প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কোচ আসে এবং কোচ চলে যায়, কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য পরিবর্তিত হয় না। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী দলটি গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের পুরোনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববার ৩-০ গোলে পরাজয়ের পর, মাইকেল ক্যারিককে মাঠে ঘুরে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে দেখে মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন পূর্বনির্ধারিত ছিল।
ক্যারিকের জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানানো নতুন কিছু নয়। তবে, এই দিনটি ছিল বিশেষ। কারণ, টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকার পর, যা ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর ক্লাবের সবচেয়ে বাজে সময়, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে গুরুতর আলোচনা চলছে।
যদি ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কেউ মনে করেন যে শুধুমাত্র কোচ পরিবর্তন করলেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে এবং সমর্থকরা সন্তুষ্ট হবে, তবে তাদের সেই ধারণা ভুল। কারণ গ্যালারি থেকে আসা প্রতিক্রিয়া ভিন্ন বার্তা দিয়েছে।
শুক্রবার বোর্নমাউথ ম্যাচের আগে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের প্রসঙ্গ টেনে ক্যারিক বলেছিলেন, "রোববার আমরা ভিন্ন একটি দল হব। আমাদের ভিন্ন হতেই হবে।" কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনি।
আগামী শনিবার চেলসির মাঠে ম্যাচে তিনি এখনও দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্যারিক বলেন, "দায়িত্ব আমার। এখন এর চেয়ে বেশি আর কী বলব? পরিস্থিতি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। কী হবে, সে বিষয়ে আমি কিছুই আশা করছি না। আমি এই ক্লাবকে ভালোবাসি এবং সবসময় ক্লাবের সেরা স্বার্থে কাজ করব।"
ম্যাচ শেষে ক্যারিক ড্রেসিংরুমে ঢুকে যাওয়ার পর সমর্থকেরা খেলোয়াড়দের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডিয়োগো দালোত মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত দুয়োধ্বনি চলতে থাকে।
অনেক সমর্থকের ধারণা, খেলোয়াড়রা হয় যথেষ্ট ভালো নয়, নয়তো তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। হয়তো উভয় সমস্যা বিদ্যমান।
তবে ক্ষোভের উৎস শুধু খেলোয়াড় বা কোচের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ শুরুর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গ্লেজার পরিবার এবং স্যার জিম র্যাটক্লিফের বিরুদ্ধে স্লোগান শুরু হয়।
২০০৫ সালে ঋণনির্ভর অধিগ্রহণের পর থেকেই গ্লেজার পরিবার ইউনাইটেড সমর্থকদের প্রধান অপছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেই ঋণ বেড়ে ১.১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হয়েছে।
সমর্থকদের যুক্তি, ঋণের সুদ পরিশোধে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ভালো খেলোয়াড় কেনার পেছনে ব্যবহার করা যেত।
২০২৩ সালের বড়দিনের আগের দিন র্যাটক্লিফ একটি অংশের মালিক হওয়ার চুক্তি করলে অনেকেই আশা করেছিলেন পরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু এরপর একের পর এক সিদ্ধান্ত তার ক্লাব পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিধ্বস্ত ব্রুনো বিহীন ইউনাইটেড
ভুল সিদ্ধান্তের দীর্ঘ তালিকা
২০২৪ সালের এফএ কাপ জয়ের পরও ইউনাইটেড এরিক টেন হাগকে দায়িত্বে রাখে এবং লেনি ইয়োরো, ম্যাথাইস ডি লিগট ও মানুয়েল উগার্তের মতো খেলোয়াড়দের পেছনে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করে।
পরে টেন হাগ অভিযোগ করেন, স্কট ম্যাকটোমিনেকে বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ক্লাব উগার্তেকে দলে ভেড়াতে সেই পথেই গেছে। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেন হাগ বরখাস্ত হন।
তারপর স্পোর্টিং লিসবন থেকে মৌসুমের মাঝপথে রুবেন আমোরিমকে আনা হয়, যদিও তিনি গ্রীষ্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
১৫তম স্থানে শেষ করার পরও তাকে দায়িত্বে রাখা হয়। পরে ইএফএল কাপে লিগ টু-এর গ্রিমসবির কাছে হারের পরও সমর্থন দেওয়া হয়। কিন্তু ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের সঙ্গে খেলার ধরন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে জানুয়ারিতে তাকেও বিদায় করা হয়।
এরপর মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিয়ে আসেন ক্যারিক। পরে দুই বছর পর দলকে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরিয়ে এনে স্থায়ী নিয়োগ পান তিনি।
এ অবস্থায় তিন মৌসুমে তৃতীয় কোচ বরখাস্ত হলে সেটি ক্লাবের কারও জন্যই ইতিবাচক বার্তা হবে না।
সমর্থকদের ক্ষোভ কেবল ফলাফলের কারণে নয়।
স্ট্রেটফোর্ড এন্ডে প্রদর্শিত "স্ট্যান্ডার্ডস" ব্যানারে ক্লাব কিংবদন্তি ব্রায়ান রবসন, এরিক কান্তোনা ও রয় কিনের ছবি ছিল। এটি ছিল ক্লাব পরিচালকদের উদ্দেশে একটি বার্তা, যে মানদণ্ডে ইউনাইটেডকে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।
ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স সাধারণত আড়ালে থাকেন। কিন্তু বোর্নমাউথ ম্যাচে তার বিরুদ্ধেও সমর্থকদের কটূক্তি শোনা গেছে। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় তাকেও দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে।
র্যাটক্লিফের অধিগ্রহণের পর সাউদাম্পটন থেকে আসা উইলকক্সকে অনেক সমর্থক সাম্প্রতিক খেলোয়াড় কেনাবেচার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন।
প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা, যিনি আগে ম্যানচেস্টার সিটিতে কাজ করেছেন, তাকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করেন, সিটির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ইউনাইটেডে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।
এদিকে গ্রীষ্মকালে টিকিট কালোবাজারি নিয়ে ক্লাবের তদন্তও সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ক্লাবের দাবি ছিল তারা দালালদের ধরতে চেয়েছে, কিন্তু অনেক সমর্থক মনে করেন ক্লাব নিয়মিত দর্শকদের সরিয়ে কর্পোরেট বিক্রির দিকে ঝুঁকছে।
এর পাশাপাশি নতুন ১ লাখ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ২ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হতে পারে, আর এ বছর জমি কিনতেই খরচ হয়েছে ৬৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড।
অনেক সমর্থক এই পরিকল্পনার পক্ষেও নন। ম্যাচ চলাকালে তারাও র্যাটক্লিফকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
মাইকেল ক্যারিক হয়তো খারাপ ফলাফলের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন, কিন্তু বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অস্থিরতার কারণ শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্স নয়। ক্লাবের ভেতরে ও বাইরে জমে থাকা অসন্তোষ এখন অনেক গভীর এবং বিস্তৃত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন