা নীল রঙের স্টাইলিশ গাউন, পরিপাটি করে বাঁধা চুল এবং মানানসই সাজে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলেন। পুরো আয়োজনেই ছিল নান্দনিকতার ছোঁয়া। টেবিলজুড়ে জ্বলছিল লম্বা সাদা মোমবাতি, আর মোমবাতির স্ট্যান্ডে ঝুলছিল মুক্তার মালা। সব মিলিয়ে জন্মদিনের আয়োজনটি পেয়েছিল রাজকীয় আবহ।

প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দীঘিকে কখনো সূর্যমুখী ও গোলাপের বড় তোড়া হাতে পোজ দিতে দেখা যায়, আবার কখনো মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে দেখা যায়। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জন্মদিনের বিশেষ সংগীত। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কিছুই না, এটা শুধু আমার জন্মদিন।’

দীঘির সাজ, অভিব্যক্তি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ভক্তদের নজর কেড়েছে। ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার বদলে যাওয়া রূপ নিয়েও চলছে আলোচনা।

একসময় শিশুশিল্পী হিসেবে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন দীঘি। পর্দায় তার মিষ্টি উপস্থিতি এখনো অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট্ট দীঘি এখন চিত্রনায়িকা। তাই জন্মদিনের ভিডিওতে তার নতুন রূপ দেখে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়েছে অনেক ভক্তের। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘শুভ জন্মদিন ছোট্ট দীঘি।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এটা সেই ছোট্ট দীঘি না?’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওল্ড ট্রাফোর্ডে হচ্চেটা: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরাজয় ও ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ এম


ওল্ড ট্রাফোর্ডে হচ্চেটা: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরাজয় ও ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা

কোচ আসে এবং কোচ চলে যায়, কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য পরিবর্তিত হয় না। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী দলটি গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের পুরোনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববার ৩-০ গোলে পরাজয়ের পর, মাইকেল ক্যারিককে মাঠে ঘুরে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে দেখে মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন পূর্বনির্ধারিত ছিল।

ক্যারিকের জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানানো নতুন কিছু নয়। তবে, এই দিনটি ছিল বিশেষ। কারণ, টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকার পর, যা ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর ক্লাবের সবচেয়ে বাজে সময়, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে গুরুতর আলোচনা চলছে।

যদি ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কেউ মনে করেন যে শুধুমাত্র কোচ পরিবর্তন করলেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে এবং সমর্থকরা সন্তুষ্ট হবে, তবে তাদের সেই ধারণা ভুল। কারণ গ্যালারি থেকে আসা প্রতিক্রিয়া ভিন্ন বার্তা দিয়েছে।

শুক্রবার বোর্নমাউথ ম্যাচের আগে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের প্রসঙ্গ টেনে ক্যারিক বলেছিলেন, "রোববার আমরা ভিন্ন একটি দল হব। আমাদের ভিন্ন হতেই হবে।" কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনি।

আগামী শনিবার চেলসির মাঠে ম্যাচে তিনি এখনও দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্যারিক বলেন, "দায়িত্ব আমার। এখন এর চেয়ে বেশি আর কী বলব? পরিস্থিতি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। কী হবে, সে বিষয়ে আমি কিছুই আশা করছি না। আমি এই ক্লাবকে ভালোবাসি এবং সবসময় ক্লাবের সেরা স্বার্থে কাজ করব।"

ম্যাচ শেষে ক্যারিক ড্রেসিংরুমে ঢুকে যাওয়ার পর সমর্থকেরা খেলোয়াড়দের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডিয়োগো দালোত মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত দুয়োধ্বনি চলতে থাকে।

অনেক সমর্থকের ধারণা, খেলোয়াড়রা হয় যথেষ্ট ভালো নয়, নয়তো তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। হয়তো উভয় সমস্যা বিদ্যমান।

তবে ক্ষোভের উৎস শুধু খেলোয়াড় বা কোচের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ শুরুর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গ্লেজার পরিবার এবং স্যার জিম র্যাটক্লিফের বিরুদ্ধে স্লোগান শুরু হয়।

২০০৫ সালে ঋণনির্ভর অধিগ্রহণের পর থেকেই গ্লেজার পরিবার ইউনাইটেড সমর্থকদের প্রধান অপছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেই ঋণ বেড়ে ১.১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হয়েছে।

সমর্থকদের যুক্তি, ঋণের সুদ পরিশোধে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ভালো খেলোয়াড় কেনার পেছনে ব্যবহার করা যেত।

২০২৩ সালের বড়দিনের আগের দিন র‌্যাটক্লিফ একটি অংশের মালিক হওয়ার চুক্তি করলে অনেকেই আশা করেছিলেন পরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু এরপর একের পর এক সিদ্ধান্ত তার ক্লাব পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিধ্বস্ত ব্রুনো বিহীন ইউনাইটেড

ভুল সিদ্ধান্তের দীর্ঘ তালিকা

২০২৪ সালের এফএ কাপ জয়ের পরও ইউনাইটেড এরিক টেন হাগকে দায়িত্বে রাখে এবং লেনি ইয়োরো, ম্যাথাইস ডি লিগট ও মানুয়েল উগার্তের মতো খেলোয়াড়দের পেছনে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করে।

পরে টেন হাগ অভিযোগ করেন, স্কট ম্যাকটোমিনেকে বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ক্লাব উগার্তেকে দলে ভেড়াতে সেই পথেই গেছে। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেন হাগ বরখাস্ত হন।

তারপর স্পোর্টিং লিসবন থেকে মৌসুমের মাঝপথে রুবেন আমোরিমকে আনা হয়, যদিও তিনি গ্রীষ্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন।

১৫তম স্থানে শেষ করার পরও তাকে দায়িত্বে রাখা হয়। পরে ইএফএল কাপে লিগ টু-এর গ্রিমসবির কাছে হারের পরও সমর্থন দেওয়া হয়। কিন্তু ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের সঙ্গে খেলার ধরন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে জানুয়ারিতে তাকেও বিদায় করা হয়।

এরপর মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিয়ে আসেন ক্যারিক। পরে দুই বছর পর দলকে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরিয়ে এনে স্থায়ী নিয়োগ পান তিনি।

এ অবস্থায় তিন মৌসুমে তৃতীয় কোচ বরখাস্ত হলে সেটি ক্লাবের কারও জন্যই ইতিবাচক বার্তা হবে না।

সমর্থকদের ক্ষোভ কেবল ফলাফলের কারণে নয়।

স্ট্রেটফোর্ড এন্ডে প্রদর্শিত "স্ট্যান্ডার্ডস" ব্যানারে ক্লাব কিংবদন্তি ব্রায়ান রবসন, এরিক কান্তোনা ও রয় কিনের ছবি ছিল। এটি ছিল ক্লাব পরিচালকদের উদ্দেশে একটি বার্তা, যে মানদণ্ডে ইউনাইটেডকে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।

ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স সাধারণত আড়ালে থাকেন। কিন্তু বোর্নমাউথ ম্যাচে তার বিরুদ্ধেও সমর্থকদের কটূক্তি শোনা গেছে। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় তাকেও দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে।

র‌্যাটক্লিফের অধিগ্রহণের পর সাউদাম্পটন থেকে আসা উইলকক্সকে অনেক সমর্থক সাম্প্রতিক খেলোয়াড় কেনাবেচার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন।

প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা, যিনি আগে ম্যানচেস্টার সিটিতে কাজ করেছেন, তাকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করেন, সিটির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ইউনাইটেডে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।

এদিকে গ্রীষ্মকালে টিকিট কালোবাজারি নিয়ে ক্লাবের তদন্তও সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ক্লাবের দাবি ছিল তারা দালালদের ধরতে চেয়েছে, কিন্তু অনেক সমর্থক মনে করেন ক্লাব নিয়মিত দর্শকদের সরিয়ে কর্পোরেট বিক্রির দিকে ঝুঁকছে।

এর পাশাপাশি নতুন ১ লাখ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ২ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হতে পারে, আর এ বছর জমি কিনতেই খরচ হয়েছে ৬৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

অনেক সমর্থক এই পরিকল্পনার পক্ষেও নন। ম্যাচ চলাকালে তারাও র‌্যাটক্লিফকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

মাইকেল ক্যারিক হয়তো খারাপ ফলাফলের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন, কিন্তু বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অস্থিরতার কারণ শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্স নয়। ক্লাবের ভেতরে ও বাইরে জমে থাকা অসন্তোষ এখন অনেক গভীর এবং বিস্তৃত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্র হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্র হচ্ছে

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট এবং প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে লড়াই প্রায় সমান পর্যায়ে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, দুর্নীতি ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে মধ্যপন্থী বিরোধী শিবিরের সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ায় নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোট দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন জোট ও প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে ব্যবধান খুব সামান্য দেখা গেছে। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকটের মধ্যপন্থী দল ইয়াশার সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। মরক্কোর শ্রমজীবী পরিবার থেকে উঠে আসা আইজেনকট শান্ত স্বভাব ও সংযত আচরণের জন্য পরিচিত। গাজা যুদ্ধে তিনি নিজের ছেলেকে হারিয়েছেন। নিজেকে ইসরায়েলের ধনী শহুরে অভিজাত শ্রেণির বাইরে থেকে উঠে আসা একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

শনিবার রাতে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে বিরোধী দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক সরকার পরিবর্তনের দাবিতে সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দুর্নীতির অবসান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর দাবি জানান। নির্বাচনী প্রচারে এআই-নির্ভর ভিডিওসহ নতুন কৌশলও ব্যবহৃত হচ্ছে।

আইজেনকটের বক্তব্যে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও শিক্ষার পাশাপাশি ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি এমন একটি ইসরায়েলের কথা বলেছেন, যা একই সঙ্গে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার, সহনশীল ও সমতাভিত্তিক হবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে এক টেলিভিশন বিতর্কে নেতানিয়াহুপন্থী এক বক্তা তাঁকে বর্ণবাদী ভাষায় আক্রমণ করলে তাঁর মরক্কীয় পরিচয় নির্বাচনী আলোচনায় উঠে আসে।

নেতানিয়াহুর সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, তাঁর সরকার বিচারব্যবস্থার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করেছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আইজেনকটসহ বিরোধী নেতারা ক্ষমতায় গেলে এ ধরনের কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে ইহুদি ইসরায়েলিদের ৭০ শতাংশের বেশি রাষ্ট্রীয় তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ সংক্রান্ত আদালতের রায় কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আইজেনকট। এই ইস্যুটি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর বিশেষ সুবিধা ও সামরিক দায়িত্বের সমতা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু তাঁর নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে রেখেছেন। তাঁর প্রচারের অন্যতম স্লোগান ‘আত্মসমর্পণ নয়’। তিনি বিরোধীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে দুর্বল হিসেবে তুলে ধরছেন এবং আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের সম্ভাবনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব; তাঁদের অনেকেই নিজেদের ফিলিস্তিনি পরিচয়ের ইসরায়েলি নাগরিক হিসেবে বর্ণনা করেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে। সেদিন হামাসের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র যোদ্ধারা গাজার সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করেন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করেন। এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত। তবে নেতানিয়াহু দাবি করছেন, পরবর্তী সময়ে গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দেশটির জন্য বড় হুমকি কমিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কিছু সমর্থক মনে করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর তাঁর নেতৃত্বে ইসরায়েলের আঞ্চলিক অবস্থান বদলে গেছে। তবে তাঁর দীর্ঘদিনের সমর্থকদের মধ্যে কেউ কেউ আরও ডানপন্থী দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। গাজার সীমান্তবর্তী সদেরো শহরের এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন লিকুদ পার্টিকে ভোট দিলেও এবার তিনি ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী দল জিউইশ পাওয়ারকে সমর্থন করবেন।

তরুণ ভোটারদের মধ্যে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইয়েদিওথ আহরোনোথ পত্রিকার জন্য করা ৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের ১৬ শতাংশের বেশি বেন-গভিরের মতো কট্টর ডানপন্থী দলগুলোকে বেছে নিতে পারেন। সদেরোর একটি ইহুদি ধর্মীয় কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলা তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।

তবে গাজার সীমান্তবর্তী নির ওজের মতো এলাকায় ভিন্ন মনোভাবও দেখা যাচ্ছে। ৭ অক্টোবরের হামলায় সেখানে ৪৭ জন নিহত এবং ৭৬ জন জিম্মি হয়েছিলেন। তিন বছর পর বাসিন্দারা এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। হামলায় দাদাকে হারানো ২৬ বছর বয়সী গাল পাউকার ও তাঁর মা গালিয়া মনে করেন, বর্তমান সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন। গালিয়া এবার আইজেনকটকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ছেলে আইজেনকট ও বামঘেঁষা ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলানের মধ্যে কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।

নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিভক্তি থাকলেও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতানিয়াহু ও বিরোধীদের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য নেই। আইজেনকট ১৮ মাসের মধ্যে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনা অথবা সামরিক পদক্ষেপের কথা বলেছেন। প্রধান বিরোধী নেতারাও অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো না কোনো ধরনের ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের কেউই প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেননি।

নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, আরব দলগুলো এমনসংখ্যক আসন পেতে পারে, যা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে উঠবে। তবে ইসরায়েলের ইহুদি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া অন্যরা এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর দুই জোটের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করেছে।

এদিকে, ইরান থেকে নতুন হুমকির আশঙ্কা নিয়ে নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তা, ভোটগ্রহণে সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়তে পারে বলে মানবাধিকারকর্মীদের সতর্কতা নির্বাচনের পরিবেশকে আরও জটিল করেছে। ফলে এবারের ভোট শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%