ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানিকগঞ্জের ৫টি দর্শনীয় স্থান যা চোখ জুড়াবে


মানিকগঞ্জের ৫টি দর্শনীয় স্থান যা চোখ জুড়াবে

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় নানা ধরনের দর্শনীয় স্থান বিদ্যমান। কিছু স্থানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা যায়, আবার অন্যদিকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঢাকার নিকটবর্তী অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মানিকগঞ্জও এমন একটি জেলা। ঐতিহাসিক স্থাপনা, জমিদারবাড়ি এবং বিনোদন কেন্দ্রের কারণে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জেলাটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

মানিকগঞ্জে ভ্রমণের সময় যে স্থানগুলো দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি স্থান হলো—

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে কারুকার্য খচিত সাতটি দালান।

কালের পরিবর্তনে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর নির্মাণশৈলী এখনও দর্শকদের আকর্ষণ করে।

ঢাকার গুলিস্তান থেকে পাটুরিয়া-মানিকগঞ্জগামী বাসে প্রায় দুই ঘণ্টায় কালামপুর পৌঁছানো সম্ভব। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা সাটুরিয়ার বাসে করে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে পৌঁছানো যায়।

এছাড়া গাবতলী-আমিনবাজার থেকে সরাসরি সাটুরিয়ার বাস পাওয়া যায়। সাটুরিয়া থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে মাত্র পাঁচ মিনিটেই বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব। বঙ্গবাজার থেকেও সাটুরিয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

তেওতা জমিদার বাড়ি

শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তীরে সবুজে ঘেরা তেওতা গ্রামে অবস্থিত তেওতা জমিদার বাড়ি দেশের পুরাকীর্তির অন্যতম। এই স্থাপনাটি এখনও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জমিদার বাড়ির আঙিনায় রয়েছে নবরত্ন মঠ, যা জমিদার শ্যামশংকর রায় নির্মাণ করেছিলেন। এক সময় অনেক দূর থেকে এই মঠটি দেখা যেত।

ঢাকা থেকে বাসে আরিচা ঘাটে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তেওতা গ্রামে যাওয়া সম্ভব। চাইলে নদীপথেও সেখানে পৌঁছানো যায়।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

বেতিলা জমিদার বাড়ি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে অবস্থিত বেতিলা জমিদার বাড়ির নির্মাণকাল ও নির্মাণের পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, সত্য বাবু নামে এক বণিক যাতায়াতের সুবিধার জন্য এখানে বাড়িটি নির্মাণ করেন। পরে তার বসতবাড়িই লোকমুখে বেতিলা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিতি পায়। স্থানীয়দের আরেকটি দাবি হলো, কলকাতার বণিক জ্যোতি বাবু ছিলেন এই জমিদার বাড়ির পূর্বপুরুষ।

মত্ত মঠ

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

মানিকগঞ্জ জেলা সদরে নিটোল দিঘির পাড়ে প্রায় আড়াইশ বছর আগে নির্মিত হয়েছে মত্ত মঠ। প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই মঠের উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট।

মঠটি নির্মাণের জন্য ইরাক থেকে কারিগর আনা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের পটল গ্রামের হেমসেন নামে এক অত্যাচারী জমিদার তার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর এখানে মঠটি নির্মাণ করেন।

নাহার গার্ডেন

গ্রামীণ ও নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য সাটুরিয়া উপজেলার কামতা গ্রামের নাহার গার্ডেনে যাওয়া যেতে পারে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।

আরও পড়ুন: পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু

নাহার গার্ডেনে ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় তিন হাজার পাখি রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে নয়টি উট, একটি উটপাখি এবং আটটি ময়ূর। শিশুদের জন্য এখানে একটি বড় শিশু পার্কও রয়েছে।

এছাড়া এখানে রয়েছে ছোট-বড় চারটি পুকুর এবং টাইটানিকের আদলে তৈরি একটি জাহাজ।

নাহার গার্ডেনে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। এখানে সাতটি বনভোজনের স্থানও রয়েছে। লোকসংখ্যা ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে এসব স্থান ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।

আরও পড়ুন: লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে সাধুসঙ্গে নিজেদের ও অজানাকে জানছেন ভক্তরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জীবন যুদ্ধে হার মেনে না ফেরার দেশে চবি শিক্ষার্থী মহুয়া তাসনিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ পি.এম


জীবন যুদ্ধে হার মেনে না ফেরার দেশে চবি শিক্ষার্থী মহুয়া তাসনিম

দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহুয়া তাসনিম ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মহুয়ার মৃত্যুর খবর তার সহপাঠীদের জানিয়েছেন নিহতের বোন।

মহুয়ার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে, তবে তিনি ঢাকার সাভার উপজেলায় বসবাস করতেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার পূর্ব থেকেই মহুয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টায় মহুয়ার জানাজার নামাজ তার নিজ এলাকা রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির পাইককান্দিতে অনুষ্ঠিত হবে।

মহুয়ার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ইসরাফিল হোসেন মানিক বলেন, "মহুয়া অসম্ভব ভালো মেয়ে ছিল। গত আগস্টের ১৪ তারিখে আমাকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছে। সেখানে বলছে, ‘ভাইয়া, সাভার এনাম মেডিক্যালে জরুরি O+ রক্ত লাগবে।' আমি জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য রক্ত লাগবে? তখন বলল, ‘ভাইয়া, আমার জন্যই।’ আমি উত্তর দিলাম আল্লাহ মাফ করুক, কি হইছে আপু?"

তিনি আরও জানান, "এরপর মহুয়া বললো, তার রক্তের প্লাটিলেট অনেক কমে গেছে, তাই প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন। এরপর রক্তের ব্যবস্থা করার জন্য প্রায় ৭–৮ জনকে নেওয়া হলেও কারও সাথেই রক্ত মিল ছিল না। পরে একজনের সাথে রক্তের মিল পাওয়া গেলে সেসময় ওই রাতেই তাকে প্ল্যাটিলেট দেওয়া হয়।"

শিক্ষার্থী ইসরাফিল হোসেন মানিক আরও বলেন, "লিউকেমিয়ার চিকিৎসা চলছিল ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে। কিছুদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে মাত্র একদিনের জন্য বাড়ি ফিরেছিল। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার কথা ছিল তার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বাংলাদেশের জনগণের গড় আয়ু বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গড় আয়ু, সুস্থ গড় আয়ু, মৃত্যুর কারণ এবং রোগের বোঝা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ৭১ বছর ছিল। পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ২ বছর এবং বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৭ বছর।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং কানাডায় ৮১ দশমিক ৪ বছর।

কিন্তু বেশি দিন বাঁচা মানে সুস্বাস্থ্যে বেশি বছর বেঁচে থাকা নয়।

২০২৩ সালে ভারতে সুস্থ গড় আয়ু ছিল ৬০ দশমিক ৬ বছর, যেখানে ২০১৯ সালে এটি ৬০ দশমিক ৫ বছর ছিল। ২০২১ সালে সুস্থ গড় আয়ু কমে ৫৮ দশমিক ৪ বছরে নেমে আসে। পরে ২০২২ সালে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ দশমিক ২ বছরে পৌঁছায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, "জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গড় আয়ু হওয়া একটি বড় অর্জন। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে বেশিদিন বাঁচতে পারে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রিমিয়ার ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, যোগ্যতা জানতে হবে আধুনিক কার্ড ব্যবসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


প্রিমিয়ার ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, যোগ্যতা জানতে হবে আধুনিক কার্ড ব্যবসা

দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পদের নাম: হেড অব কার্ড বিজনেস

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি

অন্যান্য যোগ্যতা: আধুনিক কার্ড ব্যবসা ও কার্যপদ্ধতি এবং কৌশলগত কাঠামো সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১৫ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৫০ বছর

কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে আকর্ষণীয় বেতন

অন্যান্য সুবিধা: গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স সুবিধাসহ ভাতা প্যাকেজ

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধসে পড়ল ৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


ধসে পড়ল ৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে প্রায় ৫৫০ বছর ধরে অবস্থানরত হাওয়াইয়ের বিখ্যাত প্রাকৃতিক খিলান ‘হোলে সি আর্চ’ অবশেষে ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে গঠিত প্রায় ৯০ ফুট উঁচু এই প্রাকৃতিক স্থাপনা সমুদ্রের ঢেউ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষয়ের কারণে ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বরেও খিলানটি অক্ষত ছিল। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি ধসে পড়েছে।

হাওয়াই দ্বীপের হাওয়াই ভলকানোস ন্যাশনাল পার্কের চেইন অব ক্রেটার্স রোডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করতেন। খিলানটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ছিল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলোর প্রভাবে পার্কের বিভিন্ন এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পার্কের বেশিরভাগ অংশ খুলে দেওয়া হয়। তখনই জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিচিত হোলে সি আর্চ আর নেই। তবে এটি ঠিক কখন ধসে পড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রায় ৫৫০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি পাথরের স্তরে প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খিলানটির সৃষ্টি হয়েছিল। নরম ও শক্ত পাথরের অংশ সমানভাবে ক্ষয় না হওয়ায় সমুদ্রের ঢেউ ধীরে ধীরে পাথর কেটে খিলানের আকৃতি তৈরি করে। ভূতত্ত্বের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিফারেনশিয়াল ইরোশন’। বছরের পর বছর ঢেউ, বাতাস এবং আবহাওয়ার প্রভাবে কাঠামোটি দুর্বল হয়ে পড়ে। অবশেষে অবশিষ্ট অংশটুকুও ভেঙে সমুদ্রে পড়ে যায়।

খিলানটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বহু বছর ধরেই ছিল। ২০১৮ সালে কিলাউয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও সংশ্লিষ্ট ভূমিকম্পের ফলে আশপাশের পাথুরে এলাকায় ফাটল সৃষ্টি হয় এবং উপকূলের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে ফাটল ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুরোনো পর্যবেক্ষণ এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই বছরের মার্চ মাসে খিলান থেকে দূরে একটি নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা তৈরি করা হয়।

২০২০ সালের পর ট্রপিক্যাল স্টর্ম ডার্বির সময় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে খিলানটির নিচের অংশ থেকে বড় একটি পাথরের খণ্ড ভেঙে পড়ে। তখনই কাঠামোটির দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসও সতর্ক করেছিল, প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে একদিন খিলানটি ধসে পড়তে পারে। অবশেষে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।

‘হোলে সি আর্চ’ নামটির পেছনে স্থানীয় প্রকৃতির ইতিহাস রয়েছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘হোলে’ স্থানীয় একটি উদ্ভিদের নাম, যার বৈজ্ঞানিক পরিচয় ওক্রোসিয়া। সেই উদ্ভিদের নাম থেকেই খিলানটির নামকরণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সমুদ্রের ঢেউয়ে লাভার পাথর ক্ষয় হয়ে খিলানের মতো আকৃতি তৈরি হওয়ায় এর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘সি আর্চ’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের খিলান দেখতে শক্ত ও স্থায়ী মনে হলেও এগুলো প্রকৃতপক্ষে ক্ষয়শীল ভূপ্রাকৃতিক কাঠামো। সময়ের সঙ্গে খিলান ভেঙে পাথরের স্তূপ বা বিচ্ছিন্ন সমুদ্র-স্তম্ভ তৈরি হতে পারে। একই উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন খিলানও সৃষ্টি হতে পারে।

হোলে সি আর্চ ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জায়গাটির পুরোনো ছবি ও স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে পরিচিত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী ধরে প্রকৃতির নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকা খিলানটির পতন আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়; অবিরাম ক্ষয়ের কাছে একসময় হার মানতে হয় পাথরের তৈরি বিস্ময়কেও।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%