সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২৭ এম
দক্ষিণ আফ্রিকার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ছয়জন নারী এবং একজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নর্দার্ন কেপ প্রদেশের স্প্রিংবকে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। একই দিনে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিনের কাছে মিনিবাস ট্যাক্সি ও ট্রাকের সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় মেহেদি হাসান জানালেন, শনিবার দুপুরের পর দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে রুবেল হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। গাড়িতে থাকা আরেক বাংলাদেশি আহত হন, তবে তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। তিনি ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসেন এবং এখানে ফুফাতো ভাই আমির হোসেনের দোকানে কাজ করতেন।
স্থানীয় প্রবাসী নাসির উদ্দিন জানান, দোকানের মালিক দেশে ফিরে যাওয়ার কারণে রুবেল নতুন করে গাড়ি চালানো শিখেছিলেন। শনিবার দোকানের জন্য মালামাল কিনে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন।
রুবেলের দেশে স্ত্রী, দুই সন্তান, বৃদ্ধ মা এবং ছোট ভাই রয়েছেন। তার ফুফাতো ভাই আমির হোসেন ছুটি শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসলে রুবেলের দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন তাকে নিথর দেহে দেশে ফিরতে হবে।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিন শহরের বাইরে আর-৬১ সড়কে মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ইএনসিএ ও এসএবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনিবাস ট্যাক্সিটি পশ্চিম কেপের বিউফোর্ট ওয়েস্ট থেকে পূর্ব কেপের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আরও দুটি গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একটি কিয়া রিও গাড়ির একজন আরোহী আহত হন।
পূর্ব কেপ প্রদেশের পরিবহণ বিভাগের মুখপাত্র উনাথি বিনকোসে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালকের ক্লান্তি সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে।
এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোজ্যতেল, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট এবং অনিয়ম প্রতিরোধে দেশের ৩৬টি জেলায় অভিযান পরিচালনা করে ১০১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (২৫ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ৫২টি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়গুলো তদারকি করা হয়। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ, হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন তারা দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন করে, ডিজিটাল ওজনে পণ্য বিক্রি করে এবং ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মজুত এবং পণ্যের সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। বাজারে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। কেনাকাটার সময় পণ্যের মেয়াদ এবং সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) যাচাই করার পাশাপাশি ক্যাশমেমো বা ক্রয়ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পণ্য কেনাবেচায় প্রতারণা, মূল্য কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর সীমান্তের পার্বতীপুর অংশে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধ এবং বাড়ি নির্মাণের মালামাল ক্রয়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসাদুজ্জামান (৩৬) নামের এক যুবককে এবং গভীর রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের বড় হাশিমপুর সরকারপাড়া থেকে আলোম হোসেন আলোকে (৪০) আটক করেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের রাবেয়ার মোড় এলাকার নয়া মোল্লাপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিহত মনোরঞ্জন রায়ের সাথে নয়া মন্ডলপাড়ার মৃত আজিজুর রহমানের কলেজজীবনের বন্ধুত্ব ছিল। অসুস্থতার কারণে আজিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করলে, তাঁর বন্ধুরা একত্রিত হয়ে (মনোরঞ্জন রায়ের কিছু জমি মৃত বন্ধু আজিজুরের বাড়ির পাশে হওয়ায়) তাঁর পরিবারকে দেখভালের দায়িত্ব দেন। তখন থেকেই ওই পরিবারের সাথে মনোরঞ্জনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
অন্যদিকে, মৃত আজিজুরের স্ত্রী রোমানা বেগম ফরতাজ হোসেন (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে ধর্মপিতা হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর থেকে ফরতাজ প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে শুরু করেন। কয়েক মাস আগে, মৃত আজিজুরের স্ত্রী রোমানা বেগম ও তাঁর সন্তানেরা পুরোনো বাড়ি ভেঙে নয়া মোল্লাপাড়ার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এতে প্রতিবেশী মোস্তাহার, আলোম হোসেন, আসাদুজ্জামান ও শরিফুল ইসলামের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং রাস্তা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। প্রতিবেশীরা শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে দায়ী করেন নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য।
এছাড়াও, নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় বিভিন্ন মালামাল ক্রয় ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেন বেশি দামের প্রস্তাব দিলেও শিক্ষক মনোরঞ্জন কম দামের প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত মৃত আজিজুরের পরিবার শিক্ষকের প্রস্তাব মেনে মালামাল ক্রয় করে এবং বাড়ি নির্মাণ শেষ করে। এতে ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেন চরম ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি ধর্মমেয়ের বাড়িতে এসে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং বকাবকি শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে ধর্মমেয়ে রোমানা বেগমকে মারধর করেন ফরতাজ। পরে রোমানা বেগম মুঠোফোনে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত তাঁদের বাড়িতে আসতে বলেন। শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় মৃত আজিজুরের বড় ভাইকে সাথে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছান।
সেখানে পৌঁছামাত্র ফরতাজ শিক্ষক মনোরঞ্জনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন এবং ধর্মমেয়ের সাথে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন ফরতাজ হোসেনের গালে একটি চড় দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফরতাজ প্রতিবেশী মোস্তাহার, তাঁর ছেলে আলোম হোসেন আলো, আসাদুজ্জামান এবং আরেক প্রতিবেশী শরিফুলকে ডেকে আনেন। তাঁরা এসে বেড়ার বাঁশের খুঁটি, কাঠের বাতা ও লাঠি দিয়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
এ সময় নিহতের পরিবারের লোকজন বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন দৌড়ানোর চেষ্টা করলে আলোম হোসেন, ফরতাজ হোসেন, আসাদুজ্জামান ও শরিফুল একটি গাছের ডাল ভেঙে পেছনে ধাওয়া করেন এবং মারতে মারতে প্রায় দেড়শ মিটার দূরে একটি ধানখেতে ফেলে রেখে যান। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে এক শিশু ঘাস কাটতে গিয়ে ধানখেতে শিক্ষকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকজন তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আসাদুজ্জামান নামের একজনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যান। নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের চকসুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং চকসুকদেবপুর গ্রামের মালিপাড়ার অসীম চন্দ্র রায়ের ছেলে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে আসাদুজ্জামানকে এবং গভীর রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর থেকে আলোম হোসেন আলোকে আটক করা হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে চন্দন কুমার রায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি)-এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (সোমবার)। এই বিশেষ উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় বিএমপি সদর দপ্তরে কর্তৃপক্ষ একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে বরিশালের ‘মহানগর পুলিশ’ প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরেও জনবল ও যানবাহনসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। জনবল সংকট এই মহানগর পুলিশের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অনেকটাই উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। গত ৩ মাসে বরিশাল মহানগর পুলিশ থেকে ৩ জন উপ-কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে, কিন্তু নতুন নিয়োগ হয়নি একজনেরও।
বরিশাল মহানগর পুলিশের অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২,১৩৫, কিন্তু কর্মরত জনবলের সংখ্যা ১,৮৫০ জনের মতো। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অনেক সময়েই কঠিন হয়ে পড়ছে। নগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেলেও মহানগর পুলিশ নানা সমস্যার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জনবল ও যানবাহন সংকট। নগরীর ট্রাফিক পুলিশের সীমাবদ্ধতার কারণে অবৈধ রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রাস্তাঘাট দখল করে নিচ্ছে। ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক সময়।
এ মহানগর পুলিশ ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনারের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ৮ জন উপ-কমিশনারের কাজ করছেন মাত্র ৩ জন। ১১ জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পদের বিপরীতে ৪ জন কর্মরত আছেন। ১৭ জন সহকারী কমিশনার পদের অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে।
গত দুই দশকে বিএমপি সদর দপ্তর, পুলিশ লাইন্স ও এয়ারপোর্ট থানা ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বন্দর থানার ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কোতোয়ালি থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলতি অর্থবছরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাউনিয়া থানার নির্মাণ প্রকল্প এখনও অনুমোদন পায়নি। প্রায় শত বছরের পুরোনো পুলিশ কমিশনারের বাসভবন নির্মাণ এখনও সম্পন্ন হয়নি। বরিশাল জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের জরাজীর্ণ বাসভবনে বর্তমানে ডিআইজি পদমর্যাদার বিএমপি কমিশনার বসবাস করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে গত দুই দশকেও বরিশাল মহানগর পুলিশ পূর্ণতা না পাওয়ায় নগরীর সাধারণ মানুষ ও সমাজসচেতনরা হতাশ। তবে সদ্য যোগ দেওয়া বিএমপি কমিশনার সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশের যেকোনো মহানগরীর তুলনায় বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো। সাধারণ মানুষ নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে খুব সন্তুষ্ট না হলেও অসন্তুষ্টও নন।
অপরাধ পর্যবেক্ষকদের মতে, নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে বড় কোনো সমস্যা নেই। তবে এসব বিষয়ে মহানগর পুলিশ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি রাতে নগরীর কোনো না কোনো এলাকায় ব্লক রেইড পরিচালনা করছে পুলিশ। নগরীর মাদকের ‘নিরাপদ আখড়া’ কেডিসি বস্তিসহ অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে সব আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রতিটি এলাকায় মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিএমপি এক হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজনসহ বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, এর মধ্যে মাদক মামলার অভিযুক্তও রয়েছে বিপুল সংখ্যক।
গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেওয়া বিএমপির ২২তম কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ বলেছেন, সংকট ও সমস্যা থাকবেই। তবে তার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে নিরন্তর চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।
২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে বরিশাল মহানগরীর ওয়াপদা কলোনি মাঠে বিএমপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র ও সদর আসনের এমপি মুজিবুর রহমান সারোয়ার। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে উদ্বোধনী ফলকটি উধাও হয়ে গেছে। ফলে দেশের ৫ম মহানগর পুলিশের শুরুর কোনো স্মৃতিচিহ্নও অবশিষ্ট নেই। সেদিন বরিশাল রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রথম ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। শুরুতে সাবেক কোতোয়ালি থানা নিয়ে মহানগর পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে থানার সংখ্যা ৪টি। কিন্তু কোনো থানাতেই চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন নেই। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলা নগরীতে টহল দিতে পুলিশ ইউনিটটি প্রতিনিয়ত সংকটে পড়ছে। পাশাপাশি মহানগর পুলিশের জন্য অন্তত ৩টি নতুন থানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। নগরীর রূপাতলী-কালিজিরা ও জাগুয়া এলাকা নিয়ে একটি থানার পাশাপাশি এয়ারপোর্ট থানাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনী থেকে কড়াপুর পর্যন্ত একটি থানার এবং চরমোনাই ইউনিয়ন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে আরও একটি থানার স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ওয়াকিফহাল মহল।
২০০৬ সাল থেকে হাঁটি হাঁটি পায়ে মহানগর পুলিশের কার্যক্রম চললেও ব্যাপক জনবল ঘাটতি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল ঘাটতি পুলিশ ইউনিটটির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকেও প্রতিনিয়ত ব্যাহত করছে। তবে গত দুই দশকে নগরীর ওয়াপদা কলোনির মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় এক একর জমি পুলিশ অধিদপ্তর কিনে সেখানে বিএমপির সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ করেছে। নগরীর রূপাতলী এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমির ওপর পুলিশ লাইন্স কার্যক্রম শুরু হলেও তা মহানগরীর একদম শেষ প্রান্তে হওয়ায় যেকোনো বড় ধরনের সংকটকালে ‘ফোর্স মুভমেন্ট’ অনেকটাই সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় নগরীর কেন্দ্রস্থলে জেলা পুলিশ লাইন্সটি মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু পরে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে বিএমপি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের জনবল মঞ্জুরি প্রায় সাড়ে ১২শো থেকে পরবর্তীতে ২,০৭৩-এ উন্নীত হয়ে বর্তমানে ২,১৩৫ জনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালে মহানগরীতে আরও ৪টি পুলিশ স্টেশন ও কয়েকটি ফাঁড়িসহ জনবল প্রায় ৪ হাজার ৩শো জনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিগত ৮ বছরেও তার অনুমোদন মেলেনি।
অপরদিকে বিদ্যমান জনবল কাঠামোর মধ্যেই অতিরিক্ত কমিশনার, উপ-কমিশনার, পরিদর্শক, এসআই, টিএসআই, সার্জেন্ট এবং কনস্টেবলের বিপুল সংখ্যক পদসমূহে জনবল ঘাটতি বরিশাল মহানগর পুলিশ ইউনিটের কর্মকাণ্ডকে শ্লথ করে দিচ্ছে।
তবে গত দুই দশকে মহানগরীর আইনশৃঙ্খলাসহ পুলিশ ইউনিটের বেশকিছু উন্নয়ন এবং নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। জুলাই বিপ্লবের পরে টানা প্রায় ১৫ দিন পুলিশি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির থাকলেও নগরীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হয়নি। পুলিশের সাথে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্কও বিদ্যমান রয়েছে।
অবৈধ যানবাহনের চাপে পুরো নগরী এখন নুইয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নগর প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের মাঝে এখনও প্রয়োজনীয় সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। অবৈধ যানবাহনের নৈরাজ্যে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশও অসহায় হয়ে পড়ছে। নগরীতে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ নেই। নগরীজুড়ে দানবের মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাহিন্দ্রা-আলফার মতো বড় মাপের বেপরোয়া থ্রি-হুইলারও। নগরীর সব অবৈধ যানবাহনের চালকরাও অবৈধ। অনেক চালকের কোনো লাইসেন্স নেই। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে নগরীর পথে পথে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এ নগরীর নিয়তি হয়ে উঠেছে।
বরিশাল মহানগর পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, দেশের যেকোনো এলাকার তুলনায় এ নগরীর আইনশৃঙ্খলা ভালো। তিনি বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি জনবান্ধব একটি পুলিশ ইউনিট গড়ে তুলতে।" তিনি জানান, এ নগরীতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে চলাচল করতে পারছেন। রোজা, ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ কোরবানির পশুর হাটগুলো নির্বিঘ্নে ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। যেকোনো উৎসবের আগে নগরবাসীর মতামত নিয়ে এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করেই তিনি নগরীর আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তার মতে, অতি সম্প্রতি দুর্গাপূজা অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিধবা হতদরিদ্র আকলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন আকলিমার দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেন।
নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগম শেরপুর জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন এবং সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এখন আর তাঁকে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতে হবে না। তাঁর বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে। আকলিমা বেগমের স্বামী আব্দুস সামাদ প্রায় ১০-১২ বছর আগে মারা গেছেন।
অসুস্থতার কারণে আকলিমার কাজ করার সামর্থ্য নেই; ফলে তাঁকে অন্যের দয়ায় দিন কাটাতে হয়। তাঁর দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার শুরু করেছেন। মেয়ে আজমিনা স্বামীপরিত্যক্তা। তাই মা-মেয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করেন। সংসারের খরচ, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখভাল—এসব কিছু সামলে জীবন চালানো তাঁদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের জরাজীর্ণ ঘরটিই ছিল একমাত্র আশ্রয়।
কিন্তু সেই আশ্রয়ও নিরাপদ ছিল না। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল চুইয়ে পানি পড়ত। নতুন ঘর নির্মাণ বা পুরোনো ঘর সংস্কারের জন্য তাঁদের কোন সামর্থ্য ছিল না।
তাদের এই দুরবস্থার কথা সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত হলে শেরপুরের মানবিক জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নজরে আনেন। পরে তিনি আকলিমার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বর্তমানে ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগমের দীর্ঘদিনের দুর্দশা দূর হয়েছে এবং তাঁর মনে ফিরেছে চরম স্বস্তি ও শান্তি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ