সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২৬ এম
জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে এক টুকরো জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন অনেকে। তবে, জাল দলিল, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কিংবা নকল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ফাঁদে পড়ে সেই স্বপ্নটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বা দেখভালের অভাব রয়েছে এমন জমির ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই জমি কেনার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, জমি কেনার আগে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই না করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারেন। জমি কেনাবেচায় জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিরাপদ জমি ক্রয়ের ৯টি কার্যকর কৌশল
ভলিউম-রেজিস্ট্রি নম্বর যাচাই: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল রেকর্ডের সঙ্গে দলিলের সাল, ভলিউম ও রেজিস্ট্রি নম্বর সঠিক কিনা তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে লিখিত দরখাস্তও দিতে হতে পারে।
সিল ও স্বাক্ষর চেক করুন: দলিলের সরকারি সিল এবং স্বাক্ষর স্বাভাবিক কিনা তা পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে বা সরকারি ছুটির দিনে রেজিস্ট্রি করা দলিল দেখলে সতর্ক থাকা উচিত।
প্রকৃত মালিক চিনুন: স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরনো খতিয়ান যাচাই করে আসল মালিককে শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই জমিতে একাধিক মালিকের দাবি থাকলে আরও সতর্ক থাকা উচিত।
নামজারি ও খতিয়ান পরীক্ষা: স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গিয়ে খতিয়ান, নামজারি, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সীমানা সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাচাই: আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে দলিলটিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের ছবি সংযুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। ছবি না থাকলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
দখল ও তারিখের মিল: দলিলের তারিখের সঙ্গে বাস্তবে জমি বুঝিয়ে পাওয়ার সময় বা ঘটনার মিল আছে কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন।
দলিল লেখকের খোঁজ নিন: দলিলটি কে তৈরি করেছেন (লেখক) তা জানুন এবং প্রয়োজনে সরেজমিন গিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
ভায়া দলিল ও উত্তরাধিকার যাচাই: পুরনো ভায়া দলিল, উত্তরাধিকার সনদ এবং কর পরিশোধের রশিদ বিক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করা উচিত।
স্ট্যাম্পের উৎস ও সিরিয়াল: ব্যবহৃত স্ট্যাম্পগুলো কোথা থেকে কেনা হয়েছে এবং এর সিরিয়াল নম্বর সঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিশেষে, একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাই না করে কখনোই জমি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটুখানি সতর্কতা ও সঠিক প্রস্তুতি আপনার কষ্টের জমানো টাকা এবং অমূল্য বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবী বা স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তা নিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনা যেন আকাশে উড়ছিল। টানা ৯ ম্যাচ জিতে তারা লা লিগার সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছিল। এরপর তাদের সামনে এসে দাঁড়াল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই রিয়াল, যারা এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে কিছুটা দেরিতে হলেও নিজেদের ফর্ম ফিরে পেয়েছিল। বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল সেই রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। রিয়াল বার্সাকে ২-১ গোলের হার উপহার দিল।
তবে স্কোরলাইনটি যেন ম্যাচের আসল চিত্রকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না। বার্সার মাঠে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সফরকারী রিয়ালই দাপট দেখিয়েছে। দুটো গোলের কোনোটিই ম্যাচের ধারার বিপরীতে মনে হয়নি।
অন্যদিকে, বার্সা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে খুবই কম। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া, সে চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ যেই না একবার পেয়েছিলেন, বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকে দাপট দেখানো রিয়াল গোলের দেখা পায় ৪১ মিনিটে। এতে বার্সা রক্ষণের দায়টাই যেন বেশি। ইয়ান দিওমান্দের নিরীহগোছের এক ক্রস গিয়ে পড়েছিল জেরার্দ মার্তিনের পায়ে। তিনি সেটি ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন মাঠের ভেতরের দিকে। সেটি বক্সে আগুয়ান এমবাপ্পের গা ছুঁয়ে জড়ায় জালে।
এই গোলের আগ পর্যন্ত বার্সেলোনা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। পেদ্রি একের পর এক মিসপাসে বল হারাচ্ছিলেন, ইয়ামালও হাঁটছিলেন একই পথে। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ দিকে বড় একটা সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামাল। বক্সের ভেতরে অনেকটাই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে ছিলেন শুধুই আন্দ্রিই লুনিন। তবে তিনি কাছের পোস্টে শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। শেষমেশ তা বেরিয়ে যায় লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল মাদ্রিদ। জুড বেলিংহাম কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন, তার সামনে ছিলেন শুধুই মার্তিন, পাশে ছিলেন এমবাপ্পে, পাস দিলেই খেলা শেষ। কিন্তু বেলিংহাম নিজে শট নিতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন।
এরপর গোল যে হলো বার্সার, তাতেও বেলিংহামের ‘অবদান’ ছিল বেশ। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। বেলিংহামের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন রাফিনিয়া, সেটি লুনিনের হাত ছুঁয়ে জড়ায় জালে। অনেকটাই ধারার বিপরীতে পাওয়া এই গোলের পর মনে হচ্ছিল বার্সা বুঝি এবার জেগে উঠল!
কিন্তু উলটো জাগল রিয়াল মাদ্রিদই। ৮৭ মিনিটে পেল তার ফল। আর তাতে বেলিংহাম যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কিছুটা। নিজেদের অর্ধে একাধিক বার্সা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইংলিশ এই মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন উইংয়ে, সেখানে আগুয়ান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা পাউ কুবারসিকে এড়িয়ে বল দেন এমবাপ্পেকে, এবং গোল। বার্সেলোনা গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছিল, ঠিক তখন নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে গোল হজমের পর ম্যাচের আর কিছু বাকি থাকে না।
এরপর এমবাপ্পে বালদে আদেয়েমিদের হলুদ কার্ডে পরিস্থিতি একটু উত্তপ্ত হয়েছে বটে। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি করতে পারেনি। রিয়াল মাঠ ছেড়েছে ২-১ গোলে জিতে। আর তাতেই উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামতে হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ছয়জন নারী এবং একজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নর্দার্ন কেপ প্রদেশের স্প্রিংবকে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। একই দিনে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিনের কাছে মিনিবাস ট্যাক্সি ও ট্রাকের সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় মেহেদি হাসান জানালেন, শনিবার দুপুরের পর দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে রুবেল হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। গাড়িতে থাকা আরেক বাংলাদেশি আহত হন, তবে তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। তিনি ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসেন এবং এখানে ফুফাতো ভাই আমির হোসেনের দোকানে কাজ করতেন।
স্থানীয় প্রবাসী নাসির উদ্দিন জানান, দোকানের মালিক দেশে ফিরে যাওয়ার কারণে রুবেল নতুন করে গাড়ি চালানো শিখেছিলেন। শনিবার দোকানের জন্য মালামাল কিনে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন।
রুবেলের দেশে স্ত্রী, দুই সন্তান, বৃদ্ধ মা এবং ছোট ভাই রয়েছেন। তার ফুফাতো ভাই আমির হোসেন ছুটি শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসলে রুবেলের দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন তাকে নিথর দেহে দেশে ফিরতে হবে।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিন শহরের বাইরে আর-৬১ সড়কে মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ইএনসিএ ও এসএবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনিবাস ট্যাক্সিটি পশ্চিম কেপের বিউফোর্ট ওয়েস্ট থেকে পূর্ব কেপের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আরও দুটি গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একটি কিয়া রিও গাড়ির একজন আরোহী আহত হন।
পূর্ব কেপ প্রদেশের পরিবহণ বিভাগের মুখপাত্র উনাথি বিনকোসে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালকের ক্লান্তি সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে।
এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোজ্যতেল, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট এবং অনিয়ম প্রতিরোধে দেশের ৩৬টি জেলায় অভিযান পরিচালনা করে ১০১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (২৫ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ৫২টি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়গুলো তদারকি করা হয়। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ, হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন তারা দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন করে, ডিজিটাল ওজনে পণ্য বিক্রি করে এবং ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মজুত এবং পণ্যের সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। বাজারে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। কেনাকাটার সময় পণ্যের মেয়াদ এবং সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) যাচাই করার পাশাপাশি ক্যাশমেমো বা ক্রয়ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পণ্য কেনাবেচায় প্রতারণা, মূল্য কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর সীমান্তের পার্বতীপুর অংশে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধ এবং বাড়ি নির্মাণের মালামাল ক্রয়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসাদুজ্জামান (৩৬) নামের এক যুবককে এবং গভীর রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের বড় হাশিমপুর সরকারপাড়া থেকে আলোম হোসেন আলোকে (৪০) আটক করেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের রাবেয়ার মোড় এলাকার নয়া মোল্লাপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিহত মনোরঞ্জন রায়ের সাথে নয়া মন্ডলপাড়ার মৃত আজিজুর রহমানের কলেজজীবনের বন্ধুত্ব ছিল। অসুস্থতার কারণে আজিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করলে, তাঁর বন্ধুরা একত্রিত হয়ে (মনোরঞ্জন রায়ের কিছু জমি মৃত বন্ধু আজিজুরের বাড়ির পাশে হওয়ায়) তাঁর পরিবারকে দেখভালের দায়িত্ব দেন। তখন থেকেই ওই পরিবারের সাথে মনোরঞ্জনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
অন্যদিকে, মৃত আজিজুরের স্ত্রী রোমানা বেগম ফরতাজ হোসেন (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে ধর্মপিতা হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর থেকে ফরতাজ প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে শুরু করেন। কয়েক মাস আগে, মৃত আজিজুরের স্ত্রী রোমানা বেগম ও তাঁর সন্তানেরা পুরোনো বাড়ি ভেঙে নয়া মোল্লাপাড়ার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এতে প্রতিবেশী মোস্তাহার, আলোম হোসেন, আসাদুজ্জামান ও শরিফুল ইসলামের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং রাস্তা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। প্রতিবেশীরা শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে দায়ী করেন নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য।
এছাড়াও, নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় বিভিন্ন মালামাল ক্রয় ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেন বেশি দামের প্রস্তাব দিলেও শিক্ষক মনোরঞ্জন কম দামের প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত মৃত আজিজুরের পরিবার শিক্ষকের প্রস্তাব মেনে মালামাল ক্রয় করে এবং বাড়ি নির্মাণ শেষ করে। এতে ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেন চরম ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি ধর্মমেয়ের বাড়িতে এসে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং বকাবকি শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে ধর্মমেয়ে রোমানা বেগমকে মারধর করেন ফরতাজ। পরে রোমানা বেগম মুঠোফোনে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত তাঁদের বাড়িতে আসতে বলেন। শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় মৃত আজিজুরের বড় ভাইকে সাথে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছান।
সেখানে পৌঁছামাত্র ফরতাজ শিক্ষক মনোরঞ্জনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন এবং ধর্মমেয়ের সাথে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন ফরতাজ হোসেনের গালে একটি চড় দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফরতাজ প্রতিবেশী মোস্তাহার, তাঁর ছেলে আলোম হোসেন আলো, আসাদুজ্জামান এবং আরেক প্রতিবেশী শরিফুলকে ডেকে আনেন। তাঁরা এসে বেড়ার বাঁশের খুঁটি, কাঠের বাতা ও লাঠি দিয়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
এ সময় নিহতের পরিবারের লোকজন বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন দৌড়ানোর চেষ্টা করলে আলোম হোসেন, ফরতাজ হোসেন, আসাদুজ্জামান ও শরিফুল একটি গাছের ডাল ভেঙে পেছনে ধাওয়া করেন এবং মারতে মারতে প্রায় দেড়শ মিটার দূরে একটি ধানখেতে ফেলে রেখে যান। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে এক শিশু ঘাস কাটতে গিয়ে ধানখেতে শিক্ষকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকজন তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আসাদুজ্জামান নামের একজনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যান। নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের চকসুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং চকসুকদেবপুর গ্রামের মালিপাড়ার অসীম চন্দ্র রায়ের ছেলে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে আসাদুজ্জামানকে এবং গভীর রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর থেকে আলোম হোসেন আলোকে আটক করা হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে চন্দন কুমার রায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ