সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২৪ এম
দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর মো. রুবেল (৩৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে তিনি দোকানের মালামাল কিনে ফেরার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার জানায়, ২০২৩ সালে জীবিকার খোঁজে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে তিনি তার ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। শনিবার রাতে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। দেশে তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ মা রয়েছেন। রুবেলের মৃত্যুতে পরিবার এবং এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তার স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না? মাঝ রাতে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেল, এরপর চোখের পাতা এক হচ্ছে না? নিদ্রাহীনতা বা অনিদ্রা একটি সমস্যা, যা অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় ভুগেছেন বা এখনও ভুগছেন। কিছু মানুষের জন্য অনিদ্রা প্রবল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষ কেন অনিদ্রায় ভোগে––এর পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান। বার্ধক্য, রাতে বার বার প্রস্রাব, মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি, রাতের পালার কাজ––এসব বিষয় অনিদ্রার সৃষ্টি করতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, সেটাও জানা থাকা জরুরি।
বিবিসি'র ইনসাইড হেল্থ টিম এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু পরামর্শ সংগ্রহ করেছে।
অনিদ্রায় বিশেষজ্ঞরা নিজেরা কী করেন?
‘আমি ঘুমাতে পারছি না, এর খুব স্বাভাবিক কারণ হতে পারে আমার মস্তিষ্ক কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে আছে অথবা আমি খুব দুশ্চিন্তা করছি। এরকম হলে আমি একটি বই নিয়ে পড়তে শুরু করি এবং একটু হালকা অনুভব করার আগ পর্যন্ত পড়তে থাকি।’ কথাগুলো বলছিলেন সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ড. ফেইথ অর্চার্ড।
লন্ডনের রয়াল ব্রম্পটন হাসপাতালের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ব্রিটিশ স্লিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালি হায়ার বলেন, আমি যখনই অনিদ্রায় ভুগি, এর প্রধান কারণ হয় আমার স্বামী বিছানায় বার বার পাশ ফিরছে বা জোরে জোরে নাক ডাকছে। তাই আমি 'স্লিপ ডিভোর্স' পদ্ধতি বেছে নেই এবং অন্য একটি ঘরে ঘুমাতে চলে যাই।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুম না এলে আমি বিছানা ছেড়ে উঠে যাই এবং আবার নতুন করে এসে শুই। এটা একটি রিবুট সিস্টেমের মতো কাজ করে। সাধারণত মাথায় কোনো চিন্তা ঘোরাফেরা করার কারণেই অনিদ্রা দেখা দেয় এবং এটি বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রেই সত্য।
অনিদ্রার উপসর্গ কী?
ইসপির মতে, যদি ঘুম না আসার সমস্যা এক রাতের পর কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে এবং এরপর কয়েক সপ্তাহে গড়ায়, এভাবে তিন মাস বা তার বেশি সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আমরা এই অবস্থাকে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলি।
অনিদ্রার সমস্যাটি কয়েক ধরনের হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করেছেন ড. অর্চার্ড। তিনি বলছেন, ঘুম না আসা প্রাথমিক উপসর্গ। কিন্তু বাস্তবে আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকা, একবার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম না আসা, ভোর পর্যন্ত জেগে থাকার পর আর ঘুম না আসা এগুলোও অনেকের জন্য অনিদ্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ড. হেয়ারের মতে, অনিদ্রার লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ এবং ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য তা একইরকম। সপ্তাহে যদি তিন রাত ঘুমানোর ক্ষেত্রে কারো সমস্যা হয় এবং তিন মাসের বেশি সময় ধরে এটা চলে, আর রাতে ঘুম না আসার কারণে দিনের কাজে প্রভাব পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
ড. অর্চার্ড বলেন, যে হরমোনের কারণে ঘুম সৃষ্টি হয় এবং সারা দিনের কর্মযজ্ঞের ফলে শরীরে যে চাপের তৈরি হয়– এই দুটি প্রক্রিয়ারই পাশাপাশি চলা উচিত। এর মধ্যে কোনো একটার ব্যতিক্রম ঘটলে সমস্যা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দিনের বেলায় বা বিকালে এক দফা ঘুমিয়ে নিলে রাতের বেলায় ঘুম আসা কঠিনও হতে পারে।
‘এর বাইরেও অনিদ্রার পেছনে বাহ্যিক যেসব কারণ কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো দুশ্চিন্তা।’
অধ্যাপক ইসপি বলেন, ঘুমের ওপর আমরা দারুণভাবে নির্ভরশীল। নানা কিছুর বিবর্তন ঘটলেও ঘুমের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তন হয়নি। বরং বলা চলে মানুষ হিসেবে আমাদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত বড় ও জটিল প্রকৃতির, এর বিশ্রামের জন্যই তুলনামূলক বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বিপদ বা যে কোনো ধরনের হুমকির জন্য আমাদের মস্তিষ্কে যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়, যেটা আমাদের ঘুমকে তাড়ানোর কাজ করে, এই প্রবণতাও বিবর্তনের সঙ্গে পাল্টায়নি।
‘দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটা অনুভূতি তৈরি করে, যা আমাদের মনে করতে বাধ্য করায়– জেগে না থাকলেই বিপদ!’
ড. হেয়ার বলছেন, আমি এটা বলবো না যে নির্দিষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই অনিদ্রায় ভোগেন, তবে এটাও ঠিক যে দুরারোগ্য ব্যাধি বা মারাত্মক ব্যাথা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঘুমের সমস্যা হয়। এছাড়া দুশ্চিন্তা, হতাশা, উদ্বেগসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার মিথস্ক্রিয়ায়ও অনিদ্রা সৃষ্টি হতে পারে।
ঘুমের পেছনে মানুষের বয়সও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দেহঘড়িও পাল্টে যায়। কত সময় ধরে ঘুম হবে এবং তা কতটা গভীর হবে, তা এই দেহঘড়ির ওপরও নির্ভর করে। বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমে ব্যঘাত ঘটতে থাকে। একজন কিশোরের জন্য দেরি করে ঘুমিয়ে দেরি করে ওঠায় যতটা না সমস্যা হয়, কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষের জন্য আগে আগে ঘুমিয়েও একবার তা ভেঙে গেলে হয়তো আবার ঘুমানোর জন্য বেগ পেতে হয়।
ঘুমের ওপর জিনগত প্রভাবও কাজ করে। অধ্যাপক ইসপি যেমন বলছেন, খুব সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা উত্তেজিত হয়ে পড়ার মতো বংশগত উপসর্গ থাকে। এর সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে।
এছাড়া আপনি সকাল সকাল উঠে কাজ শুরু করছেন এবং রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছেন কিনা, বা বেলা করে উঠে কাজ শুরু করে শেষ রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন কিনা––এরকম প্রত্যাহিত অভ্যাসও ঘুমের আলাদা প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে অনিদ্রার পেছনে একাধিক ও নানা রকম কারণ থাকতে পারে বলেই তার অভিমত।
ঘুমাতে না পারলে কী করা উচিত?
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমাদের কী করা উচিত? এ নিয়ে কিছু কুসংস্কার রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।
তিনি বলেন, সকালের দিকে আমাদের ঘুমের প্রবণতা কমে আসতে থাকে। আবার ঘুম ভেঙে গেলে আমি আবার হয়তো ঘুমাতে পারবো না––এরকম একটা দুশ্চিন্তার আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, জোর করে কেউ ঘুমাতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই ঘুম এসে যায়, এর বাইরে যখনই আপনি ঘুমানোর জন্য জোর করে চেষ্টা করবেন- তখনই সমস্যার শুরু হয় বলে আমি সন্দেহ করি।
‘বিশ্বাস করুন আর না করুন, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো–ঘুম না আসলে জেগে থাকার সিদ্ধান্তই নেওয়া। ঘুমকে স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে পারেন আপনি,’ বলেন তিনি।
খুব সহজ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে জীবনের একটি ভালো রুটিন করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. অর্চার্ড।
একটি নির্দিষ্ট সময়েই শুতে যাওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সময়েই উঠে পড়ার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ককে একটি বার্তা দেওয়া যায় যে এখানেই ঘুমাতে হবে।
সোফায় বা চেয়ারে ঘুমিয়ে যাওয়া যেমন উচিত নয়, আবার বিছানায় বসে কাজ করাও ঠিক নয়, পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।
শোয়ার পর ঘুম না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া উচিত এবং আধা ঘণ্টার মতো অন্য কোনো কাজ করার পর আবার বিছানায় ফেরত যাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন ড. হেয়ার।
ঘুমের ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?
ড. হেয়ার বা অধ্যাপক ইসপি, এই দুইজনেরও কেউই ও ধরনের ওষুধ খাওয়ার পক্ষপাতি নন।
বরং তারা পরামর্শ দিচ্ছেন এক ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক থেরাপির যা মানুষকে তার চিন্তাধারা ও আচরণ পাল্টাতে সাহায্য করবে। এর ফলে অনিদ্রার সমস্যারও উপশম হবে।
এ ধরনের থেরাপি (কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি) ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে এবং ৫০ শতাংশ মানুষ অনিদ্রা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান বলে জানান ড. হেয়ার।
অধ্যাপক ইসপি বলছেন, এরকম থেরাপি যে ওষুধের চেয়ে বেশ কাজে দেয় সেটা অনেক রোগীই বিশ্বাস করতে চান না।
থেরাপির একটি অংশের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, স্লিপ রেস্ট্রিকশন থেরাপি নামে একটি পদ্ধতির পরামর্শ দেই আমরা। এর মাধ্যমে অনিদ্রার রোগীকে একটু দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটু আগে আগে ঘুম থেকে উঠতে বলা হয়।
কিছু মানুষ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, শোয়ার আগে ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খেয়ে তারা ঘুমের ক্ষেত্রে সুফল পেয়েছেন। কিন্তু ড. অর্চার্ড বলছেন, এই বিষয়টি বড় কোনো গবেষণায় প্রমাণিত নয়, বরং ছোটো আকারের কিছু জরিপে এর কথা বলা হয়েছে।
মেলাটোনিনের বিষয়টা কী?
অনেক দেশে এ ধরনের হরমোনের ওষুধ ফার্মেসিতে গেলেই পাওয়া যায়, আবার কোথাও কোথাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেনা সম্ভব।
এ বিষয়ে ড. হেয়ার বলছেন, এই বিষয়টাও অনেকটা ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার ও তার প্রভাবের মতোই। অনেক সময় হয়তো রোগী মন রক্ষায় এসব ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসকরা।
ঘুমের ওপর আরও যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে
ঘুমের আগে কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন? টেলিভিশন, কম্পিউটার নাকি মোবাইল ফোন––কোনটার দিকে তাকিয়ে আছেন সেই যন্ত্রটা নয়, বরং কী রকম আলো আপনার চোখে প্রবেশ করছে এটাই এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ড. অর্ডার্ড বলছেন, আপনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কী করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো আপনি ফোনের দিতে তাকিয়ে এমন কিছু দেখছেন যেটা আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করছে, এটায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু এমন কিছু যদি দেখেন যা আপনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে, সেটা অবশ্যই ঘুম বিঘ্নিত করতে পারে।
অনিদ্রার ওপর মেনোপজ, নাইট শিফট বা এলকোহলের কোনো প্রভাব আছে? থাকলে এগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলে?
ড. হেয়ার বলছেন, মেনোপজ বা রজোবিরতি নারীদের জন্য কঠিন সময় নিয়ে আসে এবং এর কারণে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে।
‘মেনোপজের কারণে হট ফ্ল্যাশ হয় এবং এটা ঘুম ব্যাহত করতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, বার বার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বা মুড চেঞ্জ এগুলো মেনোপজের সঙ্গেই আসে। তবে সংসার বা পরিবারিক চাপসহ অন্যান্য চাপও নারীর শরীরের ওপর এসময় প্রভাব ফেলে।
এলকোহলের বিষয়ে ড. অর্চার্ড বলেন, ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার গভীরতার যে প্যাটার্ন তৈরি হয়, এটা বদলে দিতে পারে এলকোহল।
‘এর আরও কয়েক ধরনের প্রভাব আছে। এলকোহল পান করার পর বারবার টয়লেটে যেতে হতে পারে; শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয়ে নাক ডাকার প্রবণতা চলে আসছে পারে; হরমোনের ওপর এলকোহলের প্রভাব থাকায় আবার এটি ঘুম আসা না আসাকেও বদলে দিতে পারে,’ বলেন তিনি।
নাইট শিফটের ধকল কীভাবে সামলানো সম্ভব এ ব্যাপারে ড. হায়ার বলেন, এ ক্ষেত্রে যে দিন নাইট শিফট নেই সেসব দিনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে ঘুমের চেষ্টা করতে হবে, পাশাপাশি ছোটো ছোটো ঘুম দিয়ে অভাবটা পূরণ করে নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরে জাকির হোসেন জুয়েল নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে, যার গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এলাকায় ‘মাদক ব্যবসার’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের ডিপুটি বাড়ি এলাকার একটি সুপারি বাগান থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে রাত ১১টার দিকে কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ বাগানটিতে ফেলে রেখে যায়।
নিহত জুয়েল তোফায়েল আহমেদের ছেলে, যিনি পূর্ব নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে জুয়েলকে হত্যা করার পর মরদেহ বাগানে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসার জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, কিছুদিন আগে জুয়েল মাদক মামলায় জামিন পেয়েছিল। হত্যাকাণ্ডটি মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের ফল বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত শুরু করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। এই আয়োজনের প্রস্তুতি এবং উপকমিটিগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করার জন্য রোববার সচিবালয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন উপকমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।
সভায় সামিটের আয়োজন, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, প্রদর্শনী, আলোচনা অধিবেশন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগ, উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, সামিটে শতাধিক এআইভিত্তিক স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এসব স্টলে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তি, পণ্য, সেবা ও বাস্তবমুখী সমাধান তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শন এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
সামিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান অগ্রগতি, ব্যবসায়িক প্রয়োগ, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তিনটি আলোচনা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশনগুলোতে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
আলোচনায় এআই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দেশীয় উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সভায় সামিটের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপকমিটি ও অংশীজনদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আয়োজনের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়, অংশগ্রহণকারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং প্রদর্শনী ও আলোচনা অধিবেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আয়োজকদের আশা, এই সামিট দেশের এআইভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি এবং ডিসিসিআই সভাপতি উপস্থিত থাকবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে এক টুকরো জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন অনেকে। তবে, জাল দলিল, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কিংবা নকল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ফাঁদে পড়ে সেই স্বপ্নটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বা দেখভালের অভাব রয়েছে এমন জমির ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই জমি কেনার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, জমি কেনার আগে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই না করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারেন। জমি কেনাবেচায় জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিরাপদ জমি ক্রয়ের ৯টি কার্যকর কৌশল
ভলিউম-রেজিস্ট্রি নম্বর যাচাই: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল রেকর্ডের সঙ্গে দলিলের সাল, ভলিউম ও রেজিস্ট্রি নম্বর সঠিক কিনা তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে লিখিত দরখাস্তও দিতে হতে পারে।
সিল ও স্বাক্ষর চেক করুন: দলিলের সরকারি সিল এবং স্বাক্ষর স্বাভাবিক কিনা তা পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে বা সরকারি ছুটির দিনে রেজিস্ট্রি করা দলিল দেখলে সতর্ক থাকা উচিত।
প্রকৃত মালিক চিনুন: স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরনো খতিয়ান যাচাই করে আসল মালিককে শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই জমিতে একাধিক মালিকের দাবি থাকলে আরও সতর্ক থাকা উচিত।
নামজারি ও খতিয়ান পরীক্ষা: স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গিয়ে খতিয়ান, নামজারি, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সীমানা সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাচাই: আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে দলিলটিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের ছবি সংযুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। ছবি না থাকলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
দখল ও তারিখের মিল: দলিলের তারিখের সঙ্গে বাস্তবে জমি বুঝিয়ে পাওয়ার সময় বা ঘটনার মিল আছে কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন।
দলিল লেখকের খোঁজ নিন: দলিলটি কে তৈরি করেছেন (লেখক) তা জানুন এবং প্রয়োজনে সরেজমিন গিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
ভায়া দলিল ও উত্তরাধিকার যাচাই: পুরনো ভায়া দলিল, উত্তরাধিকার সনদ এবং কর পরিশোধের রশিদ বিক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করা উচিত।
স্ট্যাম্পের উৎস ও সিরিয়াল: ব্যবহৃত স্ট্যাম্পগুলো কোথা থেকে কেনা হয়েছে এবং এর সিরিয়াল নম্বর সঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিশেষে, একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাই না করে কখনোই জমি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটুখানি সতর্কতা ও সঠিক প্রস্তুতি আপনার কষ্টের জমানো টাকা এবং অমূল্য বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবী বা স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তা নিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ