ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নড়াইলে নৌকাবাইচে বাজনার তালে ছুটছেন নারী মাঝিরা


নড়াইলে নৌকাবাইচে বাজনার তালে ছুটছেন নারী মাঝিরা

ঢাকঢোলের বাদ্য বাজছে। সেই বাদ্যের তালে তালে বৈঠা চালাচ্ছেন একদল নারী। সবার পরনে হলুদ শাড়ি। নৌকার এক প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে অষ্টক গান, অন্য প্রান্তে নারী মাঝিদের উচ্ছ্বাস। বৈঠার ছন্দে কাজলা নদীর বুক চিরে এগিয়ে চলেছে নৌকাগুলো। এই ব্যতিক্রমী নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের এগারোখান এলাকায় কাজলা নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে।

যশোর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রতিবেশী জেলা থেকেও অনেকে আসেন নৌকাবাইচ দেখতে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে নদীর দুই পাড় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংহতি দিবসে বিঘ্ন ঘটিয়ে ওসির বদলি ঠেকাতে ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেত্রীদের মানববন্ধন

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নারীদের এই ব্যতিক্রম নৌকা বাইচ দেখতে যশোর থেকে এসেছেন সুমি ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে অনেক নৌকা বাইচ দেখেছি। এক সময় সুলতান মেলায় চিত্রা নদীতে নৌকা বাইচ দেখতে যেতাম। বাড়ির কাছাকাছি নৌকা বাইচ হওয়ায় পরিবার সঙ্গে নিয়ে এসেছি। বেশ ভালোই লাগছে। নারীদের অংশগ্রহণে এমন নৌকা বাইচ আগে কখনও দেখিনি। প্রতিবছর এ কাজলা নদীতে বাইচ অনুষ্ঠিত হোক আয়োজকদের কাছে এটাই দাবি।’

নৌকাবাইচ ঘিরে নদীর পাড়ে বসেছে হরেক রকমের দোকান। ঢাকঢোলের শব্দ, গান আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হচ্ছে।

বাঁশ ও বেতের চালুনি, ঝুড়ি ও থামা নিয়ে নদীর কূলে পসরা সাজিয়ে বসেছেন ষাটোর্ধ নারী রুমি রানি। তিনি বলেন, ‘থামা, কুলা ও ডালা বিক্রি করি। অনেকেই কিনে নিচ্ছেন।

শনিবার বিকেল চারটায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

আরও পড়ুন: বীরগঞ্জে ৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর আটক

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে এবং অলকাপুরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বাস্তবায়নে দুই দিনব্যাপী ‘জাতীয় নারী নৌকাবাইচ, সাংস্কৃতিক উৎসব ও ফ্রি হেলথ ক্যাম্প-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ১৬টি মতুয়া নারী দলের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের (শুক্রবার) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লিংকন বিশ্বাস, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম, নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানের আয়োজক, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম বলেন, নড়াইলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ, নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন বাড়ানো এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও উৎসবের লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, নারীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের নৌকাবাইচ নড়াইলের লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন বিকাশ ও গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে গভীর রাতে শ্রমিক পরিবহনের বাসে আগুন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সংহতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়ের আহ্বান ডিসি ফরিদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


জাতীয় সংহতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়ের আহ্বান ডিসি ফরিদার

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে একটি মানবিক, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে।

তিনি উল্লেখ করেন, "মত ও আদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।" তবে জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সকলকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।" ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

তিনি আরও বলেন, "ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনারই নিজস্ব প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।" ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য তথ্যনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি, উদার মানসিকতা এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। অতীতকে অনুধাবন করে বর্তমানকে সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।" লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের জাতীয় জীবনের অমূল্য সম্পদ। তিনি উল্লেখ করেন, "স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা আমাদের সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।"

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের শাসন। গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তবে মতপার্থক্য যেন কখনো জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

জনপ্রশাসনের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে ফরিদা খানম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা জনপ্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে জনগণের কল্যাণ। তিনি বলেন, "স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা ধারণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।"

নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় অর্জন যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, নৈতিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, লালবাগ জোনের উপকমিশনার মো. মোশতাক সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুল আলম এবং জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মাইনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে জেলা শিশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন বরের মুখ ঢেকে রাখলেন পারশা, পরিচয় নিয়ে কৌতুহল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


কেন বরের মুখ ঢেকে রাখলেন পারশা, পরিচয় নিয়ে কৌতুহল

সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার পারশা মাহজাবিন সামাজিক মাধ্যমে তাদের বিয়ের খবর প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি এখনই তার নতুন জীবনের সঙ্গীর পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। শুধু পরিচয় গোপন রাখাই নয়, বিয়ের ছবিতে বরের মুখও ফুল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন এই শিল্পী। ফলে তার বিয়ের খবরের পাশাপাশি বরের পরিচয় নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

পারশা জানিয়েছেন, গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে তাদের আক্‌দ সম্পন্ন হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে তার পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বরের পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বরের পরিচয় আপাতত গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পারশা। তার ভাষ্য, নাম প্রকাশ করলে অনেকেই তাকে চিনে ফেলবেন। তাই তিনি এখনই পরিচয় সামনে আনতে চান না। মজার ছলে আগ্রহীদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেছেন, বরের পরিচয় জানতে চেয়ে যেন তাকে কিংবা তার পরিবারকে বিব্রত না করা হয়। দুজন দুজনকে প্রিয় বলে সম্বোধন করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বরের মুখে ফুল, প্রচলিত ধারণায় প্রশ্ন

বরের মুখ ফুল দিয়ে ঢেকে রাখার বিষয়টি নিছক ছবি প্রকাশের কৌশল নয়, এর পেছনে রয়েছে পারশার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। তার মতে, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে কনের মুখ ঘোমটা বা পর্দায় ঢেকে রাখার প্রচলন দীর্ঘদিনের। কিন্তু পুরুষের মুখ আড়াল করা হলে তা নিয়ে মানুষের কৌতূহল অনেক বেশি দেখা যায়।

পারশার প্রশ্ন, নারীর মুখ ঢাকা যদি ঐতিহ্যের অংশ হতে পারে, তাহলে পুরুষের মুখ ঢাকা নিয়ে এত আলোচনা কেন? তার মতে, বিয়েটি দুজনেরই। তাই ছবিতে কার মুখ দেখা গেল আর কার মুখ আড়ালে থাকল, তাতে সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয় না।

তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, কেউ নিজের ইচ্ছায় পর্দা করলে তাতে তার আপত্তি নেই। আপত্তি হলো, যখন ব্যক্তির নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। নারীর পোশাক, সৌন্দর্য কিংবা উপস্থিতিকে পুরুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচলিত মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এক দিনের জন্য পরিচিত দৃশ্যটি উল্টে দিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছেন এই শিল্পী।

পরিচয় থেকে বিয়ে, এক বছরের সম্পর্ক

পারশার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তাদের পরিচয় হয়। দেশের বাইরে ভ্রমণে গিয়ে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ও কথাবার্তা শুরু হয়। পরে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানান তিনি। তার সিদ্ধান্তে পরিবারেরও সম্মতি ছিল।

হঠাৎ বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনে জীবনসঙ্গী সম্পর্কে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন পারশা। ছোটবেলা থেকেই বাবার ভালোবাসা, যত্ন ও নিরাপত্তার মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া নির্ভরতা তার কাছে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের অন্যতম মানদণ্ড হয়ে উঠেছে।

পারশার প্রত্যাশা ছিল, এমন একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া, যার কাছে বাবার মতোই নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। পাশাপাশি মানুষ, পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং জ্ঞানচর্চার আগ্রহকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য কিংবা জীবনের জটিল বিষয় নিয়ে যার সঙ্গে মন খুলে আলোচনা ও তর্ক করা যায়, এমন একজনকেই চেয়েছেন।

নিজের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার বিষয়টিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পারশার কথায়, তিনি এমন কাউকে খুঁজেছেন, যিনি তাকে নতুন করে রাজমুকুট পরিয়ে দেওয়ার চেয়ে তার মাথায় থাকা মুকুটটি কখনো খুলে রাখতে বলবেন না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে গভীর রাতে শ্রমিক পরিবহনের বাসে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


মানিকগঞ্জে গভীর রাতে শ্রমিক পরিবহনের বাসে আগুন

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় গভীর রাতে পার্কিং অবস্থায় থাকা একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের জান্না-উত্তরপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ‘পল্লীসেবা’ নামের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-১৬৫১) ধামরাই উপজেলার গ্রাফিক্স টেক্সটাইলের কর্মরত সাটুরিয়া উপজেলার পোশাক শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হত। বাসটির চালক তারা মিয়া (৪৫) রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ির পাশে পাকা রাস্তার পাশে বাসটি পার্কিং করে বাড়ি চলে যান। কিছুক্ষণ পর খবর পান যে বাসে আগুন লেগেছে। দ্রুত লোকজন নিয়ে বাসের আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান এবং সাটুরিয়া ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সাটুরিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাসটির মালিক তারা মিয়া জানান, প্রতিদিনই এভাবে বাস পার্কিং করে বাড়ি যাই। আমার কোনো শত্রু নেই, কে বা কারা, কিভাবে আগুন লাগল আমি জানি না।

সাটুরিয়া ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান জানান, ফেলে দেওয়া কোনো বিড়ি বা সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ থেকে বাসে আগুন লাগার সূত্রপাত হতে পারে।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু, শীতে কাঁপছে শিশুরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ পি.এম


গাজায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু, শীতে কাঁপছে শিশুরা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় শীতের আগমনের পূর্বে ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো বাতাসের কারণে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও শহরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার অস্থায়ী তাঁবু পানিতে তলিয়ে গেছে। বিছানা, কম্বল এবং পরনের কাপড় ভিজে গেছে। নারী ও শিশুরা তীব্র ঠান্ডা ও বাতাসে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) জানায়, গত ১২ ঘণ্টায় অন্তত ৭০ হাজার তাঁবু বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে, উত্তর গাজায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণে আগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের দেয়াল ধসে দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা ১ হাজার ৫০০টি জরুরি সহায়তার ফোন পেয়েছে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত তিনটি বাড়ি ধসে পড়েছে, তবে এতে কেউ আহত হননি।

গাজা শহরের একটি তাঁবু শিবিরে কেউ তাঁবু মেরামতের চেষ্টা করছেন, কেউ বালু দিয়ে তাঁবুর চারপাশ শক্ত করে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। আবার কেউ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া তাঁবু থেকে সন্তানদের বের করে আনছেন।

গাজার বাসিন্দা ওলফাত মাগদুব নিজের তাঁবু থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির প্রথম দিনেই আমাদের তাঁবু পানিতে ডুবে গেছে। পরদিন আবার বৃষ্টি হলে কী হবে? মাত্র প্রথম দিনেই আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে যখন বৃষ্টি হয়েছিল, আল্লাহর কসম, চার দিন মেঝেতে কম্বল পেতে ঘুমিয়েছি। কারণ বৃষ্টির পানিতে বিছানাপত্র ভিজে গিয়েছিল। এবারও একই অবস্থা। তোশক ভিজে যাওয়ায় মেঝেতেই ঘুমাতে হচ্ছে।’

পৌরসভা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির কারণে ঝড়ের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না তারা।

তাদের ভাষ্য, হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইল শত শত যানবাহন ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে বুলডোজার এবং পানি নিষ্কাশনে ব্যবহৃত যানবাহনও রয়েছে। যুদ্ধে গাজার ২০ লাখের বেশি বাসিন্দার অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ভূখণ্ডটির বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ তাঁবুর শিবিরে বসবাস করছেন।

গাজায় আশ্রয়কেন্দ্র ও নির্মাণসামগ্রী প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে হামাস। তবে হামাসের অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ত্রাণ সমন্বয়কারী সংস্থা কোগাট তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজাজুড়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ উন্নয়নে তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে গেছে আল-মিনা শিবির

গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে গাজার বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও শহর প্লাবিত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ শুরু করার পর নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালানো বহু ফিলিস্তিনি এবার চতুর্থ শীতও কাটাচ্ছেন অস্থায়ী আশ্রয়ে।

শনিবারের বৃষ্টিতে গাজার কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে পানির উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার কাছে শত শত ফোন এসেছে।

আল-মিনা শিবিরে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি পরিবারের বসবাস। বৃষ্টির পানিতে সেখানকার অসংখ্য তাঁবু ডুবে গেছে। পুরো শিবিরের মাটি কাদামিশ্রিত পানিতে পরিণত হয়েছে।

৪০ বছর বয়সি রায়েদ আবু আমশা জানান, ঝড়ের সময় তার পরিবারের ওপর তাঁবুটি ভেঙে পড়ে। তার দায়িত্বে থাকা নয় শিশুর সবার কাপড় ও কম্বল ভিজে গেছে। এদের মধ্যে চারজন তার প্রয়াত ভাইয়ের সন্তান।

তিনি বলেন, ‘নিজের সন্তানদের পাশাপাশি এতিম শিশুদেরও দায়িত্ব আমার ওপর। কিন্তু তাদের প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য আমার নেই। মাত্র দুই ঘণ্টার ঝড়ে আমাদের এই অবস্থা হয়েছে। আমাদের তাঁবু, ত্রিপল এবং সন্তানদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু দরকার। আর কত দিন এভাবে থাকতে হবে?’

ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনেও বাড়ছে ঝুঁকি।

মধ্য গাজার কয়েক দশক পুরোনো নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরেও বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সেখানে স্থায়ী ভবন থাকলেও ইসরাইলি বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলো এখন বৃষ্টির পানিতে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৫৪ বছর বয়সি নাসের আল-হাজ্জ থাকেন একটি বহুতল ভবনে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইলি হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওপরের তলাগুলো থেকে ধ্বংসাবশেষ তার ঘরের ওপর পড়ে ছাদে বড় একটি গর্ত তৈরি করেছে। বৃষ্টি হলেই সেই গর্ত দিয়ে ঘরে পানি ঢোকে।

ছাদটি সাপোর্ট বিম দিয়ে মেরামত করা হলেও একজন প্রকৌশলী নাসেরকে সতর্ক করেছেন, ভবনটি এখনো বিপজ্জনক। গাজায় আরও খারাপ আবহাওয়া দেখা দিলে ভবনটির ধ্বংসাবশেষ ভেঙে পড়তে পারে।

সর্বশেষ ঝড়ের সময় সন্তানদের নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন নাসের। ছাদ থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়া বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন। তার দুই সন্তান অটিজমে আক্রান্ত। তারা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে দূরে ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীদের কক্ষে ঘুমায়।

আলজাজিরাকে নাসের বলেন, ‘আমি এমন একটি জায়গায় থাকতে বাধ্য হচ্ছি, যেটি যেকোনো মুহূর্তে আমাদের মাথার ওপর ধসে পড়তে পারে। কিন্তু আমি কোথায় যাব? বাড়িভাড়া অনেক বেশি, আবার তাঁবুও নিরাপদ নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি জায়গাটি কতটা বিপজ্জনক। কিন্তু আমার আর কোনো বিকল্প নেই।’

বন্যার ঝুঁকিতে ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাস করছেন। নিচু এলাকা ও উপকূলসংলগ্ন স্থানগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ এমন এলাকায় রয়েছেন, যেগুলোকে বন্যার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ৪৪ হাজার ফিলিস্তিনি কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। ইসরাইলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজার ৪ হাজারের বেশি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে ফেলা প্রয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শীতের আগে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৫০টি পরিবারের আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ সরঞ্জাম রয়েছে, তা দিয়ে তাদের চাহিদার মাত্র ১৮ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব।

বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও অকার্যকর।

ঝড় ও বৃষ্টির পানি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে গাজা পৌরসভাও। পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ কিলোমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন লাইন এবং ২১২ কিলোমিটার পয়োনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আটটি পাম্পিং স্টেশন ও বৃষ্টির পানি সংগ্রহের তিনটি প্রধান জলাধারও অচল হয়ে পড়েছে।

পৌরসভার মুখপাত্র হোসনি মুহান্না জানান, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও অবশিষ্ট নিষ্কাশন ব্যবস্থা দিয়ে মোট বৃষ্টির পানির মাত্র ২০ শতাংশ সামাল দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা নিষ্কাশন ব্যবস্থাগুলো পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

সেই লক্ষ্যে পৌরসভার কর্মীরা নালা ও ম্যানহোল পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ, পানিপ্রবাহের পথ সচল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত নিষ্কাশন লাইন মেরামত এবং পানির পাম্প চালু রাখার কাজ করছেন।

তবে জ্বালানি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশের সংকটের কারণে এসব উদ্যোগে নিষ্কাশন ব্যবস্থার আগের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন মুহান্না।

তিনি আরও জানান, শুধু গাজা শহরেই ২ হাজারের বেশি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শহরটিতে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ ২ কোটি ৫০ লাখ টন ছাড়িয়েছে।

তাঁবু ও ত্রিপলের সংকট

শরণার্থী শিবিরগুলোতে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমিটিগুলোও আশ্রয় উপকরণের সংকটে পড়েছে।

নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের জরুরি কমিটির কর্মকর্তা আদলি আওয়াদ জানান, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তাঁবু ও ত্রিপল বিতরণের চেষ্টা করছেন তারা। তবে সহায়তার প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা মজুত সরঞ্জামের তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি সম্ভব তাঁবু ও ত্রিপল সরবরাহের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি তাঁবু থেকে বৃষ্টির পানি সরিয়ে নিতে এবং জলাবদ্ধতা কমাতে পরিবারগুলোকে পানি নিষ্কাশনের নালা খননেও সহায়তা করছি।’

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু ও আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%