প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : লেখক স্যালি রুনির প্রতি সমর্থন জানানো একটি ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনের কারণে প্রকাশনা সংস্থা ফ্যাবার যুক্তরাজ্যে তার বই সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আয়ারল্যান্ডের বইয়ের দোকানগুলো রুনির উপন্যাস পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছে।
এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
ফ্যাবার জানিয়েছে, রুনি তার বই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ফিলিস্তিন অ্যাকশন নামক একটি সংগঠনের জন্য দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ায়, লেখকের কাছে ওই অর্থ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে যুক্তরাজ্যে তার বই বিতরণ অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না।
তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের লন্ডনডেরিতে অবস্থিত লিটল অ্যাকর্নস বুকস্টোরের মালিক জেনি ডোহার্টি আয়ারল্যান্ডের প্রজাতন্ত্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে রুনির বই সংগ্রহ করে বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।
ডোহার্টি, যিনি রুনির ‘নরমাল পিপল’, ‘ইন্টারমেজো’ এবং ‘বিউটিফুল ওয়ার্ল্ড, হোয়ার আর ইউ’ সহ বিভিন্ন উপন্যাসের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, এএফপিকে বলেন, ‘বইগুলো বিক্রির ওপর আমাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমরা এখনো বইগুলো সংগ্রহ করতে পারছি।’
উত্তর আয়ারল্যান্ডের অংশ লন্ডনডেরি যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলেও এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য আয়ারল্যান্ডের সীমান্তসংলগ্ন। এই ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে ডোহার্টি আয়ারল্যান্ডের পরিবেশকদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছেন।
ফ্যাবার অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে জানায়, ‘কোনো লেখকের বই বিক্রি করে সেই অর্থ তাকে দিতে না পারা প্রকাশকের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি।’
প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, রুনির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকার সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের আওতায় ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে রুনি যে আয়ারল্যান্ডে বসবাস করেন, সেখানে সংগঠনটি নিষিদ্ধ নয়।
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তালিকায় লেবাননের ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নামও রয়েছে। ফলে দেশটিতে সংগঠনটির সদস্য হওয়া, সমর্থন দেওয়া কিংবা অর্থায়ন করা বেআইনি।
ফ্যাবার জানায়, তারা এখনো রুনির প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে তার বই বিক্রি অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, রুনির বই নিষিদ্ধ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের দোকানগুলোতে আগে থেকে থাকা বই বিক্রির ওপরও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ফ্যাবারের স্বাভাবিক যুক্তরাজ্যভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন করে বই সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
এই অবস্থায় ডোহার্টির দোকানে নতুন ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এমন অনেক নতুন ক্রেতা এসেছেন, যারা আগে কখনো আমাদের দোকানে আসেননি।’ তার মতে, এ বিতর্কের কারণে আরও বেশি পাঠকের কাছে রুনির বই পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আগে বইগুলো দোকানের সাধারণ তাকেই বর্ণানুক্রমে সাজানো থাকত। এখন ক্রেতাদের নজরে পড়ার জন্য সামনের কাউন্টারে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে বই নিয়ে খোলামেলা ও ব্যক্তিগত আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান ডোহার্টি।
বিকল্প সরবরাহকারীর খোঁজে ব্রিটেনের অন্যান্য বই বিক্রেতারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ডোহার্টি বলেন, ‘আপনি চাইলে বইটি না-ও পড়তে পারেন। কিনতে না চাইলে সেটিও আপনার সিদ্ধান্ত।’
আয়ারল্যান্ডের অন্যান্য বইয়ের দোকানগুলোতেও রুনির উপন্যাসের চাহিদা বেড়েছে। ফ্যাবারের সিদ্ধান্তের পর গলওয়ের কেনিস বুকশপে তার বই বিক্রি আগের তুলনায় ১০ গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডোহার্টি বলেন, নাগরিক অধিকার আন্দোলন ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েক দশকব্যাপী সংঘাতের ইতিহাসে গড়ে ওঠা শহরটিতে এ বিতর্ক বিশেষভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনা তাকে আয়ারল্যান্ডের সাহিত্য সেন্সরশিপের ইতিহাসের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। অতীতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন এডনা ও’ব্রায়েন, স্যামুয়েল বেকেট ও জন ম্যাকগাহার্নের মতো বিখ্যাত লেখকরা।
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমরা সামনে এগোনোর পরিবর্তে আবার পেছনের দিকে ফিরে যাচ্ছি।’
তবে ডোহার্টির মতে, কোনো বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ পাঠকদের মধ্যে সেটি পড়ার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে স্যালি রুনিসহ অন্যান্য আইরিশ লেখকের বইও নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ বইই বেশি বিক্রি হয়। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বইটির প্রতি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের আগ্রহ তৈরি করে।’
এদিকে ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি। এ বিষয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্যালি রুনির উপন্যাসের কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। আধুনিক সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরার কারণে তার বইয়ের প্রতি বিশেষ পাঠকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
বিবিসিতে তার উপন্যাস ‘নরমাল পিপল’-এর টেলিভিশন রূপান্তর প্রচারের পর তিনি আরও ব্যাপক পরিচিতি পান।
লন্ডনের বার্ড বুকসের মালিক ভিকি শেনকিন কের বলেন, ‘তিনি বর্তমান সময়ের অনুভূতি ও বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরেন, তা সত্যিই অনন্য। মানুষ তার বই ও লেখাকে ভালোবাসে।’
ফ্যাবারের সিদ্ধান্তের পর তার দোকানেও রুনির বই বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দোকানে থাকা অবশিষ্ট বইগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।
তবে বিদেশ থেকে আমদানি করে নতুন করে বইয়ের মজুত না করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন